ইসলামের প্রথম আদর্শ পরিবার
নবুয়তপ্রাপ্তির আগে নবীজির পবিত্র চরিত্র, সততা ও জাহেলি যুগের মূর্তিপূজাসহ যাবতীয় পাপাচার থেকে দূরে থাকার গুণাবলি তাঁর সন্তানদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
নবুয়তপ্রাপ্তির আগে নবীজির পবিত্র চরিত্র, সততা ও জাহেলি যুগের মূর্তিপূজাসহ যাবতীয় পাপাচার থেকে দূরে থাকার গুণাবলি তাঁর সন্তানদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
একদিন রাস্তায়, সূর্যের তাপে পাথরগুলো গরম হয়ে উঠেছে। তিনি সেজদায়। ঠিক তখনই শত্রুরা তার ওপর ফেলে দিল উটের পচা নাড়িভুঁড়ি। পৃথিবীটা যেন একটু থেমে গেল।
নবীজির ইন্তেকালের পর মদিনাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। সাহাবিরা ধীরে ধীরে সেই শোক কাটিয়ে উঠলেও ইয়াফুরের শোক বুঝি কাটছিল না।
এরপর সে অন্য একজনকে বিয়ে করলেও আগের স্বামীর ভালোবাসা ও মর্যাদার সঙ্গে তার তুলনা করতে পারে না।
মহানবী (সা.) অধীনস্থ শ্রমিক, খাদেম ও কর্মচারীদের প্রতি দয়া, সম্মান ও ন্যায়বিচারের আচরণ করতেন। সাহাবি আনাস (রা.)-এর বর্ণনায় তাঁর সেবার অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন হাদিসে অধীনদের অধিকার ও দায়িত্বের কথা উল্লেখ আছে। এ শিক্ষা ইমানের অংশ।
নবীজি (সা.) ঘুমের একান্ত প্রয়োজন হলে মাটি বা চাটাইয়ে সাধারণভাবে বিশ্রাম নিতেন। তাঁর সুন্নতসম্মত ঘুমের পদ্ধতিতে অজু, তেলাওয়াত, দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমে ইবাদতের ছোঁয়া ছিল। এই অভ্যাস শারীরিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতার জন্য আদর্শ।
হজরত আয়েশা (রা.)-এর নবীজির প্রতি ভালোবাসা ছিল ঈমান, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিকতার অপূর্ব সমন্বয়। তিনি নবীজির অন্তরের অনুভূতি অনুধাবন করতেন এবং একটি রাতের ঘটনায় তাঁর ইবাদতের দৃশ্য দেখে গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছিলেন। এই সম্পর্ক আমাদের শেখায় সত্যিকারের ভালোবাসার আদর্শ রূপ।
নবীজি (সা.)-এর কবর থেকে শেষ বেরোনো সাহাবি মুগিরা ইবনে শুবা (রা.) ছিলেন অসাধারণ বিচক্ষণ ও কৌশলী। তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা ও অবদান নিয়ে এই প্রতিবেদন। বাহরাইনের ঘটনা ও কুফার গভর্নরত্বে তাঁর ভূমিকা বিস্ময়কর।
হজরত আয়েশা (রা.) নিজ হাতে ঘরের কাজ করতেন এবং নবীজির যত্ন নিতেন অত্যন্ত নিবেদনের সাথে। তাঁর অতিথিপরায়ণতা ও দায়িত্ববোধ বর্তমান সমাজের জন্য অনুকরণীয়। হাদিসের উল্লেখসহ তাঁর জীবনের এই দিকগুলো বর্ণিত হয়েছে।
হিজরি নবম বছরে তায়েফের সাকিফ গোত্রের প্রতিনিধিদল মদিনায় এসে ইসলাম গ্রহণ করে। নবীজি (সা.)-এর প্রজ্ঞাময় আতিথেয়তা, ধৈর্যশীল আলোচনা ও নমনীয়তার মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটে। এটি দাওয়াতের সঠিক পদ্ধতির শিক্ষা দেয়।
ওহি নাজিলের সময় নবীজি (সা.) কঠোর পরীক্ষার মুখোমুখি হতেন, শীতকালেও তাঁর কপালে ঘাম জমত। ২৩ বছর ধরে ক্রমান্বয়ে অবতীর্ণ কুরআনের এই রহস্য ও তাৎপর্য বোঝায় নবীর উম্মিতা এবং মুজাজার কথা।
বিলাসিতা নয়, বরং যা পাওয়া যেত তা দিয়েই তিনি তৃপ্ত হতেন। তাঁর প্রিয় খাবারগুলোর মধ্যে এমন কিছু খাদ্য ছিল, যা আজও পুষ্টিবিজ্ঞানে অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে স্বীকৃত।
মুসলিম সৈন্যরা যখন মদিনায় পরিখা খনন করছিলেন, তখন তাঁদের তাবুগুলো ছিল এই এলাকায়। তবে স্থানটি ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছে এক অলৌকিক মেজবানির জন্য।
স্বাধীনতা ধরে রাখার জন্য তিনি অত্যন্ত নিপুণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। কেবল আক্রান্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকতেন না, বরং শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়মিত দল পাঠাতেন।
উম্মে সালামার বিশেষত্ব এখানেই। তিনি তাঁর প্রতিজন দাসী-বাঁদিকে কোরআন-সুন্নাহর দীক্ষায়ও দীক্ষিত করে তোলেন পূর্ণরূপে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতোই তাদের শিক্ষা আঞ্জাম দিতে থাকেন।
এই ভালোবাসা কখনো প্রকাশ পেয়েছে মমতাময় আচরণে, কখনো স্নেহমাখা কথায়, আবার কখনো তাঁর প্রতি বিশেষ যত্ন ও গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে।
হিজরির দ্বিতীয় বছরে রমজানের রোজা ফরজ করা হয়। সেই বছর ১৭ রমজান বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) রমজানের শেষ দশকে নিয়মিত ইতিকাফ করতেন।
কখনো কখনো মসজিদে থাকা অবস্থায় নবীজি হজরত আয়েশার কক্ষের দিকে মাথা বাড়িয়ে দিতেন। আয়েশা (রা.) তখন তাঁর চুলের পরিচর্যা করে দিতেন।
রণক্ষেত্রের উঁচু টিলার ওপর নবীজির জন্য একটি শামিয়ানা স্থাপন করা হয়েছিল, যেখান থেকে পুরো মাঠ দেখা যেত। এর ভেতরে আবু বকর (রা.) রাসুলের সঙ্গে ছিলেন।
বইটি প্রকাশের পর থেকে ইংরেজিভাষী মুসলিম–মুসলিম পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। বইটি দেখলে জীবনীগ্রন্থ মনে হয় না, বরং যেন একটি সুপরিকল্পিত ‘স্টাডি গাইড’।
রমজানে দান-সদকা অন্যের রোজা, নামাজ ও জিকিরের সহায়ক হয়ে ওঠে; ফলে সাহায্যকারী ব্যক্তি পরোক্ষভাবে ঐ সব ইবাদতের অংশীদার হয়ে যায়।
আবু তালিবের মৃত্যুর কিছুকাল পরে এই দিনে খাদিজা (রা.)-এর বিদায় নবীজির জীবনে বিশাল শূন্যতা তৈরি করে, যা ইতিহাসে শোকের বছর হিসেবে পরিচিত।
রমজানের আগ থেকে নবীজি রমজানের প্রস্তুতি নিতেন। রমজান শুরু হলে নিজেকে পুরোপুরি ইবাদতে মশগুল করে রাখতেন। শেষ দশকে নিজের পরিবারকে ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন।
মুসলমানদের কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ অমান্য করলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও শাসকদের অপসারণের হুমকি দেওয়া হয় এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টির ভয় প্রদর্শন করা হয়।