‘এ ধরনের আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়’
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে চলছে দিনব্যাপী মুক্তকণ্ঠ বৈশাখী উৎসব।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে চলছে দিনব্যাপী মুক্তকণ্ঠ বৈশাখী উৎসব।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে বৈচিত্র্যময় সাজে সেজেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাঁরা এর মাধ্যমে তুলে ধরেছেন গ্রামবাংলার হারানো ও চেনা ঐতিহ্য।
ছায়ানটের এবারের এ আয়োজনের মূল ভাবনা ছিল ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।
তিন হাজার বছরের ধারাবাহিক সভ্যতার উত্তরাধিকারী পারস্য বা ইরানের ক্ষেত্রে নববর্ষ উদ্যাপন একইভাবে সর্বজনীন ও আনন্দমুখর।
বাংলার ‘ভাবসম্পদ’ বলতে আমরা যদি কেবল সাহিত্য, সংগীত বা শিল্পকলার ভান্ডার বুঝি, তাহলে আমরা এই বিশেষ ধরনের সম্পদের চরিত্র, গভীরতা ও রাজনৈতিক তাৎপর্যকে সীমিত করে ফেলি।
রাজধানীর মীনা বাজারের সামনে থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ধানমন্ডি ২৭–এর প্রধান সড়ক ঘুরে আবার মীনা বাজারের সামনে এসে শেষ হয়।
ষোলো শতকের লাইলি-মজনুর পরিবেশনাশৈলী পনেরো শতকের শাহ মুহম্মদ সগিরের ইউসুফ-জোলেখার মতো ছিল বলেই মনে হয়।
পয়লা বৈশাখ বাঙালি পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে কৃষিভিত্তিক ঐতিহ্য থেকে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের হাতিয়ারে রূপান্তরিত হয়েছে। মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে ইউনেসকো স্বীকৃতির প্রসঙ্গে। অসাম্প্রদায়িকতা ও সামাজিক ঐক্য রক্ষায় এর তাৎপর্য অপরিসীম।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান বলেছেন, পয়লা বৈশাখসহ ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এমন সব সংস্কৃতি তারা ধারণ করবে। রাজধানীতে বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। শোভাযাত্রার পর রমনা পার্কে উৎসব চলছে।
চট্টগ্রামে পয়লা বৈশাখে শোভাযাত্রা, গান-নাচ ও আলপনায় উদযাপন। ডিসি হিল, সিআরবি শিরীষতলা ও শিল্পকলা একাডেমিতে রঙিন অনুষ্ঠান। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল আটটায় সার্কিট হাউস থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু হয়েছে।
চৈত্রসংক্রান্তির সন্ধ্যায় বন্ধুর ফোনে পয়লা বৈশাখের দাওয়াত এল, কিন্তু তেলের সংকটে যাওয়া সম্ভব হল না। বন্ধু যুদ্ধপ্রিয় দেশের পরিবর্তে দেশীয় স্বার্থান্বেষীদের ‘অসাধু’ বলে সমালোচনা করলেন, ‘এসব অসাধু মানুষের কারসাজি। এরা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।’ চৈত্র-বৈশাখের স্মৃতি আর বর্তমান উৎসব নিয়ে হাসিঠাট্টা চলল।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে মুক্তকণ্ঠ বৈশাখী উৎসব শুরু হয়েছে গানের সুরে। রাজধানীর শেফস্ টেবিল কোর্টসাইডে দিনব্যাপী লোকজ প্রদর্শনী, খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছে। সবার জন্য উন্মুক্ত এই উৎসব বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। শোভাযাত্রায় মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়াসহ পাঁচটি প্রধান মোটিফ রয়েছে, প্রতিটি আলাদা বার্তা বহন করে।
রমনার বটমূলে বাংলা নববর্ষ বরণে ছায়ানটের অনুষ্ঠানে সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, নির্ভয়ে গান গাওয়া ও শঙ্কামুক্ত জীবনের কামনা করেছেন। অপশক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক করে বিশ্বশান্তির প্রার্থনা জানিয়েছেন। অনুষ্ঠান সকাল ৬টা ১৫ থেকে ৮টা ২৫ পর্যন্ত চলে।
বাঙালি জাতিসত্তা ও আবহমানকালের গৌরবময় সংস্কৃতির আনন্দঘন উদ্যাপনের দিন আজ।
রাজধানীর রমনার বটমূলে সূর্যোদয়ের পর শুরু হয়েছে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। রবীন্দ্র-নজরুলের গানে সজ্জিত এই প্রোগ্রামে প্রায় ২০০ শিল্পী অংশ নিচ্ছেন। অনুষ্ঠান বিটিভি, দীপ্ত টিভি ও অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে।
আগামীকাল পয়লা বৈশাখে বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা, গান-নাচসহ নানা আয়োজনে বাংলা নতুন বছরকে বরণ করবে এনসিপি। বাংলামোটরের নেভি গলিতে হবে মূল অনুষ্ঠান। সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
পয়লা বৈশাখ উদযাপন ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাত ১০টা থেকে সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ হয়েছে। যানবাহন চলাচলেও কড়াকড়ি জারি, জরুরি সেবার বাহন ছাড়া অন্যরা প্রবেশ করতে পারবে না। নির্দেশনা মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
পয়লা বৈশাখে ঢাকায় বর্ষবরণের ৭টি বড় আয়োজনের বিস্তারিত। যাত্রাবিরতি থেকে মুক্তকণ্ঠ উৎসব পর্যন্ত সব খবর। টিকিট মূল্য, সময় ও অনুষ্ঠানের তালিকা জেনে নিন।
ছায়ানট রমনার বটমূলে পয়লা বৈশাখের প্রভাতে ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’ ভাবনায় নববর্ষ বরণ করবে। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে অনুষ্ঠানে ২২টি গান পরিবেশনা করা হবে। প্রায় ২০০ শিল্পীর অংশগ্রহণে সম্প্রচারিত হবে বিটিভি, দীপ্ত টিভি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদে বৈশাখী শোভাযাত্রার রঙিন প্রস্তুতি চলছে। লোকজ মোটিফ, পটচিত্র ও ঐতিহ্যবাহী কাঠামো তৈরিতে শিক্ষার্থী-শিল্পীরা ব্যস্ত। শোভাযাত্রায় বাংলার ইতিহাস-সংস্কৃতি ফুটে উঠবে রংতুলিতে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী বর্ষবরণের অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। পয়লা বৈশাখে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বৈশাখী শোভাযাত্রাসহ অনুষ্ঠানে কঠোর নজরদারি থাকবে।