‘যেগুলো ধান পেয়েছি, আজ খেতাম না ঋণ দিতাম’
মৌলভীবাজারের রাজনগরের কাশিমপুরে অসময়ের পানিতে হাজার হাজার কিয়ার ধান তলিয়ে গেছে। কৃষক ইয়াওর মিয়া বলছেন, ‘যেগুলো ধান পেয়েছি, আজ খেতাম না ঋণ দিতাম।’ সারা বছরের খোরাকি ও আয়ের আশা এখন হাহাকারে পরিণত হয়েছে।
মৌলভীবাজারের রাজনগরের কাশিমপুরে অসময়ের পানিতে হাজার হাজার কিয়ার ধান তলিয়ে গেছে। কৃষক ইয়াওর মিয়া বলছেন, ‘যেগুলো ধান পেয়েছি, আজ খেতাম না ঋণ দিতাম।’ সারা বছরের খোরাকি ও আয়ের আশা এখন হাহাকারে পরিণত হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে খলায় পানি জমে যাওয়ায় হাওরের কৃষকরা অলওয়েদার সড়কে ধান শুকাচ্ছেন। আবদুর রহিম বলেন, বেশ কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে খলাগুলোতেও পানি উঠে গেছে। রোদের সুযোগে সবাই ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন বৃষ্টির আগে ধান সংরক্ষণে।
এপ্রিল-মে মাসে বেরসিক বৃষ্টিতে হাওরের বোরো ধানকাটায় বিপর্যয়। চাষীরা কাটতে-শুকাতে পারছেন না, শ্রমিক অভাবে ক্ষতি বাড়ছে। হাওর ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য নষ্ট, দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের প্রয়োজন।
অতিবৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে কৃষকদের বিপুল ফসলহানি হয়েছে। ঋণের চাপে অনেকে খেত-বাড়ি বিক্রি করে দেনে ভাবছেন। জেলায় ১৩ হাজার ৪৭৯ হেক্টর ধান তলিয়ে গেছে, ক্ষতি ৩০০ কোটি টাকার।
রাজশাহীর পবা ও গোদাগাড়ীতে বিএডিসির ‘ব্রি ধান–৮৮’ ভিত্তিবীজ থেকে এক খেতে তিন রকম ধান হয়েছে। চাষিরা প্রতারিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত, শ্রমিকরা কাটতে অস্বীকার করেছে। বিএডিসি বলছে, ব্রি ধান–৯২ মিশে গেছে, তদন্ত চলছে।
হাকালুকি হাওরে ধান ডুবে স্ট্রোক হয়েছে বর্গাচাষি বকুল দাস (৪৫)। সিলেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর অপেক্ষায় তিন সন্তান কিস্তির চাপ সহ্য করছে। ফসলহানি ও ঋণের জন্য পরিবার সংকটে।
জয়পুরহাটে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে গাছপালা, বসতঘরের টিনের চালা ও বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরে অকালবন্যায় তলিয়ে গেছে কৃষক নোমান মিয়ার ১৬ কিয়ার বোরো ধান। দেনার দায়ে জর্জরিত এ কৃষকের ‘সন্তানসম’ ফসল হারানোর আর্তনাদ ও বুকসমান পানি থেকে ধান উদ্ধারের লড়াইয়ের কথা উঠে এসেছে তাঁর কথায়।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা! স্থান, হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ভানুরা বিল হাওর। হালকা মেঘলা আকাশ, চারদিকে শুধু পানি আর পানি।
দুই বন্ধু জানান, এবার মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ কালো ধানের বিক্রয়মূল্য আড়াই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল হারিয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বর্গা চাষিরা। তাঁরা জমির ধান গোলায়ও তুলতে পারেননি, আবার ধারদেনা শোধ করারও এখন আর কোনো উপায় নেই।
হাওরের ফসল রক্ষায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব (দুলু)।
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের অন্তেহরি গ্রামের চিত্র সবচেয়ে বেশি খারাপ। পাকা ধানের খেত পানির নিচে, কেটে আনা ধানও রোদ না থাকায় শুকানো যায়নি।
সরকারি হিসাবে অতিবৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে জুড়ী উপজেলার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ধান পানির নিচে চলে গেছে।
হাওরাঞ্চলে বন্যার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে মে মাসে—প্রায় ৫০ শতাংশ। আবার এপ্রিলের শেষভাগে বন্যার প্রকোপ থাকে প্রায় ৪২ শতাংশ।
হবিগঞ্জের হাওরে বৃষ্টির পানিতে জমিতে কেটে রাখা ধানের স্তূপে পচন ধরেছে। একই কারণে মাড়াই করা ধানও শুকানো যাচ্ছে না।
হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যায় তলিয়েছে বোরো ধান। নৌকা আর কোমরসমান পানিতে নেমে অন্তত পরিবারের খাবার জোগাড়ে শেষ চেষ্টা করছেন কৃষকেরা।
সুনামগঞ্জে এবার মার্চের মাঝামাঝি থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। এতে বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ২৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয় অতিবৃষ্টি, নামে উজানের পাহাড়ি ঢল।
শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় কয়েক শ কৃষক হাতির ফসল নষ্ট করার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
সরকারি হিসাবে হাওরে ৬২ শতাংশ খেতের ধান কাটা হয়েছে। আর অতিবৃষ্টিতে নিমজ্জিত হয়েছে ১৩ হাজার ৪৬৬ হেক্টর জমির ধান।
‘জমির ধান গেল পানিতে, এখন খলার (কাটার পর স্তূপ করে রাখা) ধান নষ্ট অইযায় রইদের ( রোদ) অভাবে।’
আজ শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় গাইবান্ধায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বৃষ্টির সঙ্গে সম্প্রতি কালবৈশাখীর আঘাতে জেলায় প্রায় ২১২ হেক্টর জমির ধানগাছ নুইয়ে পড়েছে।
শুকাতে না পেরে ধান পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বস্তাসহ সেসব ধান হাওরের পানিতে ভাসিয়ে দিচ্ছেন কিশোরগঞ্জের হাওরের কৃষকেরা।
নেত্রকোনার হাওরে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা বোরো ধান। শ্রমিকসংকট ও অনিশ্চয়তায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।