বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ জয়ের পেছনে কাজ করেছে একাধিক কারণ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭ আসন জিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, অর্থনৈতিক ব্যর্থতা, ভোটার তালিকা সংশোধন ও ধর্মীয় ইস্যু বিজেপির জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭ আসন জিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, অর্থনৈতিক ব্যর্থতা, ভোটার তালিকা সংশোধন ও ধর্মীয় ইস্যু বিজেপির জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
আরজি চিকিৎসক অভয়ার ধর্ষণ-হত্যা মামলায় গাফিলতির জন্য শুভেন্দু অধিকারী তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে। রত্না দেবনাথের নির্বাচনী জয়ের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবীর পোশাকে হাজির হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রতিকার চেয়েছেন। তিনি বলেন, শিশু-নারী-সংখ্যালঘুদের রেয়াত নেই, ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে কলকাতায় অবৈধ কারখানায় বুলডোজার চালিয়ে নতুন সরকার কঠোরতা দেখিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৯ কর্মকর্তাকে নিজের দপ্তরে নিয়ে এসেছেন, যার মধ্যে মমতার আপত্তির রিটার্নিং অফিসার সুরজিৎ রায়। একই সঙ্গে তাঁর খুন হওয়া সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যা কেসে তিন সন্দেহভাজনকে আদালতে হাজির করেছে পুলিশ।
শুভেন্দু অধিকারীর সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে সন্দেহে তিনজন আটক। ঘাতকদের সন্ধানে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ উত্তরপ্রদেশে পৌঁছে গেছে। তদন্তে জানা গেছে, হত্যায় ব্যবহৃত গাড়ি ঝাড়খণ্ড থেকে আনা হয়েছিল।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর দলের ভেতর বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে অভিযোগের ঝড় উঠেছে। একের পর এক নেতাকে বরখাস্ত করলেও ঐক্য ফেরানো কঠিন হতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম সরকার গঠনের সূচনা হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের মাধ্যমে। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহসহ শীর্ষ নেতারা। রাইটার্স ভবনেই ফিরছে রাজ্য সচিবালয়।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি সংবিধানের ক্ষমতা ব্যবহার করে বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন, কারণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করেননি। একইসঙ্গে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে হত্যার ঘটনায় তদন্ত চলছে। পুলিশ মোটরবাইক উদ্ধার করেছে এবং বিশেষ দল গঠন করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নির্বাচনের পর রাজ্যে চলমান সহিংসতার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড সংঘাত আরও তীব্র করতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার রবীন্দ্রজয়ন্তীতে শপথ নেবে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শুভেন্দু অধিকারী এগিয়ে রয়েছেন।
গত দেড় দশকে তৃণমূল আর কবীর সুমন সমার্থক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল।
বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, ৯ মে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীর দিন নতুন সরকারের শপথ হতে পারে।
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটে হারলেও রাজনীতিতে হার মানবেন না।
সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেছেন, ভোটে হারেননি। চক্রান্ত করে, ১০০ আসন লুট করে জবরদস্তি করে হারানো হয়েছে।
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাঙালি জাত্যভিমানে বাতাস দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে জিততে চেয়েছিলেন।
নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর গতকাল কালীঘাটে সংবাদ সম্মেলন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সমকালীন ভারতে আর কোনো রাজ্যের নির্বাচন এতটা উত্তেজক ছিল না—এবার ২০২৬ সালে যা হলো। পশ্চিমবঙ্গের কোনো নির্বাচনও বাংলাদেশে এত মনোযোগ কাড়েনি অতীতে। এতসব আকর্ষণের কারণ, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ বিজয়কে মর্যাদার লড়াই বানিয়ে ফেলেছিল।
নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও মন্ত্রী পরাজিত হয়েছেন
বাংলাদেশের পাশে ভারতের রাজ্য ত্রিপুরা ও আসামে বিজেপি ক্ষমতায়, মেঘালয়েও তাদের জোট। এবার পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপির শাসন।
আগামী ৫ বছর পশ্চিমবঙ্গ শাসন করার স্বপ্ন এখন মমতার কাছে দুঃস্বপ্ন।
বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্র জয়ের পেছনে পাঁচটি প্রধান কারণ দেখিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল সোমবার। জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল ও বিজেপি।
গত চার দিন ধরে রাজ্য তো বটেই, দেশেরও সর্বত্র একটাই জল্পনা, শেষ পর্যন্ত বাজি কে মারবেন। নরেন্দ্র মোদি নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।