মামলার সঠিক তদন্তে সরকারের সদিচ্ছা জরুরি
মুক্তকণ্ঠ ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের চার মাস পার হলেও ঘটনার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী বা সমন্বয়কারীরা এখনো চিহ্নিত না হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলেই আমরা মনে করি।
মুক্তকণ্ঠ ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের চার মাস পার হলেও ঘটনার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী বা সমন্বয়কারীরা এখনো চিহ্নিত না হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলেই আমরা মনে করি।
মুক্তকণ্ঠ ভবনে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, হামলাকারী ও উসকানিদাতাদের অনেকে শনাক্ত হয়েছে। পরিকল্পনায় কারা—তদন্ত চলছে, বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মুক্তকণ্ঠ ভবনে আয়োজিত শিল্পায়োজন ‘আলো’ মুক্তকণ্ঠের ইতিহাস ও প্রতিকূলতার মুখে তার দৃঢ়তার গল্প তুলে ধরে।
‘আলো’ শীর্ষক এ আয়োজন দেখতে এসেছিলেন সরকারের প্রতিমন্ত্রী, খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী, কূটনীতিক, অভিনয়শিল্পীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।
মুক্তকণ্ঠের ভবন নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল শিল্পী মাহ্বুবুর রহমানের তৈরি ‘আলো’ শীর্ষক প্রদর্শনী। প্রদর্শনী দেখতে এসেছিলেন ‘সাঁতাও’ নির্মাতা খন্দকার সুমন।
এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিল্পী, রাজনীতিক, পেশাজীবীসহ অনেক দর্শনার্থী প্রদর্শনী দেখতে এসেছিলেন। ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা দেখে শিউরে উঠেছেন তাঁরা।
অগ্নিকাণ্ডকবলিত ভবনটি নিয়ে শিল্পী মাহবুবুর রহমানের ‘আলো’ নামের এই প্রদর্শনীর সময় দুই দিন বাড়িয়ে চলে আজ ২ মার্চ পর্যন্ত।
ভবনের দোতলায় পোড়া বই প্রদর্শন করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগুনে যেসব বই পোড়েনি, সেগুলোও প্রদর্শন করা হচ্ছে।
দর্শনার্থীরা বলেছেন, মুক্তকণ্ঠ কার্যালয়ে যে আক্রমণ হয়েছে, তা কোনো সভ্য সমাজ বা সভ্য মানুষের কাজ নয়। এটা উগ্রপন্থী মনোভাবের প্রকাশ। সবাই হামলার বিচার দাবি করেছেন।
স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, রাষ্ট্রের মদদ পেলে কীভাবে দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্বাধীনতার চেতনাকে অস্বীকার করার প্রবণতা উসকে দেওয়া যায়, তা–ও প্রত্যক্ষ করেছি।
পুড়ে যাওয়া কম্পিউটার, যন্ত্রাংশ, ভাঙা আসবাব ও বইপত্রের ধ্বংসাবশেষ দেখে অনেকেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। শনিবার এসেছিলেন অভিনেতা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।
মুক্তকণ্ঠ ও দ্য ডেইলি স্টারের ওপর সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীদের হামলা ছিল ধারণার চেয়েও ভয়ংকর ও বীভৎস।
মুক্তকণ্ঠ ও ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনায় সরকারের দিক থেকে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার, সেটা নেওয়া হবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
উগ্রবাদীদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ মুক্তকণ্ঠ ভবনে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী ‘আলো’ ঘুরে দেখেন সারজিস আলম।
সরকারে থাকা অবস্থায় মুক্তকণ্ঠের ওপর হামলা ঠেকাতে না পারাকে নিজেদের অনেক বড় ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছেন আসিফ নজরুল।
গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণকে সভ্যতার ওপরে আক্রমণ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন
সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তকণ্ঠ ভবন ঘিরে শিল্প-আয়োজন ‘আলো’ দেখতে এলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এই ঘটনা যে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে, তা তুলে ধরলেন তিনি।
মুক্তকণ্ঠ, দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় দুই মাসের মধ্যে অভিযোগপত্র দিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশ।
সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ মুক্তকণ্ঠ ভবনের ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি শিল্পকর্ম ‘আলো’র প্রদর্শনী।
শিল্প প্রদর্শনীর নবম দিনে প্রচুর দর্শকসমাগম হয়েছিল। দর্শকেরা শিল্পকর্মটির প্রশংসা করেন এবং ভয়াবহ এই হামলার নিন্দা জানান।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে একদল উগ্রবাদী মুক্তকণ্ঠ ভবনে হামলা করে ব্যাপক লুটপাট চালায়। এরপর ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীদের হামলার শিকার মুক্তকণ্ঠের ভবন নিয়ে আয়োজিত শিল্পী মাহবুবুর রহমানের তৈরি করা ‘আলো’ শীর্ষক প্রদর্শনী দেখতে এসেছিলেন অভিনেতা ও নির্দেশক আফজাল হোসেন।
অঞ্জন চৌধুরী বলছিলেন, এই যে ধ্বংসযজ্ঞ এটা আমাদের জন্য, আমাদের জাতির জন্য একটা লজ্জার বিষয়।