বিপদে সুরক্ষা পেতে নবীজির শেখানো ৫ দোয়া
বিপদের অন্ধকার রাতে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং আল্লাহর প্রত্যক্ষ সাহায্য লাভে মহানবী (সা.) উম্মতকে যে শক্তিশালী দোয়া শিখিয়ে গেছেন, তা মানবজীবনের এক অমূল্য পাথেয়।
বিপদের অন্ধকার রাতে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং আল্লাহর প্রত্যক্ষ সাহায্য লাভে মহানবী (সা.) উম্মতকে যে শক্তিশালী দোয়া শিখিয়ে গেছেন, তা মানবজীবনের এক অমূল্য পাথেয়।
দ্বিধাদ্বন্দ্বে মানুষ অনেক সময় দিকবিদিকশূন্য হয়ে পড়ে। ইসলাম সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট ও সুসংহত একটি পথরেখা বাতলে দিয়েছে।
জীবন কি শুধু সুখেরই হবে? মুমিনকে কেন জুলুম-নিপীড়নের মুখোমুখি হতে হয়? আল্লাহ কেন পরীক্ষা ছাড়াই সত্যকে তাৎক্ষণিক বিজয় দেন না—কোরআনের শিক্ষায় খোঁজ পাওয়া যায় তার ব্যাখ্যা।
জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে মানুষ বর্তমানের কষ্ট ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না। মনে হয়, মৃত্যুই বুঝি সব যন্ত্রণার অবসান। অথচ মানুষের জ্ঞান সীমিত।
নবীদের দোয়াগুলো পাশাপাশি রাখলে একটা মিল চোখে পড়ে। তাঁরা কেউ দীর্ঘ আরজি করেননি। শুধু নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে অপেক্ষা করেছেন আল্লাহর সাহায্যের।
ইসলামে এমন কিছু বিশেষ ও বরকতময় মুহূর্তের কথা বলা হয়েছে, যখন বান্দার ডাক সরাসরি আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যায় এবং দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।
বিপদ–মুসিবত এলে, যখন বাহ্যিকভাবে মুক্তির কোনো উপায় চোখে পড়ে না। তখন স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, আল্লাহ কি আমার ওপর অসন্তুষ্ট?
নবী ইউনুসের কথা ভাবুন। গভীর সমুদ্রের অন্ধকার, রাতের অন্ধকার, মাছের পেটে দমবন্ধ অবস্থা, তিন স্তরের ঘুটঘুটে অন্ধকার। এখান থেকে বের হওয়া মানবীয় দৃষ্টিতে অসম্ভব।
এক জুমার দিন নবীজি (সা.) মদিনায় খুতবা দিচ্ছিলেন। এক ব্যক্তি এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল, বৃষ্টি না হওয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে, আপনি আমাদের জন্য বৃষ্টির দোয়া করুন।’
বিপদের সময় একজন মুমিনের করণীয় কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে কোরআন-সুন্নাহ জীবনঘনিষ্ঠ দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
জীবনের প্রতিটি কঠিন ও ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ মুহূর্তে আল্লাহর নবীজির শেখানো দোয়াটিই ছিল তাঁর মনের স্থিরতা ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল চাবিকাঠি।
কিছু দুঃখ আছে যা সবাইকে বলা যায় না; আবার কিছু ব্যথা ভাষায় প্রকাশ করাও কঠিন। এ সময় মানুষ এমন কাউকে খোঁজে, যার কাছে নির্ভয়ে সব বলা যায়।
আমাদের উচিত, প্রতি ওয়াক্তের নামাজে মৃত আত্মীয়-স্বজনের জন্য দোয়া করা। তাতে আল্লাহর করুণায় তাদের কবরকে জান্নাতের বাগানে পরিণত করতে পারে।
ফিতনা শুধু কষ্ট বা বিপদ নয়, বরং ভালো অবস্থাও এক ধরনের পরীক্ষা হতে পারে। এর মাধ্যমে মানুষের ইমান, ধৈর্য ও সত্যনিষ্ঠা প্রকাশ পায়।
কখনো বিপদ আমাদের চারপাশ অন্ধকার করে দেয়। এই কঠিন সময়ে মানুষ যখন দিশেহারা হয়ে পড়ে, তখন পবিত্র কোরআনের বাণী হতে পারে মানসিক শক্তির উৎস।
ইসলামে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে বদদোয়া করা জায়েজ, তবে শরিয়ত নির্দিষ্ট সীমা ও নিয়ম দিয়েছে। কোরআন, হাদিস ও আলেমদের মতামত থেকে এর বিধান বোঝা যায়। মজলুমের জন্য এটি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, কিন্তু সীমালঙ্ঘন নিষিদ্ধ।
ইবনুল জাওজি ছিলেন তাঁর যুগের প্রখ্যাত ওয়ায়েজ ও লেখক, যাঁর মজলিশে হাজারো মানুষ ইসলাম গ্রহণ করত। তাঁর জীবনে ছিল একের পর এক মর্মান্তিক পরীক্ষা, যেমন বন্যায় লাইব্রেরি ধ্বংস, সন্তান শোক ও নির্বাসন। তাঁর গ্রন্থ <em>সাইদুল খাতির</em>-এ বিপদ মোকাবিলায় ধৈর্যের অনন্য নীতি তুলে ধরেছেন।
তকদিরের দোহাই দিয়ে দোয়া থেকে বিরত থাকা ঠিক নয়। কারণ দোয়া নিজেই ভাগ্যের একটি অংশ। আল্লাহর ভাণ্ডারে কোনো কিছুর কমতি নেই।
সুরা বাকারায় ইব্রাহিম (আ.) মক্কা নগরীর জন্য দোয়া করেছিলেন। সেখানে তিনি মাত্র দুটো জিনিস চেয়েছিলেন—একটি নিরাপদ শহর এবংঅধিবাসীদের জন্য রিজিক।
তিনি তো বান্দার জন্য এমন এক আশ্রয়দাতা, যাঁর কাছে শতবার কাঁদলেও তিনি বিরক্ত হন না। বরং তিনি তো সেই রব, যিনি না চাইলে অসন্তুষ্ট হন।
কখনো এমন পরিস্থিতি আসে যখন মানুষের সাধ্যে কিছুই থাকে না—তখন দোয়া-ই হয় আমাদের বড় আশ্রয়। আল্লাহর কাছে কাকুতি-মিনতি করা ছাড়া উপায় থাকে না।
আমাদের একটি কথা যেমন কারও মুখে হাসি ফোটাতে পারে বা শান্তি আনতে পারে, তেমনি একটি কটু কথা ধ্বংস করে দিতে পারে বহু বছরের পুরোনো সম্পর্ক।
দোয়া কেবল কিছু শব্দের সমষ্টি নয়, বরং এটি বান্দার পক্ষ থেকে তার মহান স্রষ্টার প্রতি গভীর কাকুতি-মিনতি ও আত্মনিবেদনের অনন্য মাধ্যম।