উৎসবের আলোয় সংস্কৃতির মানচিত্র
বাঙালি সংস্কৃতির প্রধান পরিচয়বাহী উৎসব বাংলা নববর্ষ। এটি কেবল উৎসব নয়, এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ও বটে। সর্বোপরি বাংলা নববর্ষ আমাদের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সামষ্টিক জীবনের প্রতীক।
বাঙালি সংস্কৃতির প্রধান পরিচয়বাহী উৎসব বাংলা নববর্ষ। এটি কেবল উৎসব নয়, এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ও বটে। সর্বোপরি বাংলা নববর্ষ আমাদের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সামষ্টিক জীবনের প্রতীক।
বিশেষ হয়ে উঠেছে দুই বাংলার দুই গুণী শিল্পীর উপস্থিতিতে। এ ধরনের আয়োজন শুধু গান শোনার নয়, এটি একে অন্যকে আরও ভালোভাবে জানার ও বোঝার সুন্দর সুযোগ।
নববর্ষের আনন্দ, বাঙালিয়ানা ও রঙের আবেশে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে উদ্যাপিত হয়েছে ‘বৈশাখ ১৪৩৩’।
সিলেটের কিনব্রিজ এলাকায় ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বরণ করা হলো বাংলা নববর্ষ। আলী আমজদের ঘড়ির ধ্বনি, শঙ্খধ্বনি, সুর ও রঙে মুখর হয়ে ওঠে বৈশাখের সকাল।
পয়লা বৈশাখে রাজধানীর ১০০ ফুট মাদানি অ্যাভিনিউয়ের শেফস টেবিলে আয়োজিত মুক্তকণ্ঠ বৈশাখী উৎসবে অংশ নিয়ে দর্শনার্থীদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা উপহার দিয়েছে ইয়ামাহা।
হাতে হাতে বাঁশি, মুখে মুখোশ, রঙিন ফিতাসহ দাশাই নাচের সঙ্গে বৈশাখী সাজের সঙ্গে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ, নাচ-গান
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।
কিশোরগঞ্জে বস্তাদৌড়, দড়িটান, বেলুন ফুটানো, হাঁড়িভাঙা, হাঁস ধরাসহ দিনব্যাপী নানা খেলায় মেতে ছিলেন কৃষকেরা।
আমাদের দেশে সংস্কৃতির আধুনিক ধারণার উদয়ের একটা উপনিবেশি পরম্পরা আছে। প্রাগাধুনিক সমাজে ধর্ম, রীতি, দেশাচার, আর্যত্ব, তমদ্দুন, তাহজিব, রসম, রেওয়াজ ইত্যাদির ধারণা থাকলেও হালে সংস্কৃতির ধারণা অপেক্ষাকৃত নতুন।
তেমন একটা শীত পড়েনি। সাটিয়াজুরী স্টেশনে কোনো দারোগা জনাকয়েক বন্দুকধারী কনস্টেবল সঙ্গে নিয়ে ওয়ারেন্ট হাতে অপেক্ষায় দাঁড়িয়েও নেই।
ঝড় উঠুক, উঠুক অনিবার্য কোনো নিয়তির মতো বৈশাখের উন্মত্ত নিশ্বাসে ভেঙে যাক মানুষের অহংকারে গড়া দালান, ধূলিসাৎ হোক ইট-কাঠের সভ্যতার মিথ্যা গৌরব, আছড়ে পড়ুক বৃক্ষেরা—
আজকের আলোচনার শিরোনামে তিনটি শব্দ আছে: ‘সংস্কৃতি’, ‘বাংলাদেশ’ ও ‘খোঁজ’। ‘সংস্কৃতি’ বলতে সাধারণ মানুষেরা বোঝেন শিল্পসাহিত্য।
এ পথের অর্ধেক আলোয় অন্ধ কিছু কাক ক্রমে উড়ে যায়, যখন সন্ধ্যা ধীরে পথ থেকে নেমে পথহীনতায় যেতে থাকে তবু কিছু ছেঁটে ফেলা ঝোপঝাড়ে নাগরিক জোনাকিগুলো
ভোর হয় ধীরে, দোতারা খঞ্জনি কত কী বাতাসে বটতলে বাউলের জলসায় আজ কে না যাবে, ঘুঙুরের শব্দে গাঢ় অন্ধকার ফিকে হয় যুবক-যুবতীরা উত্তাল, ঘাসবন ফুঁড়ে উঠে আসে।
আর যদি বাঙালি মুসলমান সমাজের পক্ষ থেকে ধরি, তাহলে বলতে হয়, তিনি মুসলমানদের মধ্যে ‘বাঙালি’ পরিচয় উচ্চকিত করা অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব।
মনোজ অধিকারীর চোখের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলল সুবর্ণা, ‘কাশিমপুর কত দূর! কেমনে যামু ওইখানে?’
ছায়ানটের এবারের এ আয়োজনের মূল ভাবনা ছিল ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।
তিন হাজার বছরের ধারাবাহিক সভ্যতার উত্তরাধিকারী পারস্য বা ইরানের ক্ষেত্রে নববর্ষ উদ্যাপন একইভাবে সর্বজনীন ও আনন্দমুখর।
বাংলার ‘ভাবসম্পদ’ বলতে আমরা যদি কেবল সাহিত্য, সংগীত বা শিল্পকলার ভান্ডার বুঝি, তাহলে আমরা এই বিশেষ ধরনের সম্পদের চরিত্র, গভীরতা ও রাজনৈতিক তাৎপর্যকে সীমিত করে ফেলি।
পয়লা বৈশাখে চ্যানেল আই ও সুরের ধারার যৌথ আয়োজনে রবীন্দ্রসরোবরে হাজারো কণ্ঠে বর্ষবরণ হয়েছে। রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাসহ বিখ্যাত শিল্পীরা রবীন্দ্রসংগীতে মাতিয়ে তুলেছেন দর্শকদের। সংগীত ও প্রকৃতির মেলবন্ধনে স্বাগত জানানো হয়েছে বঙ্গাব্দ ১৪৩৩-কে।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান বলেছেন, পয়লা বৈশাখসহ ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এমন সব সংস্কৃতি তারা ধারণ করবে। রাজধানীতে বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। শোভাযাত্রার পর রমনা পার্কে উৎসব চলছে।
চৈত্রসংক্রান্তির সন্ধ্যায় বন্ধুর ফোনে পয়লা বৈশাখের দাওয়াত এল, কিন্তু তেলের সংকটে যাওয়া সম্ভব হল না। বন্ধু যুদ্ধপ্রিয় দেশের পরিবর্তে দেশীয় স্বার্থান্বেষীদের ‘অসাধু’ বলে সমালোচনা করলেন, ‘এসব অসাধু মানুষের কারসাজি। এরা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।’ চৈত্র-বৈশাখের স্মৃতি আর বর্তমান উৎসব নিয়ে হাসিঠাট্টা চলল।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে মুক্তকণ্ঠ বৈশাখী উৎসব শুরু হয়েছে গানের সুরে। রাজধানীর শেফস্ টেবিল কোর্টসাইডে দিনব্যাপী লোকজ প্রদর্শনী, খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছে। সবার জন্য উন্মুক্ত এই উৎসব বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী ‘এসো হে বৈশাখ’ গানে পয়লা বৈশাখ উদযাপন করেছে শিশুপার্কের সামনে। সংগীতশিল্পী সমর বড়ুয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন রফিকুল আলম। এটি ৪৩তম বর্ষবরণ এবং ফকির আলমগীরকে উৎসর্গকৃত।