গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষা
‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্বাচনকালীন সহিংসতা (২০০১-২০২৪): একটি কাঠামোগত পর্যালোচনা ও বর্তমান ঝুঁকি বিশ্লেষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি গতকাল প্রকাশিত হয়েছে।
‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্বাচনকালীন সহিংসতা (২০০১-২০২৪): একটি কাঠামোগত পর্যালোচনা ও বর্তমান ঝুঁকি বিশ্লেষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি গতকাল প্রকাশিত হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সার্বিক অবস্থা জানতে চান ইউরোপীয় পর্যবেক্ষকেরা।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের মধ্যে নারী ১০ জন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন ১২ জন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচনের সময়গুলোতে সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার নজির রয়েছে।
চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার সুলতানপুরের বণিকপাড়ায় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের দুটি ঘর পরিদর্শন করেছে একটি নাগরিক প্রতিনিধিদল।
বাংলাদেশের প্রায় সব নির্বাচনের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, ভোটের আগে ও পরে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হয়েছেন।
নারী, সংখ্যালঘু ও দরিদ্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি ইসির কাছে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে।
আলোচকেরা বলেন, এখন মতের মিল না হলেই অনেকে সংখ্যালঘু হয়ে যাচ্ছে। মবের কারণে ভয় নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে।
এমএসএফের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়া গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, তাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি।
সংলাপে দলিত ও হারিজন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাঁদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, নির্বাচন এলেই তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।
আদিবাসীদের উন্নয়নে মানবাধিকারকে সর্বাগ্রে রাখতে হবে। তাদের মনে যেন কখনো এই বোধ জন্ম না নেয় যে তারা অন্যের দ্বারা শাসিত হচ্ছে। এই দায়িত্ব রাষ্ট্রের, আর এর বড় দায় সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর। আস্থা তৈরি করেই এ কাজটি করতে হবে।
২০২৫ সালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে ৭১টিতে সাম্প্রদায়িক উপাদান রয়েছে।
সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে সবার জন্য গণতন্ত্র নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, বাংলাদেশে নির্বাচন সামনে রেখে নারী, মেয়ে ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বাড়ছে, যা মানবাধিকার রক্ষায় দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা প্রকাশ করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন ও হুমকি বৃদ্ধি, নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সাত দফা প্রস্তাব।
আসন্ন নির্বাচনকে বিঘ্নিত করতে এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক দেশের ঐতিহ্যের অংশ।
বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলাকে ব্যক্তিগত শত্রুতা, প্রতিহিংসা এবং রাজনৈতিক মতভিন্নতাসহ অন্যান্য কারণে সংঘটিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।
সংখ্যালঘু অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন কতটা, তা আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অভ্যুত্থানের চেতনা কতখানি বেহাত হলো, সে বিষয়ে সন্দিহান করে তোলে। কেননা, জুলাইয়ের সময় ‘বৈষম্যহীন’, ‘নতুন বন্দোবস্ত’ ও ‘ইনসাফের’ জন্যই সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। দিন শেষে মানুষ শান্তি চায়, চায় জীবনমানের দৃশ্যমান উন্নতি। এই চাওয়ার কতখানি পেলাম আমরা, তা নৈর্ব্যক্তিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি।
ভারতের মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের একেবারে সামনে এসে বিক্ষোভ করেছেন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) নেতা-কর্মীরা।
ভোট দেওয়া নিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যা এবং তাঁদের হুমকি দেওয়া, হেনস্তা করা ও নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।