নবীজি (সা.) কীভাবে কম সময়ে এত বেশি কাজ করেছেন
মহানবী (সা.) নিজে মাত্র ২৩ বছরে একটা গোটা জাতির চিন্তা, সংস্কৃতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা বদলে দিয়েছেন। অথচ তাঁর দিনও ছিল ২৪ ঘণ্টার। কীভাবে করেছেন এত কিছু?
মহানবী (সা.) নিজে মাত্র ২৩ বছরে একটা গোটা জাতির চিন্তা, সংস্কৃতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা বদলে দিয়েছেন। অথচ তাঁর দিনও ছিল ২৪ ঘণ্টার। কীভাবে করেছেন এত কিছু?
মুহাম্মদ (সা.) নিজের প্রাত্যহিক আচরণে এমন এক ভারসাম্যপূর্ণ ও বিজ্ঞানসম্মত জীবনপদ্ধতি বাস্তবায়ন করে গেছেন, যা মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গের সুস্থতা নিশ্চিত করে।
প্রথম ও প্রধানতম শর্ত হলো তার ঐতিহাসিক সত্যতা। যিনি অনুকরণীয় হবেন, তাঁর জীবনের প্রতিটি ঘটনা, বাণী, দৃষ্টিভঙ্গি এবং কর্মপদ্ধতি নিরেট সত্য হতে হবে
নিজের দিক থেকে শতভাগ নিষ্পাপ থাকার পাশাপাশি অন্যের চোখেও যেন কোনো বিভ্রান্তি না জন্মে—সেই সামাজিক দূরদর্শিতা নিশ্চিত করাই হলো নবীজির জীবনাদর্শ।
মক্কা থেকে উত্তরমুখী প্রাচীন বাণিজ্যপথ ধরে মদিনা, খাইবার, ওয়াদিউল কুরা, তাইমা ও তাবুক হয়ে কাফেলাটি রোমান সাম্রাজ্যের সীমান্ত নগরী বুসরা আল-শামে পৌঁছায়।
এক বৃদ্ধ নারী এসে বললেন, ‘আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাকে বেহেশতবাসী করেন।’ নবীজি (সা.) মৃদু হেসে বললেন, ‘কোনো বৃদ্ধা তো বেহেশতে যাবে না।’
অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণ করা ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ–তাআলা রোগ দেন, রোগের প্রতিষেধকও নাজিল করেন। প্রতিটি রোগের চিকিৎসা রয়েছে।’
মদিনা থেকে ইয়েমেনের পথে বিদায় জানানোর সময় নবীজি এমন কিছু কথা বলেছিলেন, যেন এ-ই তাঁদের শেষ দেখা। হয়তো ফিরে এসে আর তাঁকে দেখতে পাবেন না।
প্রাচীন কোরাইশ সমাজে কায়িক শ্রম নিয়ে একধরনের অভিজাত অবজ্ঞা ছিল, একে দুর্বলদের কাজ মনে করত। কিন্তু পরিবারের আর্থিক টানাপোড়েনে তিনি জীবিকার পথ বেছে নেন।
হাদিস ও শামায়েল শাস্ত্রের গ্রন্থগুলোতে তাঁর জুতার উপাদান, চামড়ার বৈশিষ্ট্য, আকৃতি, ফিতা বাঁধার ধরন এবং সাহাবিদের তা সংরক্ষণের হৃদয়স্পর্শী বিবরণ সংরক্ষিত রয়েছে।
বণিকের আবেদন কাবা প্রাঙ্গণের নেতাদের গভীরভাবে নাড়া দেয়। সবার আগে সাড়া দেন নবীজির চাচা জোবাইর। তিনি ঘোষণা দেন, এই অবিচার অমীমাংসিত রাখা চলবে না।
সিরাতের বিভিন্ন বর্ণনায় ছড়িয়ে থাকা বয়সের এই আপাত-বিরোধ তাই কোনো অসংগতি নয়; বরং এটি একটানা চার-পাঁচ বছর ধরে চলা এক দীর্ঘ সংঘাতের বিভিন্ন পর্বের স্বাভাবিক প্রতিফলন।
অসুস্থ বালকটি ভিন্ন ধর্মীয় পরিচয়ের হওয়া সত্ত্বেও নবীজি (সা.) তার অসুস্থতার খবর পেয়ে শুশ্রূষায় উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রমাণিত হয় জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক দায়িত্ব।
কৈশোরের শুরুতে চাচা আবু তালিবের সঙ্গী হয়ে নবীজীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ঘটে এমনই এক শাম সফরে। এখানেই ঘটে সিরাতের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
রাসুলের প্রতি ভালোবাসা নিছক ভাবাবেগের বিষয় নয়; বরং তাঁর সুন্নতের পরিপূর্ণ অনুবর্তন, জীবনাচরণের প্রতিফলন এবং তাঁর নির্দেশিত পথে নিজেকে সঁপে দেওয়াই হলো প্রকৃত ভালোবাসার প্রমাণ।
উম্মতের জন্য তাঁর হৃদয়ে মমতা, ব্যাকুলতা ও গভীর দরদ ছিল। সামান্য কষ্টে তিনি ব্যথিত হতেন, উম্মত যাতে দোজখের আগুন থেকে রক্ষা পায়, সে জন্য তিনি ব্যাকুল থাকতেন।
আবওয়ায় পৌঁছানোর পরপরই মা আমেনা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। নির্জন উপত্যকায় তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
যে সময় তিনি পৃথিবীতে প্রথম কদমটি রেখেছিলেন, সেটি ছিল রবিউল আউয়াল মাস এবং চল্লিশ বছর বয়সে এই মাসেই তাঁকে সোপর্দ করা হয়েছিল জগৎশুদ্ধির কাজ।
মুহাম্মদ (সা.) ও আহমদসহ নবীজির নাম ও গুণবাচক উপাধির কোরআন-হাদিসে উল্লেখ এবং ভাষাতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে।
ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো, নবীদের মধ্যে ব্যক্তিগত পছন্দের বশে তুলনা না করা। তবে এর অর্থ এই নয় যে নবীজির বিশেষ মর্যাদাগুলো অস্বীকার করতে হবে।
চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত যখন নিলেন, তাঁকে জানানো হলো, সমকালীন রাজন্যবর্গ সিলমোহর ছাড়া চিঠি গ্রহণ করেন না। ফলে তিনি রুপা দিয়ে একটি আংটি তৈরি করান।
কোথায় সেই গৃহ? কোথায় শৈশবের সেই খেলার মাঠ? সেখানকার লোকেরা কেন ও কীভাবে মক্কায় এসেছিল? মক্কা থেকে সেখানে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
মুহাম্মদ (সা.) জন্মেছিলেন এতিম হয়ে। এটি পৃথিবীর সমস্ত এতিমের জন্য অনেক বড় সম্মানের এবং সান্ত্বনার বিষয়। তিনি মায়ের গর্ভে থাকাকালীনই পিতাকে হারান।
হিজরতের পর মদিনায় ‘রাষ্ট্রপ্রধান’ হওয়ার পরও তাঁর জীবনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাঁর শয্যা ছিল খেজুর পাতার তৈরি, যা শরীরে দাগ ফেলে দিত।