মানুষ কি স্বভাবত ভালো না মন্দ: ইসলাম কী বলে
তার মধ্যে প্রবৃত্তি, কামনা ও দুর্বলতাও রাখা হয়েছে। তার জীবন তাই নিজের ভেতরের ভালোকে জাগিয়ে তোলা এবং মন্দ প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করার এক অবিরাম সাধনা।
তার মধ্যে প্রবৃত্তি, কামনা ও দুর্বলতাও রাখা হয়েছে। তার জীবন তাই নিজের ভেতরের ভালোকে জাগিয়ে তোলা এবং মন্দ প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করার এক অবিরাম সাধনা।
দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্মের পাশাপাশি এমন বেশ কিছু সহজ আমল রয়েছে, যা পালনে খুব বেশি সময় বা কষ্টের প্রয়োজন হয় না, অথচ এর প্রতিদান অসীম।
আল্লাহকে ভুলে গেলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। যে জীবনকে আল্লাহ আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহের সুযোগ হিসেবে দিয়েছেন, সেটিই তখন চূড়ান্ত গন্তব্য বলে মনে হয়।
মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া কোনো কথা, অন্যায় দৃষ্টি, কিংবা মনে মনে চর্চা করা সামান্য গিবত। মনে হয়, এসব তো কবিরা গুনাহ নয়, তাহলে ক্ষতি কী?
ইসলামে প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজনীয় কাজকর্ম বর্জন করতে বলা হয়নি, বরং দুনিয়াকে চূড়ান্ত লক্ষ্য বানিয়ে ফেলা এবং এর অন্ধ মোহে পড়ে আখেরাত ভুলে যাওয়াকে কঠিনভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
শয়তানের চ্যালেঞ্জের জবাবে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সুরক্ষার ঘোষণা দিয়েছেন। শয়তান বলেছিল যে সে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে, তবে আল্লাহর নিষ্ঠাবান বান্দাদের ওপর তার ক্ষমতা থাকবে না।
তিনি উটের পিঠ থেকে নামার উদ্যোগ করতেই আলী ও আবু লুবাবার বুক কেঁপে উঠল। মরুভূমির তপ্ত বালুতে নবীজি হাঁটবেন, আর তাঁরা উটের পিঠে আরাম করবে?
ভৌগোলিক বা শারীরিকভাবে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের নির্দিষ্ট সময় ও ফজিলত অতীত ইতিহাসে পূর্ণতা পেলেও, হিজরতের আত্মিক দরজা কিন্তু কেয়ামত পর্যন্ত খোলা রয়েছে।
ইসলাম পিতা-মাতার অধিকার ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে; কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব এবং আচার-আচরণের দিকনির্দেশ তুলে ধরা হয়েছে।
সময় বদলেছে। এখন এমন এক যুগে আমরা বাস করছি, যেখানে অনেকেই নিজের ব্যক্তিগত জীবন, ভুল, এমনকি পাপও জনসমক্ষে তুলে ধরতে দ্বিধা করে না।
এখন ইন্টারনেটে এমন সব ভিডিও বা অডিও ক্লিপ ছড়াচ্ছে, যা দেখে সাধারণভাবে বোঝার কোনো উপায় নেই যে এটি আসল, নাকি সম্পূর্ণ কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা মিথ্যা।
পাপ করে যেই অপরাধ করেছেন, আল্লাহ ছাড়া সেই ক্ষমা কোথায় পাবেন? কার কাছে চাইবেন? পবিত্র কোরআন নিশ্চয়তাও দিয়েছে, ক্ষমার দরজা সব সময় সবার জন্যই উন্মুক্ত।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে নিখুঁত মনে করা এবং অন্যকে অপূর্ণ মনে করা—এই দুটি মিলিয়ে যে সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে, সেটা সুস্থতার সংস্কৃতি নয়।
নিজের পাপরাশি থেকে মুক্ত হতে আল্লাহ–তাআলার কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করা, এটা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত পছন্দের একটি আমল।
উপকরণ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক অধিক মুনাফার আশায় খাদ্য বা জরুরি পণ্য লুকিয়ে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করাকে মজুতদারি বলা হয়।
ধর্ষণ প্রতিরোধে ইসলাম বহুমাত্রিক দর্শন উপস্থাপন করেছে, যেখানে মনস্তাত্ত্বিক আত্মশুদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং দৃষ্টান্তমূলক কঠোর ন্যায়বিচারের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে।
পাপ বান্দা ও তার প্রতিপালকের মধ্যকার সম্পর্ক দুর্বল করে আখেরাতের সফলতাকে বিপন্ন করে তোলে। তাই পাপের কারণগুলো জানা এবং সেগুলো থেকে বেঁচে থাকা অপরিহার্য।
কোরআন ও হাদিসে বারবার তাকওয়া অর্জনের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। অন্তরে আল্লাহভীতি জাগ্রত করার জন্য ১০ উপায় বিশেষভাবে কার্যকর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোনো মন্দ বিষয় নয়; এর ব্যবহারই একে ভালো বা মন্দের রূপ দেয়। নিজের জীবনের ওপর চড়াও হতে না দিয়ে, এর লাগাম নিজের হাতে টেনে ধরুন।
মানুষের ভুলের পথ যতই দীর্ঘ হোক না কেন, তার জন্য ফিরে আসার দরজা সব সময় খোলা। আর সেই ফিরে আসার নামই তওবা।
অপরাধী যখন দেখে যে তার অন্যায় সত্ত্বেও দুনিয়াতে তার ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি এবং মান-সম্মান ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন সে এক ধরনের বিভ্রান্তিতে ভোগে।
ব্যাকুলতা অর্জনের জন্য প্রথম শর্ত আল্লাহকে চেনা, যাকে বলে ‘মারেফাত’। যখন মানুষের অন্তর্দৃষ্টি প্রসারিত হয়, তখন সে বিপদের মাঝেও আল্লাহর দান দেখতে পায়।
ইসলামের বিধান হলো, অর্থের বাহ্যিক বৈধতা নয়, উৎসই মূল বিষয়। ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী এটি কয়েকটি হারাম বিষয়ের সমষ্টি: অন্যায় উপার্জন, প্রতারণা, ঘুষ ও তথ্য গোপন।
চোখ যদি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে, তবে তা বহু পাপের পথ খুলে দিতে পারে। তাই ইসলাম দৃষ্টির হেফাজতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।