নজরুলের পুরুষকার
কবি কাজী নজরুল ইসলামের পৌরুষ কি শুধু বীরত্ব, নাকি তার গভীরে আছে অভিমান, প্রেম ও আত্মদানের বোধ? উপনিবেশ, জাতপাত ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর লড়াইয়ে কেমন ছিল সেই পুরুষকার? নজরুলের সেই স্বতন্ত্র সত্তার উৎস খুঁজেছেন তাহমিদাল জামি
কবি কাজী নজরুল ইসলামের পৌরুষ কি শুধু বীরত্ব, নাকি তার গভীরে আছে অভিমান, প্রেম ও আত্মদানের বোধ? উপনিবেশ, জাতপাত ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর লড়াইয়ে কেমন ছিল সেই পুরুষকার? নজরুলের সেই স্বতন্ত্র সত্তার উৎস খুঁজেছেন তাহমিদাল জামি
সাহিত্যের ইতিহাসে লিটল ম্যাগাজিনের ভূমিকা অনেকটা মাছের হ্যাচারির; মীনরেণুর মতো উঠতি লেখকের আঁতুড়ঘর। স্বাপ্নিক তরুণের হাত–মকশোর পাটাতন, প্রতিভাবানের নান্দনিক নিরীক্ষার প্ল্যাটফর্ম। লিটল ম্যাগাজিন বা লিটলম্যাগ সে অর্থে সাহিত্যের ঝরনা। প্রসারিত নদীর মতো বিপুল নয় তার প্রবাহ। কিন্তু ক্ষীণ ধারায় সে জাগ দেয় নতুনত্ব।
বাংলা শিশুসাহিত্যের অনন্য রূপকার আখতার হুসেন মূল পরিচয়ে একজন খাঁটি কবি। গল্প, নাটক কিংবা জীবনী রচনায় নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখলেও বড়দের সাহিত্যচর্চার পথ ছেড়ে শিশুদের জন্য লেখাকেই তিনি গ্রহণ করেছেন জীবনের পরম ব্রত হিসেবে।
চার দশকের নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে সৌদি আরবে চলচ্চিত্র এখন বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয় নিয়ে নতুন আলাপের ক্ষেত্র। এই নতুন সৌদি সিনেমা কীভাবে ইমেজ ও বিশ্বাসের সম্পর্ককে নিজস্ব সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পুনর্নির্মাণ করছে, সেই অনুসন্ধানই এই লেখায়।
বাউল শাহ আবদুল করিমকে অনেকে শুধু মরমি গীতিকার হিসেবে চেনেন। কিন্তু তাঁর গানে ও জীবনে মিশে আছে গভীর রাজনীতি—হাওরের দুঃখী মানুষের কথা, রাষ্ট্রের শোষণ আর সমাজ ভাঙনের আখ্যান। ‘দেশের দুঃখ-দুর্দশার ছবি’ আঁকতে গিয়ে করিম কীভাবে হয়ে উঠলেন সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর, এ নিয়ে লিখেছেন সহুল আহমদ
পুরুষশাসিত জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে আবির্ভূত হন ফুকুদা চিও-নি (১৭০৩-১৭৭৫)। চিও-নি অর্থ সন্ন্যাসিনী চিও। তিনি কাগা নো চিও নামেও পরিচিত। তিনি ছিলেন একাধারে একজন অসাধারণ হাইকু কবি, বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী এবং এমন এক স্বাধীনচেতা ব্যক্তিত্ব, যিনি তাঁর কবিতার মাধ্যমে প্রকৃতির গভীরে প্রবেশ করার পাশাপাশি নারীর জীবনানুভূতি ও সমাজের রূঢ় বাস্তবতাকে অনবদ্য শৈল্পিক রূপ দিয়েছেন।
সাধারণত বাণিজ্যিক পাঠকপ্রিয়তা ও শিল্পমানকে দুটি ভিন্ন মেরুর মনে করা হলেও, তারাশঙ্করের কলমে এই দুইয়ের সংমিশ্রণ ঘটেছে। কীভাবে এটা সম্ভব হলো? তারাশঙ্কর কেন আলাদা? কেন তিনি একই সঙ্গে পাঠকপ্রিয় ও কালোত্তীর্ণ?
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে দুই শতকের বাঙালির মনন ও চিন্তার বিপুল ভান্ডার সংকলিত হয়েছে ২০৯ খণ্ডে। দীর্ঘ এই কর্মযজ্ঞ শুধু বাঙালির চিন্তার ঐশ্বর্যকে এক মলাটের পরিসরে এনেছে তা নয়, ভবিষ্যৎ জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার জন্যও তৈরি করেছে এক মূল্যবান ভিত্তি।
শিশু-কিশোরদের মনস্তত্ত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করে তিনি যেমন প্রকৃতি, রূপকথা ও পশুপাখি নিয়ে লিখেছেন, তেমনি সমাজসচেতনতা, কৌতুক ও চমৎকার শ্লেষাত্মক চমক নিয়ে অজস্র ছড়া উপহার দিয়েছেন।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পথের দাবী উপন্যাসে বিপ্লববাদী আন্দোলনের প্রসঙ্গ থাকায় প্রকাশের পরপরই এটি বাজেয়াপ্ত হয়। তবে উপন্যাসে অহিংস আন্দোলনের প্রতি লেখকের সমর্থনও দেখা যায়। শরৎচন্দ্র কি উপন্যাসে নিজের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দর্শন প্রকাশ করতে চেয়েছেন, নাকি সে সময়ে বিদ্যমান রাজনৈতিক ধারা ও আদর্শ তুলে ধরতে চেয়েছেন—পথের দাবী প্রকাশের শতবর্ষ উপলক্ষে এ লেখায় সেই প্রশ্নের জবাব খোঁজা হয়েছে।
চলচ্চিত্রে রং কখনো চরিত্রের মনস্তত্ত্ব, কখনো সময়, কখনো প্রাকৃতিক দৃশ্যপট, আবার কখনো একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক জগতের পরিচয়। দৃশ্য, আবহ ও অর্থ তৈরিতে রঙের এই নীরব ভূমিকার অনুসন্ধান করা হয়েছে এ লেখায়।
গত মাসে মারা গেলেন বিশ্বখ্যাত জাপানি শিল্পী ইয়াইয়োই কুসামা। ক্যানভাস থেকে স্থাপনাকলা, বস্তু থেকে শরীর—তাঁর শিল্পযাত্রা বারবার ভেঙেছে শিল্পের প্রচলিত সীমানা। আত্মবিলোপ, পুনরাবৃত্তি ও অসীমতার শিল্পভাষা তাঁকে সমকালীন শিল্পের অন্যতম স্বতন্ত্র শিল্পীতে পরিণত করেছে।
শতবর্ষ আগে প্রকাশিত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পথের দাবী শুধু পাঠকের হৃদয়ে আলোড়নই তোলেনি, কাঁপিয়ে দিয়েছিল ব্রিটিশ শাসনের ভিতও। বিপ্লব, স্বাধীনতা ও মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় লেখা এই উপন্যাস শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ হয়েছিল ঔপনিবেশিক সরকারের হাতে। শত বছর পর ফিরে দেখা যাক, কেন একটি উপন্যাসকে এতটা ভয় পেয়েছিল ব্রিটিশরাজ।
ফেসবুকে জনপ্রিয় হওয়া কবিতার মধ্য থেকেও হয়তো কিছু কবিতা কালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সাহিত্যের মূলধারায় জায়গা করে নেবে, আবার অনেক প্রশংসিত ‘সিরিয়াস’ কবিতাও কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে পারে।
তৎকালীন নাট্যমঞ্চ ও চলচ্চিত্রের সনাতন প্রথায় নারদ চরিত্রটি ছিল দীর্ঘ শ্মশ্রুমণ্ডিত, জটাধারী ও অন্ধ ভক্তির প্রবীণ আড়ষ্ট রূপক। নজরুল সেই কৃত্রিমতা ভেঙে পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন এক ক্লিন-শেভড, চুনো করা ঝাঁকড়া চুলের সুদর্শন ও প্রাণবন্ত যুবকের বেশে।
১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে এক বিরল আলোকচিত্রের জন্ম দেয়, যা শুধু দুজন মানুষের প্রতিকৃতি নয়, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের দুই মহিরুহ—কাজী নজরুল ইসলাম ও জসীমউদ্দীনের শেষ যুগল উপস্থিতির একমাত্র দৃশ্যমান দলিল।
কাজী নজরুল ইসলাম মানেই যেন ‘বিদ্রোহী’ কবিতার অগ্নিময় উচ্চারণ। অথচ তাঁর গদ্যেও ধরা পড়ে সময়, রাজনীতি, সাম্য ও মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। কথ্যভঙ্গি, তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ ও জনতার প্রতি সরাসরি আহ্বানে গড়ে ওঠা সেই স্বতন্ত্র গদ্যভাষাই ‘নজরুলী গদ্য’। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে ফিরে দেখা সেই ‘অচেনা’ অথচ শক্তিশালী গদ্যভুবন।
গ্যোতের এই কবিতা প্রকাশিত হয় ১৭৯৭ সালে। এর কয়েক বছর আগে ইউরোপের ইতিহাসে অন্যতম যুগান্তকারী ঘটনা ফরাসি বিপ্লব ঘটে গেছে।
পাশ্চাত্য সাহিত্যতত্ত্বে ওয়ার্ডসওয়ার্থ একটা বিখ্যাত ধারণা দিয়েছিলেন— কবিতা হলো প্রবল অনুভূতির স্বতঃস্ফূর্ত উপচে পড়া, যা শান্ত স্মৃতিচারণার মধ্যে ফিরে আসে।
সুলতানের মতো সুফির অন্তরে স্বর্ণের বাসনা নেই। স্বর্ণ যদি কোথাও থেকে থাকে তবে সেটি তার প্রকৃত স্থান তথা কাদার মধ্যেই আছে।
আহমেদ মাওলার নিবন্ধ ‘কাজী ইমদাদুল হক ও ‘আবদুল্লাহ’ উপন্যাস পাঠ: পুরোনো সমাজের ভেতর নতুন মানুষের উত্থান’
শতবর্ষ পূর্ণ করল বাংলা ভাষা-ইতিহাসের এক অনন্য গ্রন্থ ‘ওডিবিএল’। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের এই গবেষণা শুধু ভাষার উৎপত্তি নয়, বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গভীর শিকড়ও উন্মোচন করে। শতবর্ষ পরে আজও এর প্রাসঙ্গিকতা অটুট।
মিয়ানমারে সামরিক জান্তার হাতে কবি খেৎ থির হত্যার পর তাঁর মৃত্যুকে কবিতার জগতে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখেছেন ইয়ো খাৎ।
বাংলা ভাষায় পবিত্র কোরআনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদক হিসেবে গিরিশচন্দ্র সেনের অবদান কেবল অনুবাদেই সীমাবদ্ধ ছিল না; হাদিস, সিরাত, ইসলামের ইতিহাস, সুফিবাদ ও ফারসি সাহিত্যের বহু গ্রন্থ অনুবাদ-সংকলন ও মৌলিক রচনার মধ্য দিয়ে তিনি উনিশ শতকের বাংলা জ্ঞানচর্চায় স্বতন্ত্র অধ্যায় তৈরি করেন।