বর্ষার ধানকাটায় বেরসিক বৃষ্টির ঝামেলা
এপ্রিল-মে মাসে বেরসিক বৃষ্টিতে হাওরের বোরো ধানকাটায় বিপর্যয়। চাষীরা কাটতে-শুকাতে পারছেন না, শ্রমিক অভাবে ক্ষতি বাড়ছে। হাওর ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য নষ্ট, দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের প্রয়োজন।
এপ্রিল-মে মাসে বেরসিক বৃষ্টিতে হাওরের বোরো ধানকাটায় বিপর্যয়। চাষীরা কাটতে-শুকাতে পারছেন না, শ্রমিক অভাবে ক্ষতি বাড়ছে। হাওর ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য নষ্ট, দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের প্রয়োজন।
মেঘালয়ের জলবিদ্যুৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা যদি প্রত্যাশামতো বাস্তবায়িত হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে মিন্তদু ও কিনশি নদের বুকে অন্তত সাতটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে উঠবে।
সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সঙ্গে উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল নামছে। এতে হাওর ও নদীতে পানি বেড়ে কৃষকের চোখের সামনেই জমির ধান তলিয়ে যাচ্ছে।
মূলত বাঁধ নির্মাণে পরিকল্পনাহীনতা, অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
একই হাওরে বাঁধ নিয়ে কৃষকেরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছেন। কেউ চান বাঁধ কাটতে, আবার কেউ রক্ষা করতে।
সুনামগঞ্জের হাওরে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকরা ১০ দফা দাবি জানিয়েছেন, যার মধ্যে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিপূরণ ও তদন্তের দাবি অন্যতম। সরকারের উচিত এসব অভিযোগ আমল করে কৃষকদের উদ্বেগ দূর করা।
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ঘোড়াডোবা হাওরের সউলডোয়ারি ফসল রক্ষা বাঁধ কাটতে গিয়ে মাটিচাপা পড়ে আরমান হোসেন (১৮) নামের তরুণ নিহত হয়েছে। রোববার বেলা সোয়া ১১টায় এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের লোকেরা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ফানাই নদের বাঁধের সিসি ব্লক ধসে গেছে। এতে নয়াগাঁও-অলিপুর পাকা সড়ক ও বাঁধ ঝুঁকির মুখে। স্থানীয়রা জরুরি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।
সুনামগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে কৃষক-জনতার গণসমাবেশ হয়েছে। ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর উদ্যোগে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের মেলানি অংশে শনিবার সকালে উজাউনি বাঁধ ভেঙে যায়। হাজারো কৃষক চার ঘণ্টার প্রাণপণ চেষ্টায় বাঁধ রক্ষা করলেও তার আগে কিছু জমির ফসল তলিয়ে যায়। অতিবৃষ্টি ও পানির চাপের কারণে এ ঘটনা ঘটে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের নদী রক্ষায় সহায়ক নাকি প্রধান প্রতিবন্ধক? বড়াল নদীর অবমুক্তকরণ নিয়ে স্লুইসগেট অপসারণের দাবি, কমিটির সুপারিশ এবং পাউবোর অবস্থান বিশ্লেষণ করেছেন নজরুল ইসলাম এই দ্বিতীয় ও শেষ পর্বে। বেড়িবাঁধের ক্ষতিকর প্রভাব এবং সমাধানের পথ তুলে ধরেছেন লেখক।
১৯৫৯ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড’ (পাউবো) প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন এর নাম ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। ইংরেজিতে ‘ইপিওয়াপদা’।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোয় মোট ৩৭৩টি হাওর আছে। এর আয়তন ৮০ থেকে ৮৬ লাখ হেক্টর। এর মধ্যে বর্ষার পানি নেমে গেলে প্রায় ৬৮ লাখ হেক্টর জমি চাষের উপযোগী হয়ে ওঠে।
হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণসহ অন্যান্য উন্নয়নকাজে যাতে দুর্নীতি না হয়, সে জন্য সরকার পাহারাদারের ভূমিকা পালন করবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।