‘কিন্তু আমি যে জুলাইবিবকে খুঁজছি’
ইসলামে মানুষের মর্যাদা তাকওয়া দ্বারা বিচার হয়, বংশ বা রূপ নয়। সাহাবি জুলাইবিব (রা.)-এর ঘটনা এর উজ্জ্বল উদাহরণ। কোরআন ও হাদিস থেকে সাম্যের শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
ইসলামে মানুষের মর্যাদা তাকওয়া দ্বারা বিচার হয়, বংশ বা রূপ নয়। সাহাবি জুলাইবিব (রা.)-এর ঘটনা এর উজ্জ্বল উদাহরণ। কোরআন ও হাদিস থেকে সাম্যের শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
হজরত আয়েশা (রা.) নিজ হাতে ঘরের কাজ করতেন এবং নবীজির যত্ন নিতেন অত্যন্ত নিবেদনের সাথে। তাঁর অতিথিপরায়ণতা ও দায়িত্ববোধ বর্তমান সমাজের জন্য অনুকরণীয়। হাদিসের উল্লেখসহ তাঁর জীবনের এই দিকগুলো বর্ণিত হয়েছে।
হজরত ওমর (রা.)-এর বর্ণনায় নবীজি (সা.)-এর মজলিসে মানুষের রূপে জিবরাইল (আ.)-এর আগমন ঘটে। তিনি ইসলাম, ইমান, ইহসান এবং কিয়ামতের লক্ষণ সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। এই হাদিস দ্বীনের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা প্রকাশ করে।
উম্মে সালামা (রা.) কেবল ধর্মীয় বিধানের সমাধানই দিতেন না, সাহাবিরা কোরআনের সঠিক তেলাওয়াতও তাঁর কাছ থেকে শিখতেন। বিভিন্ন মতবিরোধ মীমাংসায় তাঁর প্রজ্ঞাময় ফতোয়া সাহাবিদের নির্ভরযোগ্য পথনির্দেশক ছিল। হাদিসগুলোতে তাঁর ফকিহা ও শিক্ষকতার চমৎকার দৃষ্টান্ত সংরক্ষিত রয়েছে।
মুসলিম সৈন্যরা যখন মদিনায় পরিখা খনন করছিলেন, তখন তাঁদের তাবুগুলো ছিল এই এলাকায়। তবে স্থানটি ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছে এক অলৌকিক মেজবানির জন্য।
যুদ্ধের ময়দানে পারসিকরা রাস্তায় লোহার কাঁটা বিছিয়ে দিয়েছিল। সেনাপতি নুমান (রা.) সুকৌশলে সৈন্যদের পিছিয়ে যাওয়ার ভান করতে বললেন। পারসিকরা মনে করল মুসলিমরা পালাচ্ছে।
উম্মে সালামার বিশেষত্ব এখানেই। তিনি তাঁর প্রতিজন দাসী-বাঁদিকে কোরআন-সুন্নাহর দীক্ষায়ও দীক্ষিত করে তোলেন পূর্ণরূপে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতোই তাদের শিক্ষা আঞ্জাম দিতে থাকেন।
এই ভালোবাসা কখনো প্রকাশ পেয়েছে মমতাময় আচরণে, কখনো স্নেহমাখা কথায়, আবার কখনো তাঁর প্রতি বিশেষ যত্ন ও গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে।
দামেস্কে খাদ্যের দাম বেড়ে গেলে সুলতানের প্রতিনিধি সব দরিদ্র মানুষকে সামর্থ্যবান আমির ও বিচারকদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছিলেন, যাতে কেউ অভুক্ত না থাকে।
রণক্ষেত্রের উঁচু টিলার ওপর নবীজির জন্য একটি শামিয়ানা স্থাপন করা হয়েছিল, যেখান থেকে পুরো মাঠ দেখা যেত। এর ভেতরে আবু বকর (রা.) রাসুলের সঙ্গে ছিলেন।
রমজানের আগ থেকে নবীজি রমজানের প্রস্তুতি নিতেন। রমজান শুরু হলে নিজেকে পুরোপুরি ইবাদতে মশগুল করে রাখতেন। শেষ দশকে নিজের পরিবারকে ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন।
মাত্র ৩৬ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবন, যার মধ্যে ইসলামের ছায়াতলে ছিলেন মাত্র ছয়টি বছর। যার বিদায়বেলায় মহান আল্লাহর আরশ পর্যন্ত কেঁপে উঠেছিল।
তিনি একবার নবীজিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, গায়ের রঙের কারণে জান্নাতে তাঁর মর্যাদা কম হবে কি না। নবীজি তাঁকে আশ্বস্ত করেন। পরে তিনি এক যুদ্ধে শহীদ হন।
আল্লাহর রাসুল (সা.)–এর পুত্রসন্তানদের মৃত্যুর পর মক্কার কাফেররা তাঁকে ‘আবতার’ বা নির্বংশ বলে উপহাস করত। আস ইবনে ওয়াইল ছিলেন মক্কার অন্যতম প্রভাবশালী নেতা।
মক্কার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই বিবাহ সম্পন্ন হয়। আবু তালিব যে খুতবা পাঠ করেন, তা জাহেলি যুগের আরবি গদ্যসাহিত্যে বিশেষ মর্যাদা লাভ করে।
কখনো এমন পরিস্থিতি আসে যখন মানুষের সাধ্যে কিছুই থাকে না—তখন দোয়া-ই হয় আমাদের বড় আশ্রয়। আল্লাহর কাছে কাকুতি-মিনতি করা ছাড়া উপায় থাকে না।