যাকে ডাকি সে–ই বজ্রপাত হয়ে আসে
চাইছিলাম রিমঝিমকে; চাইছিলাম সীমাকে সীমা আটকে আছে কাঁটাতারের বেড়াতে রিমঝিম সে–ও ভুলতে পারছে না স্মৃতির মানুষটাকে
চাইছিলাম রিমঝিমকে; চাইছিলাম সীমাকে সীমা আটকে আছে কাঁটাতারের বেড়াতে রিমঝিম সে–ও ভুলতে পারছে না স্মৃতির মানুষটাকে
শাহাদুজ্জামানের গল্পটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ৬ নভেম্বর মুক্তকণ্ঠের প্রথম বর্ষের তৃতীয় সংখ্যার ‘শুক্রবারের সাময়িকী’তে। তখনো মুক্তকণ্ঠ অনলাইন কার্যক্রম শুরু হয়নি, তাই গল্পটি এত দিন শুধু ছাপা পত্রিকার পাতাজুড়েই ছিল। গল্পটি আজ প্রথমবারের মতো অন্য আলোর অনলাইন পাঠকের জন্য উপস্থাপন করা হলো।
দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতাব্দীর মরমি কবি ফরিদ উদ্দিন আত্তারের ‘তাজকিরাত আল-আউলিয়া’ ফারসি ভাষায় রচিত সুফিদের জীবনীভিত্তিক একটি আকরগ্রন্থ। বাংলায় এর আক্ষরিক অর্থ ‘সাধুদের জীবনী’। মূল বইটির পরিসর অনেক বিস্তৃত; কিন্তু ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ এবং তাসাউফ ও ফারসি সাহিত্যের পণ্ডিত এ জে আরবেরি (১৯০৫-১৯৬৯) বইটির একটি অ্যাব্রিজড বা সংক্ষিপ্ত ভার্সন প্রকাশ করেছেন। ২০০০ সালে ইংরেজি ভাষায় এটি ‘মুসলিম সেইন্টস অ্যান্ড মিস্টিকস’ নামে বের হয়। বইটিতে ৩৮টি অধ্যায়ে ভাগ করে সুফি সাধক ও তাঁদের জীবনের নানা অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ করেছেন আরবেরি। এর একটি অধ্যায় সিজিস্তান বা বর্তমান আফগানিস্তানসংলগ্ন অঞ্চলের অধিবাসী প্রখ্যাত সুফি সাধক মালেক ইবনে দিনারের নামে।
অস্তিত্ববাদের সূচনা হয় ১৯২০-এর দশকে জার্মানিতে। এটা বিংশ শতাব্দীর পাশ্চাত্য দর্শনের অন্যতম প্রধান ধারা এবং আজও পশ্চিমা পুঁজিবাদী মতাদর্শে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। অস্তিত্ববাদী দর্শনের ইতিহাসে জঁ পল সার্ত্র (১৯০৫–১৯৮০) একটি উল্লেখযোগ্য নাম। তাঁর অস্তিত্ববাদী দর্শন মানুষের ইচ্ছাশক্তি অনুসন্ধান করে এবং মানব স্বাধীনতাকে কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করে। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের অস্তিত্ব তার সত্তার পূর্বে আসে। অস্তিত্ববাদকে তিনি মানবতাবাদ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, যা আজও বাস্তবিক অর্থে গুরুত্ব বহন করে।
<p>কুদরত-ই-হুদা <em>জসীমউদ্দীন: আধুনিকতা ছাড়িয়ে</em> নামের যে পুস্তক সম্প্রতি প্রচার করেছেন, তার নামের মধ্যেই কালের একটি ইশারা আছে। কবি জসীমউদ্দীন লেখালেখি করেছেন ঘোরতর আধুনিকতাবাদী কাব্যচর্চার...
<p>নীড়ে ফেরা বাদুড়ের ঝাঁকে শুকতারা ঠিকানা হারায়<br>এ বড় কঠিন কাল, হিম ঝরে মধ্যরাতে বিছানায়<br>শিশু হিসু ক’রে পাশ ফেরে, নারী শোনে<br>পরাবাস্তব কড়ানাড়া<br>থেমে গেছে দূরের কাড়া-নাকাড়া।<br><br>শিয়ালেরা...
কবিতার সংজ্ঞা, উত্তরবঙ্গের মঙ্গা।কবিতার মূল্য, রাধার রজনীতুল্য।কবিতার সত্য, শিয়রে নার্সের ছায়া, পথ্য।কবিতার দুঃখ, যে জীবন নিবু নিবু, তারও জীবনই মুখ্য।সেই কবিতার সঙ্গে, একত্রিত অতীতের উপহার: গত...
অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান। গ্রাফিকস: মুক্তকণ্ঠ
বর্তমান যুগে অগ্রসর বিদ্যাচর্চাকে অবহেলা করে মাদ্রাসাশিক্ষার প্রাচীন পাঠ্যক্রমগুলোর মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখে টিকে থাকা যে অসম্ভব, আলেম–সমাজ তা অনুধাবন করতে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ধর্মের ক্ষেত্রেও যে যুক্তি, মননশীলতা, জ্ঞান–বিজ্ঞান ও তর্কবিতর্কের অবকাশ রয়েছে, তার এক নীরব সাক্ষী অতীতের মাদ্রাসার পাঠ্যক্রম, যেখানে যুক্তিবিজ্ঞান ও তর্কশাস্ত্র (মানতেক), দর্শন (ফালসাফা), স্বাধীন বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা ও নিত্যনতুন সমস্যাগুলোর সৃজনশীল সমাধান (ইজতেহাদ) ইত্যাদি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হতো।
ক্লিন্টন বুথ সিলি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশীয় ভাষা ও সভ্যতা বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক। বাংলা সাহিত্যের এই গবেষক লিখেছেন কবি জীবনানন্দ দাশের গবেষণামূলক জীবনী, ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্য। ইউপিএল থেকে সম্প্রতি পুনঃপ্রকাশিত হয়েছে তাঁর বই বরিশাল অ্যান্ড বিয়ন্ড: এসেজ অন বাংলা লিটারেচার। ২১ জুন ৮৫তম জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশিত হলো তাঁর এই সাক্ষাৎকার, নিয়েছেন প্রিয়ম পাল।
তো লত্তাইজু নামটা কিন্তু আমাদের গ্রাম কি আরও পাঁচ গ্রামে পাগলের সর্বনাম। সত্যি বলছি। একটা উদাহরণ দিই: চৈত্রে কি ভাদ্রে গরমের ঠেলায় কেউ অসময়ে পানিতে নেমে বসে থাকলে বলা হয় সে লত্তাইজু। অকারণে কেউ গাছে উঠে পা ঝুলিয়ে বসে থাকলে সে–ও লত্তাইজু। হাম হাম করে এক গামলা ভাত সাবাড় করছে কেউ, সে–ও লত্তাইজু।
<p>যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরে পড়ে থাকা লাশের মতো জামাকাপড়, বিছানার চাদর, বই—একটার পর একটা এত দিন ধরে রুদ্রর ঘরে পড়ে ছিল। গ্লাস আর ভাত খাওয়ার প্লেটে দুধের বলকের মতো জমে ছিল সাদা আস্তরণ। কোনো সুস্থ মানুষের...
মহান ইচক দুয়েন্দে টিয়াদুরে সৃষ্টিজগতের এমন এক প্রবণতার বিমূর্ত ও মূর্তের মিশ্র চিত্র গড়েছেন, যা মানুষের কৃত্রিম শ্রেষ্ঠত্ববাদকে চ্যালেঞ্জ করে। মানুষ কেবল অপরাপর প্রাণ-প্রকৃতি হন্তারকই হয়ে ওঠেনি, এমনকি স্বজাতিকেন্দ্রিকতাও বজায় রাখতে পারেনি, লিপ্ত হয়েছে পরস্পরবিরুদ্ধ চিন্তা ও কার্যক্রমের অর্থহীন লড়াইয়ে, যা সমস্ত ভিন্ন ভিন্ন প্রাণসত্তার বৃহত্তর সম্পর্কজাল বিক্ষত ও ছিন্ন করে।
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের নেতৃত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের বক্তব্য ছিল—বুদ্ধির মুক্তি, তথা বিচার-বুদ্ধিকে অন্ধ সংস্কার ও শাস্ত্রের আনুগত্য থেকে মুক্তি দেওয়া। কেন?
শঙ্করের দর্শন ও কাজ শুধু হিন্দু দর্শনকে নয়, ভারতীয় চিন্তার শিকড়কে বদলে দিয়েছে। উপনিষদের মূল সুর তিনি এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন যে তা আজও আধুনিক দর্শন, মনোবিজ্ঞান, এমনকি কোয়ান্টাম দৃষ্টিভঙ্গির আলোচনায় হাজির হয়। গুরু-শিষ্য পরম্পরা, মঠসংস্কৃতি, বেদান্ত শিক্ষা, সংস্কৃত ব্যাখ্যা-পদ্ধতি—সব জায়গায় তাঁর ছাপ। সংক্ষেপে বললে, মাত্র তিন দশকের জীবনে তিনি করেছেন শতাব্দীর কাজ। তাঁর চিন্তা এখনো সাগ্রহে অধীত হয়।
শুক্রবারের সকালটা ভালো লাগে তাদের। শুধু এদিনটি তাদের কাছে আবছায়া নয়। কোনো তাড়াহুড়ো নেই। আবিষ্ট পুকুর থেকে ফোটা পদ্ম যেন চলে আসে তাদের কাছে।
যারা গেল, ধরে নিই তারা আসেইনি কখনোমেঘের কাপ্তান খুলে বৃষ্টি এল, টিলার উপরে।কেবল বৃষ্টি-ই।নৌকার নাভিতে বাঁধা সান্ধ্যদীপ কেঁপে যায়দুঃখের সার পেয়ে ভাঙে যদি অক্ষরের ধ্যান,তাকে দেব বেদনার সমগ্র...
বয়স বাড়লে শরীর ছাড়লেঘর থাকে পরিপাটি, ডাক দেয় মাটি।আমাদের জন্মের আগেওমহুয়ার ছায়া, টগর, মগরা, মাছরাঙা ছিল।প্রকৃতির নিরুত্তর মাঠেঅনাদিকালের হাওয়ায়মৌন পৃথিবীর পাড়ে ওরাই থাকবে।সুরমার লঞ্চঘাটে মনপ্রাণ,...
কবেকার শূন্যোদ্যানেআজ রাতে চাঁদ গেছে থেমেশ্বেতকায় পারাবত-মেঘনেবুচাদনেজারের প্রেমেআমাদেরও প্রেম ছিল নাকি?নিভৃতে কোথাও কোনো ঘর?ঘাসে ঘাসে ছেয়ে গেছে সেইফেলে আসা লোহার বাসরপরাগদণ্ডে ছিল সাপকুণ্ডলে...
কথা রয়ে গেছে বলে এই গোধূলিতেসুদূর তোমার প্রতি ঝুঁকে ঝুঁকে হয়ে যাই সারাআর সবই নিজ গানে মগ্ন, অবিরামচোখের সামনে আজ কত জনপথ ডুবে যায়ছিল সরব উত্থান, ছিল সহৃদয় গান,মনে মনে মসনবি, রুবাই, সনেট,মর্সিয়া,...
উকিল মুন্সীর লেখা ‘আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানি’, ‘অপরাধী হইলেও আমি তর’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘এসো হে কাঙালের বন্ধু’, ‘ভিখারি দুয়ারে’, ‘কুলমান যৌবন দিলাম বিসর্জন’-এর মতো বিখ্যাত গানগুলো শুধু ভাটি বাংলার সম্পদই নয়, এগুলো এখন সমগ্র বাংলার বিরহভাবের সম্পদ। উকিল মুন্সী ইমামতির পাশাপাশি গান করতেন, কখনো বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে, কখনো বাদ্যযন্ত্র ছাড়া, তিনি মাঝেমধ্যে পালাগানের আসরেও যোগ দিতেন।
বাংলায় মাদ্রাসা কেবল ধর্মশিক্ষার ইতিহাস নয়; এটি একসময়ের জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার বিকাশেরও ইতিহাস। মধ্যযুগের বাংলায় মাদ্রাসাগুলো শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
বল মাঠে গড়াবে রাত দশটায়। অথচ এশার আজানের পর থেকে আনোয়ার চেয়ারম্যানের বাড়ির উঠোনে মানুষ গিজগিজ করছে। এই গাঁয়ে সন্ধ্যার আগেই মানুষের নাকের ডাক শোনা যায়। অথচ আজ রীতিমতো চোখে পানি দিয়ে ছেলে–বুড়োরা ঘুম তাড়িয়েছে। উঠোনজুড়ে খড়ের বিছানায় ঝাঁকে ঝাঁকে মশার শুঁড়ে বিদ্ধ হতে হতেও মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মতো চেয়ে আছে ১৪ ইঞ্চি টেলিভিশন সেটের দিকে।
১২ জুন। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো যুদ্ধ শুরুর দিন নয়, কোনো সাম্রাজ্যের উত্থান বা পতনের দিনও নয়। তবু দিনটি মানবসভ্যতার স্মৃতিতে বিশেষভাবে খোদাই হয়ে আছে। ১৯২৯ সালের এই দিনে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে জন্ম নিয়েছিল অ্যান ফ্রাঙ্ক, যে পরে হয়ে ওঠে যুদ্ধের বিরুদ্ধে মানবতার শক্তিশালী কণ্ঠস্বর।