প্রতিশ্রুতি নয়, প্রস্তাবনা: এনসিপির ইশতেহার নিয়ে বিভ্রান্তি ও বাস্তবতা
মুক্তকণ্ঠতে প্রকাশিত সাম্প্রতিক কলামে মাহতাব উদ্দীন আহমেদ এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে যে প্রশ্ন ও সমালোচনা উত্থাপন করেছেন, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার মতো।
মতামত ও বিশ্লেষণ
মুক্তকণ্ঠতে প্রকাশিত সাম্প্রতিক কলামে মাহতাব উদ্দীন আহমেদ এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে যে প্রশ্ন ও সমালোচনা উত্থাপন করেছেন, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার মতো।
মুক্তকণ্ঠতে প্রকাশিত ‘গণভোটের প্রচার: নির্বাচন কমিশনের মস্ত বড় ভুল নির্দেশনা’ শীর্ষক কলামে ড. বদিউল আলম মজুমদার সম্প্রতি দাবি করেন, নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রেরিত ২৯ জানুয়ারির নির্দেশনাটি ‘সংশ্লিষ্ট আইনের ভুল পাঠের ভিত্তিতে জারি করা হয়েছে’।
নারীকে নানাভাবে আরও অধস্তনতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, সেখানে এমন একটি উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়নকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তখন আমাদের অজান্তেই মনে হয়—চাঁদাবাজি ঘটছে কেবল কিছু ‘খারাপ মানুষ’ ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছে বলে। আর সেই ‘খারাপ মানুষের জায়গায়’ কিছু ‘ভালো মানুষ’ বসিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসীরা তাঁদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলের ধরন হলো ‘ক্যাচ অল’, অর্থাৎ দলগুলোর চেষ্টা থাকে সমাজের সব শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করার। এদের আদর্শিক অবস্থান ছিল মূলত মধ্য ডানপন্থী, শুধু জামায়াতে ইসলামী ছিল ডানপন্থী।
একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের শত্রুপক্ষও যে কথা স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই স্বীকার করে, সে কথা দেশের অনেক জ্ঞানী–গুণীও স্বীকার করতে লজ্জা পান।
যখন বড় বড় পত্রিকা কর্মী ছাঁটাই করে, বাজেট কমায় (যেমন ওয়াশিংটন পোস্ট-এর ৩০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে) তখন তাদের এই কাজ করার ক্ষমতাই ভেঙে পড়ে।
এখন প্রশ্ন হলো, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ‘আইনের শাসন’ কি এই রাঘববোয়ালদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে? নাকি দল পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে লুটেরারাও ভোল পাল্টে নতুন সরকারের ‘আশ্রয়’ নেবে?
দৈনিক মুক্তকণ্ঠের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজার ১৫৪ জন পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে একটি নামমাত্র সংস্থাই ১০ হাজার পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছিল, যা পরে স্থগিত করা হয়। এ ঘটনা ব্যতিক্রম নয়, বরং পুরো নির্বাচন পর্যবেক্ষণব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে।
মনে রাখা দরকার, প্রত্যন্ত একটি গ্রামের স্থানীয় ভোটাররা যে কথায় সহজেই বিশ্বাস রাখবেন, শহরের উচ্চশিক্ষিত একজন নাগরিক হয়তো আস্থা রাখবেন তাঁর জীবনের মান উন্নয়নসংক্রান্ত কোনো প্রতিশ্রুতিতে।
নির্বাচন কমিশন এবং সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবশ্যই নির্বাচনকেন্দ্রিক যেকোনো সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে হবে।