আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের সমন্বয় ধর্ম
আর যদি বাঙালি মুসলমান সমাজের পক্ষ থেকে ধরি, তাহলে বলতে হয়, তিনি মুসলমানদের মধ্যে ‘বাঙালি’ পরিচয় উচ্চকিত করা অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব।
আর যদি বাঙালি মুসলমান সমাজের পক্ষ থেকে ধরি, তাহলে বলতে হয়, তিনি মুসলমানদের মধ্যে ‘বাঙালি’ পরিচয় উচ্চকিত করা অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব।
মনোজ অধিকারীর চোখের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলল সুবর্ণা, ‘কাশিমপুর কত দূর! কেমনে যামু ওইখানে?’
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে চলছে দিনব্যাপী মুক্তকণ্ঠ বৈশাখী উৎসব।
ছায়ানটের এবারের এ আয়োজনের মূল ভাবনা ছিল ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।
তিন হাজার বছরের ধারাবাহিক সভ্যতার উত্তরাধিকারী পারস্য বা ইরানের ক্ষেত্রে নববর্ষ উদ্যাপন একইভাবে সর্বজনীন ও আনন্দমুখর।
বাংলার ‘ভাবসম্পদ’ বলতে আমরা যদি কেবল সাহিত্য, সংগীত বা শিল্পকলার ভান্ডার বুঝি, তাহলে আমরা এই বিশেষ ধরনের সম্পদের চরিত্র, গভীরতা ও রাজনৈতিক তাৎপর্যকে সীমিত করে ফেলি।
রাজধানীর মীনা বাজারের সামনে থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ধানমন্ডি ২৭–এর প্রধান সড়ক ঘুরে আবার মীনা বাজারের সামনে এসে শেষ হয়।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান বলেছেন, পয়লা বৈশাখসহ ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এমন সব সংস্কৃতি তারা ধারণ করবে। রাজধানীতে বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। শোভাযাত্রার পর রমনা পার্কে উৎসব চলছে।
চট্টগ্রামে পয়লা বৈশাখে শোভাযাত্রা, গান-নাচ ও আলপনায় উদযাপন। ডিসি হিল, সিআরবি শিরীষতলা ও শিল্পকলা একাডেমিতে রঙিন অনুষ্ঠান। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল আটটায় সার্কিট হাউস থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু হয়েছে।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে মুক্তকণ্ঠ বৈশাখী উৎসব শুরু হয়েছে গানের সুরে। রাজধানীর শেফস্ টেবিল কোর্টসাইডে দিনব্যাপী লোকজ প্রদর্শনী, খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছে। সবার জন্য উন্মুক্ত এই উৎসব বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী ‘এসো হে বৈশাখ’ গানে পয়লা বৈশাখ উদযাপন করেছে শিশুপার্কের সামনে। সংগীতশিল্পী সমর বড়ুয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন রফিকুল আলম। এটি ৪৩তম বর্ষবরণ এবং ফকির আলমগীরকে উৎসর্গকৃত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। শোভাযাত্রায় মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়াসহ পাঁচটি প্রধান মোটিফ রয়েছে, প্রতিটি আলাদা বার্তা বহন করে।
আজ পয়লা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের মধ্যে গণতন্ত্রের পুনরুত্থানের আহ্বান জানানো হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। নতুন বছর সবার জন্য সমৃদ্ধি ও শুভকামনা নিয়ে এসেছে।
বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্য কৃষিকেন্দ্রিক উৎস থেকে উদ্ভূত, যা রাজা শশাঙ্ক ও আকবরের সময় জনপ্রিয় হয়। এটি দলমতধর্ম নির্বিশেষে সর্বজনীন উৎসব। রবীন্দ্রনাথের লেখায় এর চিরনূতন রূপ ফুটে ওঠে।
বাঙালি জাতিসত্তা ও আবহমানকালের গৌরবময় সংস্কৃতির আনন্দঘন উদ্যাপনের দিন আজ।
রাজধানীর রমনার বটমূলে সূর্যোদয়ের পর শুরু হয়েছে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। রবীন্দ্র-নজরুলের গানে সজ্জিত এই প্রোগ্রামে প্রায় ২০০ শিল্পী অংশ নিচ্ছেন। অনুষ্ঠান বিটিভি, দীপ্ত টিভি ও অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে।
দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলাভাষীকে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর ফেসবুক পোস্টে পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও নতুন সরকারের কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন বছরে সবাই মানবকল্যাণের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
পাবনায় এক বছর বন্ধ থাকার পর আগামীকাল পয়লা বৈশাখে স্কয়ার গ্রুপের আয়োজনে রুচি বৈশাখী উৎসব ফিরে আসছে। শোভাযাত্রা, খ্যাতনামা শিল্পীদের পরিবেশনা ও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে শহর উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে। শহরবাসীদের মধ্যে আনন্দের ছড়াছড়ি পড়েছে।
১৩ এপ্রিল রাজধানীর বনানী মডেল টাউনে উইমেন কালিনারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ‘এসো হে বৈশাখ’ বৈশাখী উৎসবের আয়োজন করে। ঐতিহ্যবাহী থালা প্রতিযোগিতা, দেশীয় খেলা এবং পান্তা-ভর্তা-পিঠার সমাহার উপভোগ করেন অতিথিরা। প্রধান অতিথি কনা রেজা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় আয়োজনটিকে প্রশংসা করেন।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে আগামীকাল ১৪ এপ্রিল রাজধানীতে মুক্তকণ্ঠ বৈশাখী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। শেফস্ টেবিল কোর্টসাইডে লোকজ প্রদর্শনী, খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দিনভর আনন্দ মুখরিত হবে। সবাই যোগ দিতে পারবেন।
পয়লা বৈশাখে ঢাকায় বর্ষবরণের ৭টি বড় আয়োজনের বিস্তারিত। যাত্রাবিরতি থেকে মুক্তকণ্ঠ উৎসব পর্যন্ত সব খবর। টিকিট মূল্য, সময় ও অনুষ্ঠানের তালিকা জেনে নিন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নববর্ষ ১৪৩৩ ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে উদযাপিত হবে। সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হবে আনন্দ শোভাযাত্রা। ক্যাম্পাসে ব্যাগ-মুখোশ নিষিদ্ধ, অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে বিকেল পাঁচটার মধ্যে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে পয়লা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ বরণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা উদ্বোধন করেন। মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন কাজ শুরু হয়েছে।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্যাপনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী বিস্তৃত কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে শোভাযাত্রা, মেলা, অনুষ্ঠানসহ নানা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।