পাবনা জেনারেল হাসপাতালে হামে আক্রান্ত আরও ৮ নতুন রোগী ভর্তি
পাবনা জেনারেল হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে। সোমবার বেলা একটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসাধীন ২৭ জন রোগী রয়েছেন।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে। সোমবার বেলা একটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসাধীন ২৭ জন রোগী রয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে ২ শিশু ভর্তি হয়েছে। গত তিন মাসে ২০ শিশু এই রোগের সন্দেহে হাসপাতালে আসে, যাদের মধ্যে ৪ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত। এক শিশুর মৃত্যুসহ টিকাদানের ঘাটতি সংক্রমণ বাড়ার কারণ হয়েছে।
চট্টগ্রামে গত এক সপ্তাহে দুই শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে ২৮ শিশু চিকিৎসাধীন এবং জেলায় ৪০ জনের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসে দেশে হামে ৪১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত আরও দুই শিশু ভর্তি হয়েছে। এখন চার শিশু আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন। রংপুর বিভাগে গত তিন মাসে ছয় শিশুতে হাম ও চারজনে রুবেলা ভাইরাস ধরা পড়েছে।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। টিকাদানে ঘাটতি, ঘনবসতি এবং অপুষ্টি এর প্রধান কারণ। হাসপাতালে শিশুদের ভিড় বাড়ছে।
হামে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে ছয় শিশু ভর্তি। গত ২৪ ঘণ্টায় এ ভর্তি, মোট ৬৮ শিশু চিকিৎসাধীন। জেলার সব উপজেলায় হাম কমিটি গঠিত হয়েছে।
ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত চার শিশুর মধ্যে তিনজন আইসিইউ না পেয়ে মারা গেছে, একমাত্র জান্নাতুল মাওয়া মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুদের আইসিইউ বেডের তীব্র ঘাটতির কারণে অপেক্ষায় অনেক শিশু প্রাণ হারাচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা হতাশায় আছেন।
বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী বলছেন, টিকাদানের হার কম হওয়ায় এমনটা হচ্ছে এবং এখনই সাপ্লিমেন্টারি ভ্যাকসিনেশন চালু না করলে ব্যাপক আউটব্রেকের আশঙ্কা। বড়রাও টিকা নিতে পারেন, তবে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে।
চলতি মাসেই হামে সারা দেশে ৪১ শিশুর মৃত্যু। গাফিলতির কারণে সফল টিকাদান কর্মসূচি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
সম্প্রতি শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই রিপোর্টে জানুন হাম কী, কেন ও কীভাবে ছড়ায় এবং শিশুর হাম হলে কী করবেন। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসরণ করে সঠিক চিকিৎসা নিন।
তিন মাস থেকে হামের প্রকোপ দেখা দিলেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল শনিবার রাতে থেকে আইসোলেশন ওয়ার্ড, তথা হাম ওয়ার্ডে রোগী পাঠানো শুরু হয়েছে।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালে হাম রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজন নতুন রোগী ভর্তি, চিকিৎসাধীন ২৫ জন। হাসপাতালে আলাদা ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ খোলা হয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও একই ব্যবস্থা।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে ১২ শিশু ভর্তি। অধিকাংশ কক্সবাজারের এবং তাদের বয়স ১৫ মাসের কম। শিশু ওয়ার্ডে আলাদা কর্নারে চিকিৎসা চলছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত দুই শিশুকে আইসোলেশন কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দেশের সাত জেলায় রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, চলতি মাসে ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে টিকাদানে ঘাটতির কারণে। অসম্পূর্ণ ডোজের ফলে বড় জনগোষ্ঠী ঝুঁকিতে রয়েছে। সময়মতো টিকা নিয়ে এই প্রাণঘাতী রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল ও রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরা মারা যান। এ নিয়ে গত ১২ দিনে পাঁচ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে, চিকিৎসাধীন ৬৬ জন রয়েছে।
সরকার বলছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, পাবনা, চট্টগ্রাম, যশোর ও নাটোরে হামের রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভেন্টিলেটরের অভাবে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতালের পরিচালকের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো উচিত। চিকিৎসকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি স্বাস্থ্য খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করতে চান।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত চার শিশুর মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। চলতি মাসে এই হাসপাতালে ১২ শিশুর প্রাণ গেছে এই রোগে। রাজশাহী বিভাগে সংক্রমণের হার প্রায় ২৯ শতাংশ, বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনায় পরিস্থিতি চিন্তাজনক।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ১১ দিনে ১০৫ জন হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি, তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আশপাশের জেলা থেকে রোগী আসছে, শয্যাচ্যুতি সত্ত্বেও চিকিৎসা চলছে। টিকাদানে সমস্যা এর কারণ বলে চিকিৎসকরা মনে করছেন।