ইতিহাসের পাতায় ৬ রমজান দিনটি ‘মহাসাড়া’র দিন হিসেবে চিহ্নিত। এই দিনে মজলুম নারীদের আহ্বানে খলিফা মুতাসিম বিল্লাহর বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যে অভিযান চালান, একই দিনে এক কিশোর সেনাপতির হাতে উন্মোচিত হয়েছিল ভারতীয় উপমহাদেশের প্রবেশদ্বার।
.৯২ হিজরির ৬ রমজান (৭১১ খ্রিষ্টাব্দ)। বিশ্ব এক বিস্ময়কর সামরিক প্রতিভার সাক্ষী হলো, যার বয়স ছিল মাত্র সতেরো বছর। তিনি মুহাম্মদ ইবনে কাসিম আল-সাকাফি। তাঁর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী সিন্ধু নদ পার হয়ে রাজা দাহিরকে পরাজিত করে।
এই বিজয় সিন্ধু অঞ্চলে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছে এবং সেখানে ধর্মীয় সহনশীলতার নজির স্থাপন করেছে।
কিন্তু মুহাম্মদ ইবনে কাসিমের শেষ পরিণতি সুখকর হয় নি। দামেস্কে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলে নতুন খলিফা সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক তাঁকে বন্দি করে ইরাকে পাঠান এবং ৯৬ হিজরিতে তাকে কারাগারেই হত্যা করা হয়। তখন মুহাম্মদ ইবনে কাসিমের বয়স ২৪ বছর।
.আন্দালুস বিজয় ও মসজিদে নববিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা.২২৩ হিজরির (৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দ) ৬ রমজান আব্বাসীয় সামরিক অভিযান পরিচালিত হয় বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থল ‘আম্মুরিয়া’ অভিমুখে। এই অভিযানের পেছনের ঘটনাটি হলো—
বাইজেন্টাইন সম্রাট থিওফিলাস মুসলিম শহর ‘জাবাতরা’ আক্রমণ করে নারীদের বন্দি ও অবমাননা করার কথা শুনে খলিফা মুতাসিম বিল্লাহ ক্ষুব্ধ হন এবং যুদ্ধের ঘোষণা দেন।
.৫৩৯ হিজরির ৬ রমজান মুসলিম সেনাপতি ইমাদউদ্দিন জেনকি ক্রুসেডারদের প্রতিষ্ঠিত প্রথম রাজ্য ‘রুহা’ (Edessa) দখল করেন। এই জয় পরবর্তীকালে নুরুদ্দিন জেনকি ও সালাহউদ্দিন আইয়ুবির হাতে বাইতুল মুকাদ্দাস পুনরুদ্ধারের পথ প্রশস্ত করে।
.রমজানে আলোকসজ্জার সূচনা, ফিলিস্তিনে ‘নাকবা’র ক্ষত.৪০৪ হিজরির (১০০৪ খ্রিষ্টাব্দ) ৬ রমজান মুসলিম বিজ্ঞানী ইবনে হাইসাম মিসর পৌঁছান। তিনি দাবি করেন, নীল নদের পানি নিয়ন্ত্রণ করে তিনি মিসরের কৃষি ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবেন। ফাতেমি খলিফা আল-হাকিম বি-আমরিল্লাহ তাঁকে এই কাজের দায়িত্ব দেন।
কিন্তু সরেজমিনে তদন্ত করে তিনি বুঝতে পারেন যে তৎকালীন প্রযুক্তি দিয়ে নীল নদের বিশাল প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। খলিফার ক্রোধ থেকে বাঁচতে তিনি ‘পাগলামির’ ভান করেন এবং দীর্ঘকাল গৃহবন্দি অবস্থায় কাটান।
এই নিভৃতবাসই তাঁকে আধুনিক আলোকবিজ্ঞানের (অপটিক্স) কালজয়ী গ্রন্থগুলো লেখার সুযোগ করে দেয়।
.১৩১২ হিজরির (১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দ) ৬ রমজান মিশরের খলিফা ইসমাইল ইস্তাম্বুলের নির্বাসনে থাকাকালে মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন মিসরকে এক খণ্ড ইউরোপ বানানোর। কিন্তু বিশাল বৈদেশিক ঋণের জালে জড়িয়ে তাঁর শাসনামল সংকটে পড়ে, যা শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশদের মিসরে আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ করে দেয়।
.ইসলামের প্রথম পতাকা, ওসমানীয়দের ইউরোপ অভিযান





