‘মাঝরাতে পুলিশের কড়া নেড়ে বলা হয়েছিল, হাতে মাত্র পাঁচ মিনিট’
২০২৬ সালের ১০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া আগুনে এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ১০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া আগুনে এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি ও বন্যায় সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ১০টি বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। আজ শুক্রবার ভোর থেকে বিভিন্ন এলাকায় আবারও পানি বাড়তে শুরু করেছে।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল শেষে চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকায় পানি নামতে শুরু করলেও বাঁশখালীর আট ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সড়ক যোগাযোগ এখনো ব্যাহত।
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ অংশে পানি জমে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, স্থানীয়রা সড়কে জাল ফেলে মাছ ধরছেন।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বসতবাড়িতে কোমরসমান পানি ওঠায় দুই সন্তান নিয়ে অটোরিকশায় আশ্রয় নিয়েছেন তসলিমা আক্তার। গত বুধবার থেকে কালভার্টের ওপর রাখা গাড়িতেই কাটছে তাদের দিনরাত।
কক্সবাজারের উখিয়ায় ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভূমিধসে চার কন্যাশিশুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি বর্ষা মৌসুমে শিশুদের নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের সাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে পাহাড়ধসসহ বিভিন্ন ঘটনায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র, নগদ টাকা ও খাদ্যসহায়তাসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও সংসদে তুলে ধরেন তিনি।
রাঙামাটির সাজেকে পাহাড়ি ঢলে সড়ক প্লাবিত হয়ে আটকে পড়া ৫৬১ জন পর্যটকের মধ্যে ১৫০ জনকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যার পানির তোড়ে ঘর হারিয়েছেন ছেনোয়ারা বেগম। বুধবার রাতে বৈলছড়ি ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি এস কে বি কনভেনশন হল আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদে ভেসে আসা কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে নৌকা থেকে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন আবদুল আলম (৩২) নামে এক যুবদল কর্মী। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চন্দনাইশের পাঠানীপুল এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে মুরাদপুর এলাকায় রেললাইন ডুবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
উখিয়ার আশ্রয়শিবিরে পাহাড় ধসে বেঁচে যাওয়া মাদ্রাসাশিক্ষক জানালেন কী ঘটেছিল সেদিন
টানা বৃষ্টির কারণে পৃথক স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে রাঙামাটিতে। এতে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক এবং কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সকাল থেকে এসব সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
চার দিন ধরে একটানা অতিভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাঁচ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
আজ বুধবার বেলা দুইটার দিকে ভারী বর্ষণে দেয়াল ধসে পড়লে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার আগে মাদ্রাসাটিতে ৩০ জন শিশু ছিল।
পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসা কাদা, গাছপালা ও মাটি চাপা দেয় টিনের ছাউনির ঘর। ধসে পড়ে দেয়াল, পাল্টে যায় একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবন—ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ১৩ বছরের সামিয়া ইসলামের মৃত্যু হয়।
কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর আশ্রয়শিবিরে দেয়াল ধসে তিন মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও কয়েকজন মাটিচাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে একটানা অতি ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলের পানিতে বিভিন্ন এলাকা ডুবে গেছে। ফলে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি এবং দীঘিনালা-লংগদু-সাজেক সড়কসহ বেশ কয়েকটি সড়কে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে সাড়ে চার শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। বর্ষণের কারণে উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় চলাচলের একটি সড়ক ভেঙে খাদে পড়েছে। ভাটিয়ারী ইউনিয়নের জঙ্গল ভাটিয়ারী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৫২টি পরিবারের মধ্যে ১২০টি পরিবারের ঘরে পানি ঢুকেছে।
চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারো পাহাড়ধসে ছয়জন নিহত, পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে নিচু এলাকা
টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি ও যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে পর্যটক যাতায়াতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
কক্সবাজারের উখিয়ার আশ্রয়শিবির বালুখালীতে ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে; নিচু এলাকা ও শিবিরের রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে বাসিন্দাদের মধ্যে।
প্রবল বর্ষণে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের বিভিন্ন স্থান তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।