যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে যথাযথ মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মহান একুশের প্রথম প্রহরে কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে অবস্থিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন কনসাল জেনারেল কাজী জাবেদ ইকবাল। পরে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দিবসটির প্রতি সম্মান জানিয়ে সকাল থেকেই কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বিকেলে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সভার শুরুতে ভাষাশহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে এই আলোচনা সভায় কনসাল জেনারেল কাজী জাবেদ ইকবাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার অধিকার রক্ষার সংগ্রাম নয়; এটি গণতন্ত্র, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও মানবিক মর্যাদার এক অনন্য ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত। এ সময় ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে মনেপ্রাণে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

কনসাল জেনারেল আরও বলেন, ভাষার মর্যাদা রক্ষা মানে শুধু অতীতকে স্মরণ করা নয়; বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক সহনশীলতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করা। ভাষা আন্দোলনের আদর্শ ধারণ করেই একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রতিপাদ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে ভাষার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নত বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সব স্বাধিকার আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। পাশাপাশি একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ইউনেসকোর স্বীকৃতি এবং বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য, মাতৃভাষার মর্যাদা ও বহুভাষিক সংস্কৃতি রক্ষার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী (শিপলু), সাধারণ সম্পাদক এম ওয়াহিদ রহমান, সাবেক সভাপতি আবদুল বাসেত, সহসভাপতি আফজাল হোসাইন সিকদার, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়ার সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল মুনিমসহ প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।