গত ২ অক্টোবর
গত ২ অক্টোবর, ২০২৬ শুক্রবার আবু কালাম শামসুদ্দিনের আঁকা অর্ধশতাধিক চিত্রকর্ম নিয়ে তাঁর একক চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে ঢাকার আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে।
গত ২ অক্টোবর, ২০২৬ শুক্রবার আবু কালাম শামসুদ্দিনের আঁকা অর্ধশতাধিক চিত্রকর্ম নিয়ে তাঁর একক চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে ঢাকার আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে।
ফ্লোরেন্সের অভিজ্ঞতা মুর্তজা বশীরের সৃজনশীলতায় নতুন আলো জ্বালিয়েছে। তিনি রূপবন্ধ বা ফর্মের বন্ধনেও অবিমিশ্র রঙে মানুষ আঁকলেন; সুখ ও দুঃখ দুই-ই আঁকলেন।
এ প্রদর্শনীর সবচেয়ে অভিনব দিকটি হলো শিল্পী মো. আনিসুল হকের নিরীক্ষাধর্মী কাজগুলো। সিরামিকের মসৃণ ও চাকচিক্যময় রূপ থেকে বেরিয়ে আনিসুল হক তাঁর কাজে টেক্সচার বা বুনট যুক্ত করেছেন।
গত মাসে মারা গেলেন বিশ্বখ্যাত জাপানি শিল্পী ইয়াইয়োই কুসামা। ক্যানভাস থেকে স্থাপনাকলা, বস্তু থেকে শরীর—তাঁর শিল্পযাত্রা বারবার ভেঙেছে শিল্পের প্রচলিত সীমানা। আত্মবিলোপ, পুনরাবৃত্তি ও অসীমতার শিল্পভাষা তাঁকে সমকালীন শিল্পের অন্যতম স্বতন্ত্র শিল্পীতে পরিণত করেছে।
তরুণ শিল্পীদের কাজে নকশিকাঁথা, আলপনা, জামদানি, টেপা পুতুল ও বাউলের মতো বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতীকের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের মার্লিয়ন, স্থাপত্য, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও সমুদ্র–বাণিজ্যের অনুষঙ্গ যুক্ত হয়েছে। এই প্রতীকী বিন্যাস দুই দেশের সম্পর্ককে সহজে দৃশ্যমান করে।
ছবি আঁকাকে তিনি মেনে নিয়েছিলেন ‘বিপ্লবের হাতিয়ার’ হিসেবে। তাঁর অটোগ্রাফের খাতায় কমিউনিস্ট নেতা ভবানী সেন লিখলেন, ‘আর্টিস্টের কাজ হলো শোষিত জনগণের ভাব ও দুঃখ-দুর্দশাকে চিত্রের ভেতর দিয়ে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা, যাতে সমাজে সে আর্ট নব জীবন সৃষ্টি করতে পারে।’ এর পর থেকেই বদলে যাওয়া শুরু করল মুর্তজা বশীরের জীবন।
সালিমা হাশমি বিখ্যাত কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ এবং তাঁর ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত স্ত্রী অ্যালিস ফয়েজের জ্যেষ্ঠ কন্যা। সালিমা হাশমি পাকিস্তানের আধুনিক শিল্পীদের প্রথম প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করেন, যাঁরা আদিবাসী শিল্পীদের থেকে আলাদা একটি শৈল্পিক পরিচয় বহন করে।
আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের গ্যালারি–৫-এ প্রদর্শিত হলো শিল্পী পলাশ ভট্টাচার্য্যের একক প্রদর্শনী ‘ভূমিবচন’। একটি সংস্কৃতি কীভাবে তার স্মৃতি বহন করে, হারায় এবং নতুনভাবে নির্মাণ করে—তারই এক সংবেদনশীল ও বৌদ্ধিক শিল্পভাষ্য এই প্রদর্শনী।
গত জুনে ঢাকার আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে জাকিয়া খান চন্দনার তৃতীয় একক চিত্রপ্রদর্শনীর পর বেশ দ্রুতই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে ২ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে তাঁর চতুর্থ একক চিত্রপ্রদর্শনী।
পদার্থবিদদের মধ্যে যাঁরা চিত্রকর্ম ভালোবাসেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে ভেবেছেন। যত সময় যাচ্ছে, ততই তাঁরা পদার্থবিজ্ঞানের আলোকে তাঁর শিল্পকর্মকে দেখার চেষ্টা করেও কোনো মীমাংসায় পৌঁছাতে পারছেন না।
বৃত্ত আর্ট ট্রাস্টের আয়োজনে শিল্পী মাহবুবুর রহমানের পরিচালনা ও কিউরেটিংয়ে ‘বিয়ন্ড দ্য ব্রিফ’ বা ‘নির্দেশনার বাইরে’ নামে ১০ জন শিল্পীর যৌথ প্রদর্শনী চলছে বেঙ্গল শিল্পালয়ের কামরুল হাসান প্রদর্শনালয়ে। প্রদর্শনীর সময়সূচি ও অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
সোমা সুরভী জান্নাতের শিল্পযাত্রার একটি স্থানাঙ্ক হচ্ছে যুক্তরাজ্যের প্রাচীনতম পাবলিক জাদুঘর অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়াম। অক্সফোর্ডের এই শিল্প ও প্রত্ন জাদুঘরে এখন চলছে সুরভীর একক প্রদর্শনী।
গ্যালারি শিল্পাঙ্গনের আয়োজনে লালমাটিয়ার দ্য ইল্যুশন গ্যালারিতে চলছে ‘জি–৭ (গ্রুপ সেভেন)’ শীর্ষক দলীয় জলরং প্রদর্শনী। এতে অংশগ্রহণ করেছেন সাতজন শিল্পী।
লালমাটিয়ার ভূমি গ্যালারিতে ১০ জুলাই থেকে দুই সপ্তাহব্যাপী ‘রেইনস্কেপ’ শিরোনামের চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে; এতে ৭৫টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনী চলবে ২২ জুলাই পর্যন্ত।
রেমব্রান্ট। পুরো নাম রেমব্রান্ট হারমেনসজোন ফান রেইন। তাঁর বিখ্যাত ছবি ‘নাইট ওয়াচের’ গায়ে একটি শিল্ড আছে, সেখানে আঠারোটা নাম খোদাই করা। এই আঠারোজন আমস্টারডামের নাগরিক মিলিশিয়ার সদস্য ছিলেন। ব্যবসায়ী, দোকানদার, পেশাজীবী, যাঁরা শহরের নিরাপত্তায় স্বেচ্ছায় অংশ নিতেন।
প্রচলিত ধারণার বিপরীতে রং, রেখা ও টেক্সচারের স্বতঃস্ফূর্ত বিন্যাসের মাধ্যমে প্রকৃতিকে ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী শামছুল আলম আজাদ। গ্যালারি চিত্রকে তাঁর একক প্রদর্শনী ‘দৃশ্যমান কাঠামো’তে প্রদর্শিত হয়েছে তাঁর বিশেষ তিনটি সিরিজ।
শিল্পের ইতিহাসে শরীর কেবল জৈবিক উপস্থিতি নয়, বরং স্মৃতির ধারক ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্র। বুবলী বর্ণার সাম্প্রতিক শিল্পচর্চায় মাতৃত্বের মাধ্যমে শরীরের পরিবর্তন, পরিচয়ের রূপান্তর এবং অদৃশ্য শ্রমের প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে।
দীর্ঘদিন তাঁকে চেনানো হয়েছে দিয়েগো রিভেরার স্ত্রী হিসেবে। এখন সেটা উলটে গেছে। রিভেরা এখন পরিচিত হন ‘ফ্রিদা কাহলোর স্বামী’ হিসেবে। মেক্সিকোর দুই বড় চিত্রশিল্পীর মধ্যে খ্যাতির এই স্থানান্তর যতটা শৈল্পিক প্রশ্ন, ততটাই ক্ষমতার প্রশ্ন।
শিল্পী জাকিয়া খান চন্দনার তৃতীয় একক চিত্রপ্রদর্শনী ‘অবচেতন মনের বাস্তবতা’ সমসাময়িক বাংলাদেশের শিল্পচর্চায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন। ৩ জুলাই শুক্রবার আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী শিল্পীর দীর্ঘদিনের সুররিয়ালিস্ট অন্বেষণের একটি পরিণত রূপ। চন্দনার চিত্রকর্মে অবচেতন মন কেবল একটি মনস্তাত্ত্বিক ধারণা নয়, বরং একটি দৃশ্যমান পরাবাস্তববাদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তার ক্যানভাসে ভেসে ওঠে স্বপ্ন, স্মৃতি, আকাঙ্ক্ষা ও আত্মপরিচয়ের জটিল স্তর, যা বাস্তব ও কল্পনার সীমারেখাকে ভেঙে দেয়। এই প্রবণতা স্বভাবতই আমাদের মনে করিয়ে দেয় বিশ্বখ্যাত সুররিয়ালিস্ট শিল্পী সালভাদর দালির কথা, যিনি অবচেতন মনের চিত্রায়ণকে শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছিলেন।
সেই অর্থে এই প্রদর্শনীকে বলা যায় জাগতিক ও মহাজাগতিকের মধ্যে এক সৃজনশীল সেতুবন্ধের শিল্পভাষা। রাজধানীর সফিউদ্দিন শিল্পালয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনী শিল্পগুরু সফিউদ্দিন আহমেদের ১০৪তম জন্মবার্ষিকীর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য। তবে এই শ্রদ্ধা নিছক আনুষ্ঠানিক নয়; বরং একজন শিল্পীর আত্ম–অনুসন্ধানী যাত্রার মধ্য দিয়ে আরেক শিল্পগুরুকে স্মরণ। গত ২৬ জুন শুরু হওয়া প্রদর্শনীটি ৫ জুলাই পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে।
শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার গতকাল ২৯ জুন রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। গত বছর ৩ আগস্ট তাঁর এই সাক্ষাৎকার নেন এস এম রাকিবুর রহমান।
বাংলাদেশের সমসাময়িক শিল্পচর্চায় আজ একদিকে রয়েছে বাস্তবানুগ বা ফটোগ্রাফিক দক্ষতার প্রতি প্রবল আকর্ষণ, অন্যদিকে রয়েছে প্রকৃতি ও বাস্তবতাকে আত্মস্থ করে সেটিকে নতুন নন্দনভাষায় রূপ দেওয়ার প্রবণতা। রাজধানীর গ্যালারি কায়ার ২২তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ দলগত প্রদর্শনীটি দ্বিতীয় প্রবণতার এক বিস্তৃত ও তাৎপর্যপূর্ণ মানচিত্র হাজির করেছে। প্রদর্শনীতে ৪৫ জন আধুনিক ও সমসাময়িক শিল্পীর ৭৩টি নির্বাচিত শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। ১৯৫৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় সাত দশকের শিল্পযাত্রাকে একত্র করেছে এই আয়োজন।
‘ভূমি গ্যালারি’র উদ্বোধনী প্রদর্শনীর সাফল্যের পর, এবার তিন প্রজন্মের ১০ শিল্পীর সমসাময়িক কালে আঁকা চিত্রকর্ম নিয়ে ‘পারসিসটেন্স’ অর্থাৎ ‘সংকল্প’ নামে বিশেষ একটি চিত্রকর্ম প্রদর্শনী শুরু হয়েছে ১৯ জুন শুক্রবার। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আগে ও পরের অর্থাৎ গত শতকের সত্তর ও আশির দশকের আটজন স্বনামধন্য চিত্রশিল্পীর সঙ্গে এ শতকের শূন্য ও ১০ দশকের অপেক্ষাকৃত তরুণ দুজন শিল্পীও এ প্রদর্শনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এই দুই শিল্পী সহিদ কাজী ও আবদুল্লাহ আল বশীর।
অনিন্দিতা অনির এই প্রদর্শনী তাই কেবল নারীর গল্প নয়; এটি স্মৃতি, সময়, শরীর, সম্পর্ক ও অস্তিত্বের এক দীর্ঘ যাত্রার দৃশ্যরূপ। পাথরের নীরবতার ভেতর তিনি শুনিয়েছেন নারীর বহু উচ্চারিত ও অনুচ্চারিত কাহিনি। আর সেই কাহিনি পড়তে পড়তে দর্শকের মনে হয়—এ যেন রংতুলিতে লেখা এক উপন্যাস, যার প্রতিটি অধ্যায় একটি পাথর, আর প্রতিটি পাথরের ভেতর লুকিয়ে আছে এক একটি জীবন।