অনুসন্ধান ও ভালোবাসা
জহির রায়হান অমর একুশের মানসসন্তান। ‘একুশের গল্প’, আরেক ফাল্গুন কিংবা একুশে ফেব্রুয়ারী উপন্যাস অথবা জীবন থেকে নেয়া চলচ্চিত্র পরিচালনার মধ্য দিয়ে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে বেঁধেছেন অমর ধ্রুবপদে।
জহির রায়হান অমর একুশের মানসসন্তান। ‘একুশের গল্প’, আরেক ফাল্গুন কিংবা একুশে ফেব্রুয়ারী উপন্যাস অথবা জীবন থেকে নেয়া চলচ্চিত্র পরিচালনার মধ্য দিয়ে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে বেঁধেছেন অমর ধ্রুবপদে।
মুক্তির ছয় দশক পরও ‘সংগম’ ও ‘বাহানা’র মতো চলচ্চিত্র বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে নেই কেন?
জহির ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের যখন পরিচয় হয়, তখন তো চারদিকে তাঁর জয়জয়কার। দেশের সেরা সাহিত্যের পুরস্কার পেয়েছেন হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য। একের পর এক সফল চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন, বছরের পর বছর পুরস্কৃত হচ্ছেন।
বুর্জোয়া শিল্প নিয়ে জহির রায়হানের মনোভঙ্গি মিলে যায় আরও একজন মনীষীর সঙ্গে। তিনিও জহির রায়হানের মতো মার্ক্সবাদ ও সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন এবং জহির রায়হানের মতোই ভীষণ রকম সৃজনশীল ছিলেন।
জহির রায়হান—বাংলা চলচ্চিত্রের সাহসী কণ্ঠ, যিনি সিনেমাকে কেবল বিনোদনের মাধ্যম ভাবেননি, ভেবেছিলেন প্রতিরোধের ভাষা হিসেবে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ইংরেজি ভাষায় ‘স্টপ জেনোসাইড’ নির্মাণ করেন জহির রায়হান। এতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ, গণহত্যা, শরণার্থীদের দুরবস্থা তুলে ধরেন তিনি।
শুনেছিলাম জহিরকে মিরপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, ফোন করলাম। ওপাশ থেকে কে ধরলেন, বলতে পারলাম না। জানতে চাইলাম, জহিরকে একটু দেওয়া যাবে? কথা বলতে চাই।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী জহির রায়হান বাংলাদেশের সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। মাত্র ৩৭ বছরের জীবন পেয়েছিলেন।
জহির রায়হানের কর্ম নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার প্রদর্শনী হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে।