বর্ণবাদের ছায়ায় খুন হয়ে যাওয়া কবি
<p>‘মোলোয়াসের রক্ত!’ এ হুংকারই ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল সেদিন, ১৯৮৫ সালের ১৮ অক্টোবর, দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের রাস্তায় রাস্তায়। এ হুংকারের সঙ্গে মাঝেমধ্যে মিশে যাচ্ছিল সোয়াহিলি রণহুংকার,...
<p>‘মোলোয়াসের রক্ত!’ এ হুংকারই ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল সেদিন, ১৯৮৫ সালের ১৮ অক্টোবর, দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের রাস্তায় রাস্তায়। এ হুংকারের সঙ্গে মাঝেমধ্যে মিশে যাচ্ছিল সোয়াহিলি রণহুংকার,...
উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকাকে আলাদাভাবে দেখবার যেমন প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি উত্তর–ঔপনিবেশিক সাহিত্যভাবনায় নজরুলকে নতুনভাবে বিবেচনারও প্রয়াস চালানো দরকার। তাঁকে খণ্ডিত করে মুসলমানের কবি বানানোর অপচেষ্টায় যারা লিপ্ত, তাদের হাত থেকে নজরুলকে রক্ষা করতে হলে আজকের নতুন প্রজন্মকে নজরুলের পাশে দাঁড়াতে হবে, নজরুলের দর্শনকে ধারণ করতে হবে মনে ও মননে।
কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন শুধু একজন কবির জন্মস্মরণ নয়, আমাদের রাজনৈতিক ও মানবিক চেতনারও পুনরাবিষ্কারের দিন।
মানুষে কেন যে কাঁদে, তা আমরা সবাই জানি, কিন্তু মানুষে কেন হাসে, সেটা আমরা কেউ জানি না! এটা যে এক অদ্ভুত রহস্য—তা এই একুশ শতকেও অনাবিষ্কৃত—দর্শনে ও বিজ্ঞানে!
সাদাত হাসান মান্টো উর্দু সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্পকার। দেশভাগের রক্তাক্ত বাস্তবতা, দাঙ্গার উন্মাদনা, নারীর অসহায়তা, যৌনকর্মীদের বঞ্চিত জীবন, মানুষের ভেতরের নিষ্ঠুরতা এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের দুঃখ—এসব অন্ধকার বাস্তবতাকে তিনি কোনো ভণিতা বা রাখঢাক ছাড়াই সাহিত্যে তুলে এনেছেন।
রবীন্দ্রনাথের ইসলাম-ভাবনা কেবল সংগীত বা কাব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন সময়ে তিনি ইসলাম ও মহানবী সম্পর্কে স্পষ্ট ও শ্রদ্ধাশীল বক্তব্য রেখেছেন। ১৯৩৩ সালে ‘পয়গম্বর দিবস’-এর একটি অনুষ্ঠানে তাঁর লেখা একটি বাণী পাঠ করেছিলেন সরোজিনী নাইডু। সেখানে রবীন্দ্রনাথ বলেন, পৃথিবীর মহান ধর্মগুলোর অন্যতম ইসলাম এবং তার অনুসারীদের দায়িত্বও তাই গভীর।
ফারসি ও হিন্দি ভাষা ও ‘রেখতা’ শৈলীর কাব্যে সুশিক্ষিত কবি জাফর জাতাল্লি তাঁর কবিতায় মোগলশাহির ক্রমক্ষয়িষ্ণু চরিত্রের সুতীব্র সমালোচনা করেছেন। নির্ভীক, ক্রুদ্ধ, প্রতিবাদমুখরভাবে তিনি লিখে গেছেন
আসলে তাঁর উন্নয়ন-চিন্তাধারায় রবীন্দ্রনাথ সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যে যে পার্থক্য করেছিলেন, উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে রাষ্ট্র-নিরপেক্ষ করে যেভাবে সমাজনির্ভর করতে চেয়েছিলেন এ শতাব্দীর আন্তর্জাতিক, রাষ্ট্রীয় ও সমাজকাঠামোয় তা বাস্তবসম্মত নয়।
কবিতায় প্রতিভাত হয়ে ওঠে সেসব মুখ, যারা ইতিহাস গড়ে, অথচ ইতিহাসে প্রায়ই অনুল্লিখিত থেকে যায়। মহান মে দিবসের প্রেক্ষাপটে এ রচনা
১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে জন ডিগবি রংপুরের কালেক্টর নিযুক্ত হলে রামমোহনও তাঁর সঙ্গে আসেন এবং ১৮১৪ সাল পর্যন্ত রংপুরে অবস্থান করেন।
র্যাঁবো পড়ার আগের ও পরের মানুষ একেবারেই আলাদা। বিশেষ করে নরকে এক ঋতু পড়ার পর কবিতাকে মনে হবে গমগমে কোনো আগুনে অনুভূতি, যা আপনার শরীরের মাংসের স্তর ভেদ করে পৌঁছে যায় অনেক দূর পর্যন্ত।
রঘু রাইয়ের কাজের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো ‘সাক্ষী’ হয়ে থাকার মানসিকতা। তাঁর কাছে তিনি নিজে দৃশ্যের নির্মাতা নন; বরং একজন নীরব পর্যবেক্ষক, যিনি ভাগ্যক্রমে জীবনের স্পন্দনটুকু ধারণ করতে পারেন।
কাজেই আমরা বেলা তারের ছবির পরিস্থিতিটাকে বদলে ফেলে নিৎশের তুরিন নাটক নিয়ে ভাবতে পারি। ধরা যাক, মানুষের জীবনে ছবির ওই নিরবচ্ছিন্ন তুষারঝড় নেই, কুয়ার পানি শুকিয়ে যায়নি, আলো নেভেনি কিংবা লন্ঠনের তেলও শেষ হয়ে যায়নি।
বাউলদের অন্তর্গত সত্য অনুসন্ধানের ধারণা—যেখানে ঈশ্বরকে খুঁজে পাওয়া যায় ‘দেহ-অন্তরে’, যেখানে প্রেম মানে আত্মিক সংযোগ এবং যেখানে সামাজিক শ্রেণি, লিঙ্গ বা ধর্মীয় পরিচয় কোনোটিই মানুষকে আলাদা করার ভিত্তি নয়—শরিয়তপন্থী দৃষ্টিভঙ্গির চোখে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করে।
নতুনকে আবাহন করার জন্য আমরা এখানে সমবেত হয়েছি। নববর্ষের বাণী নতুনকে সাদর সম্ভাষণ জ্ঞাপনের বাণী। আমি তরুণদের জীবনের কর্মপথে বলিষ্ঠ পদক্ষেপে অগ্রসর হওয়ার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।
মিম-সংস্কৃতি ও পয়লা বৈশাখ—দুটি ভিন্ন মাধ্যম হলেও উদ্দেশ্য এক—মানুষের অভিজ্ঞতাকে প্রকাশ করা এবং সময়ের ভাষায় তাকে জীবন্ত রাখা। উভয়ই আমাদের সংস্কৃতির ধারাবাহিকতার অংশ।
বামপন্থীদের দুটি পক্ষই ধর্মীয় পরিচয়বাদের রাজনীতির বিষয়ে সচেতন। কিন্তু বাঙালি জাতীয়তাবাদী পরিচয়বাদের রাজনীতি নিয়ে তাঁদের অপর অংশটি কি সমান সচেতন? সচেতন হলে এই পরিচয়বাদ রক্ষার নামে কর্তৃত্ববাদী শাসনের সমর্থন কীভাবে সম্ভব?
আবুল হুসেনের প্রয়াণের পর মাসিক মোহাম্মদীতে সুফী মোতাহার হোসেনের অগ্রন্থিত নিবন্ধ ‘আবুল হুসেন’ প্রকাশিত হয়েছে। এতে বর্ণিত হয়েছে আবুল হুসেনের সংগ্রামী জীবন, সাহিত্য-সাধনা ও সমাজসেবার কথা। নিবন্ধের সঙ্গে তাঁর একটি বিরল ছবি রয়েছে।
অস্কার অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে ঘোষিত হয়েছে সেরা চলচ্চিত্র ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’। পল টমাস অ্যান্ডারসনের এই অ্যাকশন থ্রিলার টমাস পিঞ্চনের ‘ভিনল্যান্ড’ থেকে অনুপ্রাণিত, রাষ্ট্রীয় দমন ও বিপ্লবী স্বপ্নের গল্প বলে। ছয়টি বিভাগে পুরস্কার জিতেছে ছবিটি।
তাঁরা প্রত্যেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা করেন; কিন্তু কেউই ইকবালকে কবি হিসেবে বিবেচনা করেননি।
খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতকে পারস্য সম্রাট খসরু নওশেরওয়া সংস্কৃত পঞ্চতন্ত্রের একটি পাহলভি অনুবাদ করিয়েছিলেন কালিলা ওয়া দিমনা নামে।
তিনি যে একাগ্রতার উজ্জ্বলতা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ঝুঁকি, রং, রূপ, আবেগের যে স্পষ্টতা নিয়ে সৃজনপথ অনুসরণ করেছিলেন, তা আমরা বিস্মরিত হতে পারি।
ওয়াইল্ড তাঁর চোখে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকদের একজন হওয়ার অযোগ্য। জীবনানন্দ দাশের মতে, অস্কার ওয়াইল্ড ‘বিচিত্র সাহিত্যিক ধুরন্ধর’, যার শক্তি ছিল কিন্তু প্রতিভা ছিল না।
‘পাগলামি আর প্রতিভার মধ্যে পার্থক্য খুব সামান্য আর আমি সেই পার্থক্যের নাম—সালভাদর দালি।’