জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গত সপ্তাহে কী কথা হয়েছিল তা প্রকাশ করেছেন। গত শুক্রবার ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে ফ্রাঙ্কফুর্ট অ্যালগেমাইনে জাইটুং পত্রিকার কংগ্রেসে বিশেষ অতিথি হিসেবে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।

ইরান সংকটের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে মের্জ বলেন, ‘জার্মানির সঙ্গে তাঁর অযাচিত আচরণ আমরা মেনে নিতে পারি না।’ তিনি জার্মানির প্রতি ট্রাম্পের আচরণকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন। গত সপ্তাহান্তে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ফোনালাপের কথা উল্লেখ করে চ্যান্সেলর বলেন, এই কথোপকথন মোটেও বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না। সেখানে ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন যে তাঁর ন্যাটোর প্রয়োজন নেই। মের্জ বলেন, ‘তবে আমার মনে হয়, তিনি বুঝেছেন—এটি ন্যাটোর যুদ্ধ নয়।’ সেই আলোচনায় তিনি ট্রাম্পকে বলেছিলেন, ‘আপনি যদি আমাদের সাহায্য চান, তাহলে তা আগে আমাদের জিজ্ঞেস করুন। যুদ্ধ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের মাধ্যমে এই সাহায্য চাওয়া কেমন রীতি।’

মের্জ আরও বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ধরনের আচরণ আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। ভবিষ্যতেও মেনে নেব না।’ ইরানের ওপর হামলা নিয়ে গতকালকের ফ্রাঙ্কফুর্ট কংগ্রেসে তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিদিন আশা করি যে ইরান যুদ্ধ শেষ হবে।’ ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধনীতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ট্রাম্প যা করছেন, তা উত্তেজনা কমানো বা শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা নয়, বরং একটি বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি, যার ফলাফল অনিশ্চিত।’ তিনি যোগ করেন, ‘এই উত্তেজনা শুধু সংশ্লিষ্টদের জন্য নয়, আমাদের সবার জন্য ইতিমধ্যেই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।’ ইরানে সরকার পরিবর্তনের জন্য ট্রাম্পের পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে মের্জ বলেন, ‘এ ধরনের প্রচেষ্টা অধিকাংশ সময় ব্যর্থ হয়েছে।’ তিনি বিশ্বাস করেন না যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ সফল হবে। এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রতিদিন এই সংঘাতে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে।

এর আগে ট্রাম্প জার্মানির বিরুদ্ধে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় সাহায্য না করার অভিযোগ তুলেছিলেন। চ্যান্সেলর জানান, যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালির সামরিক নিরাপত্তায় সহায়তার জন্য তিনি ট্রাম্পকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেই সহযোগিতায় মাইন অপসারণের মতো একটি মিশন কল্পনা করা যেতে পারে।

ফ্রাঙ্কফুর্ট অ্যালগেমাইনে জাইটুং পত্রিকা লিখেছে, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণত বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেল ও তরল গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্ন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এদিকে জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ার ইরান যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।