বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি, ইরান যুদ্ধের ফল
সামুদ্রিক গবেষণা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ড্রিউরির তথ্যমতে, ১০ এপ্রিল শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল রপ্তানি দৈনিক ৫২ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, গত সাত মাসের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।
সামুদ্রিক গবেষণা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ড্রিউরির তথ্যমতে, ১০ এপ্রিল শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল রপ্তানি দৈনিক ৫২ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, গত সাত মাসের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।
দুই সপ্তাহের প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার ওয়াশিংটন সময় সন্ধ্যায় শেষ হওয়ার কথা। তবে এই মেয়াদ বাড়ানো হলেও নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেননি ট্রাম্প।
দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হলো টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ছাত্র ফেডারেশন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে জ্বালানিবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল একরকম বন্ধ করে দেয়।
শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ইসরায়েল-লেবাননের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট যে সময় আছে, সেই সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করবে।
ফিলিং স্টেশন একটি, তেলের লাইনে হাজারো যান
এশিয়া ও ইউরোপের শোধনাগারগুলো বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহে ঝুঁকছে। ফলে বিশ্বের বৃহত্তম উৎপাদক যুক্তরাষ্ট্রের তেলের চাহিদা হঠাৎই বেড়ে গেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, তেল উৎপাদন কমিয়ে টানা দুই মাস রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখলেও ইরানের অর্থনীতিতে খুব বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।
রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের সংকটে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের চালকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় কাটাচ্ছেন। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ভোগান্তি কমার কোনো লক্ষণ নেই, বরং দিন দিন বাড়ছে। বিভিন্ন স্টেশনে শত শত যান অপেক্ষমাণ।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বাড়িয়ে ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা করা হয়েছে। বিইআরসি আজ এ ঘোষণা দিয়েছে, যা রবিবার রাত ১২টা থেকে কার্যকর। বিপিসির অধীন চারটি সরকারি কোম্পানি নতুন দামে তেল বিক্রি করবে।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর থাকায় হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম সীমিত রয়েছে। সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় তেল-গ্যাস ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে—বিশেষ করে এলএনজি ও অন্যান্য খাতে ভারসাম্য ফিরতে। বড় শক্তি এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সমন্বয় ছাড়া পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যসূচক ৩.৩% বেড়েছে, যা দুই বছরের সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাসোলিনের দাম ২১.২% উঠেছে, যা ১৯৬৭ সালের পর সর্বোচ্চ মাসিক বৃদ্ধি। হরমুজ প্রণালী বন্ধের জেরে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
বাজারে সোনালি মুরগির কেজি ৩৮০–৪২০ টাকা এবং রুই মাছের দাম ৩৫০ টাকার নিচে নেই। তেলাপিয়া, পাঙাশ, চিংড়ি মাছ, সয়াবিন তেল ও সবজির দামও বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এই পণ্যগুলোর দাম বেশি।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবৈধ সয়াবিন তেল উৎপাদনের কারখানা সিলগালা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বে বিজিবি ও র্যাবের যৌথ অভিযানে এ অকার্যকর হয়। বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জের নিগি ফিলিং স্টেশনে তেল না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ মোটরসাইকেল চালকেরা গাছের গুঁড়ি ফেলে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ঢাকা-খুলনা হাইওয়েতে দীর্ঘ যানজট হয়। পুলিশের বুঝিয়ে সরানোর পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সানেমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তেলের দাম ৪০% এবং এলএনজি ৫০% বাড়লে জিডিপি ১.২% কমতে পারে, রপ্তানি ২% এবং আমদানি ১.৫% হ্রাস পাবে। মূল্যস্ফীতি ৪% বাড়বে এবং প্রকৃত মজুরি ১% কমবে। জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সানেম নবায়নযোগ্য শক্তি ও মজুত তৈরির সুপারিশ করেছে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হাতে রেখে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে কৌশলগত সুবিধা ধরে রেখেছে। বিশ্ব তেল বাজারে উদ্বেগ কমলেও অনিশ্চয়তা অব্যাহত। ইরান এখন জাহাজ থেকে মাশুল আদায়ের পরিকল্পনা করছে।
যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার বেড়েছে, ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেল প্রতি ৯৭ ডলারে পৌঁছেছে। গতকাল একদিনে অপরিশোধিত তেলের দাম ১৬% এবং এলএনজির দাম ১৮% কমলেও সরবরাহ বাড়ার আশা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে আটকে থাকা তেল-এলএনজি ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য আপাতত স্বস্তি এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৫.৯% কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারে নামলো। এশিয়ার শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি সাময়িক স্বস্তি দিলেও স্থায়ী শান্তি না হলে উৎপাদন স্বাভাবিক হবে না।
একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি তেল উৎপাদন করে ঠিক, তবে অঞ্চল হিসেবে সবচেয়ে বেশি তেল উৎপাদিত হয় মধ্যপ্রাচ্যে।
বাংলাদেশে জ্বালানি, তেল ও খনিজ সম্পদ প্রকৌশলে পড়ার সুযোগ সীমিত হলেও বিশ্বব্যাপী দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে স্নাতক-স্নাতকোত্তর কোর্স রয়েছে। চাকরির বাজার সংকীর্ণ হলেও বিদেশে সম্ভাবনা উজ্জ্বল।