ইরান যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ধাক্কার মধ্যে মুনাফা করল কারা
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে শুরু করেছে।
চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ বহাল থাকার ঘোষণা ট্রাম্পের।
লেবাননে যখন ইসরায়েলের বোমা ঝরছিল, তখনই বিশ্বের অনেক দেশ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিল একটি খবরে।
ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরোধের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি যুদ্ধ থেকে অর্থনৈতিক যুদ্ধের পথে হেঁটেছেন। এই কৌশল মূলত নতুন করে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলা করা ছাড়াই সংঘাত শেষ করার চেষ্টা।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি অবরোধ করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো এখন ইরানের ‘আঘাত সামরিক হামলার আওতার মধ্যে’ রয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনায় প্রায় ৮০ শতাংশ অগ্রগতি অর্জন করেছিল।
এর আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাধীন ট্যাংকার ‘রিচ স্টারি’ অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছিল।
ইরানের বন্দরগুলোয় ভেড়ার অপেক্ষায় থাকা জাহাজের ওপর মার্কিন অবরোধের প্রথম পূর্ণ দিন গতকাল মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির যাতায়াতে খুব একটা পরিবর্তন লক্ষ করা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন।
গত এক বছরের বেশি সময় ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে ইউরোপকে পাশ কাটিয়ে চলছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের তোয়াক্কা না করে হরমুজ প্রণালি পার হলো চীনের জাহাজ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ তেহরানের ওপর নির্ভরশীল। ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখলে আলোচনা এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে। না হলে আলোচনার ধরন বদলাতে পারে।
হরমুজ প্রণালীতে সোমবার মার্কিন সামরিক অবরোধ শুরু হয়েছে। ১৫টির বেশি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানি জাহাজের আক্রমণের হুমকি দিয়েছেন। ইরানও কঠোর জবাবি হুঁশিয়ারি জানিয়েছে।
ইরানি বন্দরগুলোয় সব ধরনের সামুদ্রিক যাতায়াতের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী।
হরমুজ প্রণালি অবরোধের হুমকিতে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম তীব্র ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড ৭% বেড়ে ১০২.১৬ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ৮.৫% উঠে ১০৪.৮২ ডলারে পৌঁছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে জ্বালানিসংকটের আশঙ্কা বাড়ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ইরানের রাষ্ট্রদূতকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশমুখী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন। ইরান ইতিমধ্যে ছয়টি বাংলাদেশমুখী জাহাজের অনুমোদন দিয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে বলে সেন্টকম দাবি করলেও ইরান তা নাকচ করেছে। খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রের মুখপাত্র জানান, প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে এবং কোনো সামরিক জাহাজের প্রবেশে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। বিশ্বের তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই পথ নিয়ে উত্তেজনা চলছে।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর থাকায় হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম সীমিত রয়েছে। সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় তেল-গ্যাস ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে—বিশেষ করে এলএনজি ও অন্যান্য খাতে ভারসাম্য ফিরতে। বড় শক্তি এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সমন্বয় ছাড়া পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর টোল বসানোর পরিকল্পনা করেছে ইরান। তবে তাতে আপত্তি যুক্তরাষ্ট্রের।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করলেও অনুমতি পায়নি বিএসসির জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের বাহিনী অনুমতি অস্বীকার করায় জাহাজটি আবার নোঙর ফেলেছে। জাহাজে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্থির, দেশে আমদানি খরচ বেড়ে লোকসান হচ্ছে হাজার কোটি টাকা। যুদ্ধবিরতিতে দাম কমলেও অনিশ্চয়তায় আবার বেড়েছে। সুফল পেতে সময় লাগবে বলছেন খাতের সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর্দার আড়ালে ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ওপর চাপ দিয়েছিল। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে জানা গেছে, জ্বালানি দাম বাড়া এবং ইরানের প্রতিরোধ ট্রাম্পকে উদ্বিগ্ন করেছিল। পাকিস্তান মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চলছে যদিও বাধা রয়ে গেছে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হাতে রেখে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে কৌশলগত সুবিধা ধরে রেখেছে। বিশ্ব তেল বাজারে উদ্বেগ কমলেও অনিশ্চয়তা অব্যাহত। ইরান এখন জাহাজ থেকে মাশুল আদায়ের পরিকল্পনা করছে।