স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময় তিন বছর পেছাতে জাতিসংঘে যে আবেদন করা হয়েছে, তার পক্ষে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সদস্যদের সমর্থন আশা করে বাংলাদেশ। ডব্লিউটিওর চতুর্দশ মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে (এমসি ১৪) অংশ নিয়ে সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে এ সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হবে।
২৬ মার্চ ক্যামেরুনের রাজধানী ইয়াউন্দেতে শুরু হচ্ছে এমসি ১৪। সেখানে যোগ দিতে আজ মঙ্গলবার ঢাকা ছাড়ার আগে মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে এ কথা জানান বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি এ সম্মেলনে ছয় সদস্যের বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দলটি আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটায় ঢাকা ছাড়ে। ২৯ মার্চ শেষ হবে চার দিনের এ সম্মেলন।
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বাধীন এ দলে রয়েছেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও উইংয়ের প্রধান খাদিজা নাজনীন, একই উইংয়ের যুগ্ম সচিব মোস্তাফিজুর রহমান, উপসচিব শরিফ মোস্তাফিজুর রহমান এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শামসুল আরেফিন। আগামী ১ এপ্রিল তাঁরা দেশে ফিরবেন। বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে এটি খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের প্রথম বিদেশ সফর।
মন্ত্রী পর্যায়ের এ সম্মেলন বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম, যেখানে সদস্যদেশগুলো বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে থেকে।
যোগাযোগ করলে আজ ঢাকা ছাড়ার আগে মুক্তকণ্ঠের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান।
বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণ আমরা তিন বছর পেছাতে চাই। এ জন্য পাশে চাই ডব্লিউটিওর সদস্যদের। সম্মেলনে দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে আমরা তাঁদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে সমর্থন চাইব।’
অর্থনীতির আকার বা প্রভাবশালী দেশ হিসেবে ডব্লিউটিওতে কেউ বেশি প্রভাব বিস্তার করবে, এমন বিষয়ের বিপক্ষে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সর্বসম্মতির বদলে কোনো কোনো দেশ অল্প সদস্য বা গ্রিন রুমে অনুষ্ঠিত বৈঠকের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে চায়। তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ এমনটা আশা করে না।
এলডিসি উত্তরণ পেছাতে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) অধীন কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পোর কাছে গত ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকার চিঠি পাঠিয়েছে। এতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে এলডিসি উত্তরণ-প্রস্তুতির সময়কাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর হওয়ার কথা।
সম্মেলনে ডব্লিউটিওর ১৬৬টি সদস্যদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এতে বহুপক্ষীয় বাণিজ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, বিশ্ববাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ডব্লিউটিওর ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হবে। ক্যামেরুনের বাণিজ্যমন্ত্রী লুক ম্যাগলোয়ার এমবার্গা আটাঙ্গানা এবারের সম্মেলনে চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
জানা গেছে, এলডিসি হিসেবে বাণিজ্য–সুবিধা পাওয়া, উন্নত দেশে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার লাভ এবং বাণিজ্য–সক্ষমতা বৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্মেলনে তুলে ধরা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশন ও পার্শ্ব বৈঠকে অংশ নেবেন এবং বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য, হংকংসহ বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের পার্শ্ব বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হবে।
বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ডব্লিউটিওর সংস্কার ও ই–কমার্স ইত্যাদি নিয়ে বাংলাদেশ আলোচনা করবে। আর সম্মেলন থেকে বাংলাদেশ কী পেল, তা নিয়ে শেষ দিন ২৯ মার্চ সরকারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হবে।






