আলো নিভে গেলে
গোলাম শফিকের গল্প ‘আলো নিভে গেলে’
গোলাম শফিকের গল্প ‘আলো নিভে গেলে’
বুদ্ধ ও মীরা দুজন নদীর ধারে বসেছেন। গোধূলির আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে পলিথিন। বুড়িগঙ্গার দূষিত জলে ময়লার স্রোত। পাশের এক বস্তি থেকে শিশুর কান্না ভেসে আসে।
রানা ভিক্ষুর গল্প ‘পেইড ফ্রেন্ড’
আফ্রিকার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন রকম লোকগল্প আছে। তার মধ্যে প্রাণীদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সূচনা নিয়ে অসংখ্য লোককাহিনি প্রচলিত রয়েছে।
উদয় রহমানের গল্প ‘কানকাটা ভ্যান গঘ’
দেবদুলাল মুন্নার গল্প ‘মৃত্যুর পর’
একদিন নতুন নির্দেশ এল যে নজরুলের লেখা যেকোনো পাণ্ডুলিপি দ্রুত পরীক্ষা করে পাঠাতে হবে। হরিদাসের বুকের ভেতর কেমন যেন আনন্দ হলো।
উদয় রহমানের গল্প ‘কেক’
স্বকৃত নোমানের গল্প ‘পিতৃত্ব’
এমরান কবিরের গল্প ‘অজ্ঞাত অন্ধকারে’
রেজাউর রহমানের গল্প ‘কেনাবেচার হাট’
ধ্রুব এষের গল্প ‘লোক’ অবলম্বনে নারিন্দার ‘ভূতের গলি’ ঘিরে সন্ধ্যার রহস্য, লোকনাথ দাস ও অত্রি সুরের কথোপকথন এবং সম্পর্কের বদলে যাওয়ার কাহিনি।
বশীর আল্হেলালের গল্প ‘কালো সূর্য’
রীমা ইসলামের গল্প ‘শেষ ফোনকল’
চৈনিক লেখক লু সুনের (১৮৮১–১৯৩৬) নাম সুবিদিত। ‘শুঁড়িখানায়’ গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালের ২৫ মে সাংহাইয়ের ‘দ্য শর্ট স্টোরি ম্যাগাজিন’ নামের একটি সাময়িক পত্রিকায়। এই গল্পের আদি থেকে অন্ত পুরোটা লেখক স্বয়ং হাজির; আর আছেন তাঁর এক পুরোনো বন্ধু, গল্পে যার নাম উই-ফু।
ডিনস্টন সিমেট্রির নাম শুনেছেন? ওই যে শ্রীমঙ্গলে টি প্ল্যান্টার সাহেবদের কবরস্থান? ব্রিটিশ সাহেব, যারা কোম্পানির আমন্ত্রণে এ দেশে চা–শিল্পকে প্রতিষ্ঠিত করতে এসে আর নিজ ভূখণ্ডে ফিরে যেতে পারেনি। কেউ রোগে, কেউ বৃদ্ধ হয়ে, কারও শিশু, কারও স্ত্রী মারা যাওয়ার পর এই সুবিশাল চা–বাগানের সবুজে ঘেরা ডিনস্টন সিমেট্রিতেই এদের সমাহিত করা হয়েছে। আমি এখানকার বাসিন্দা লক্সমি। এখানে কীভাবে এলাম সে গল্পটাই বলছি।
ঢাকার গুমোট গরমে এক যুবক ও তার স্মৃতির আবর্তে কালবৈশাখীর আগমনে এক রহস্যময়ী মেয়ের সাথে সাক্ষাতের গল্প।
আমার নাম শফিক। বয়স ৩৩। এই দুটি তথ্য আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি। এর বাইরে আমার জীবনের কোনো তথ্যই নিশ্চিত না। বারবার বদলাতে থাকে। কারণটা ভেঙে বলি। আমার জীবন একটি না, দুটি।
পত্রিকা অফিসে প্রতিদিন অনেক যুদ্ধ হয়। কোন খবর লিড হবে, কোনটা যাবে নিচে, কোন শিরোনামে সম্পাদক ভ্রু কুঁচকাবেন, কোন রিপোর্টার দেরিতে কপি দেবেন—এসব যুদ্ধ তো আছেই। কিন্তু আমাদের অফিসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধটা হয় একটা ছবি নিয়ে। এই যুদ্ধে প্রাথমিক সৈনিক দুজন। আমি আর আমাদের ফটোগ্রাফার সাজিদ হোসেন।
তানভীর সাহেব বারান্দার পাশে খাম্বাটার দিকে তাকালেন। সন্ধ্যার অন্ধকারে খাম্বাটাকে অদ্ভুত শান্ত, মৃত একটা পাকুড়গাছের মতো দেখাচ্ছিল। তিনি নিজের বুকের ওপর হাত রেখে ধীরে বললেন, ‘হ্যাঁ, পেয়েছি। খেলনাগুলো মাটির নিচে লুকিয়ে ভুলে গিয়েছিলাম। শুধু অপেক্ষায় ছিলাম কখন ডাক আসে।’
সোহেল এক বিশিষ্ট ব্যাকবেঞ্চার। জীবনে একবারই সে সামনের বেঞ্চিতে বসেছিল, যেদিন তার আব্বা তাকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে হেডমাস্টারকে বলেছিলেন তার দিকে একটু বিশেষ দৃষ্টি রাখতে। সেদিন হেডস্যার নিজে তাকে ক্লাসে পৌঁছে দিয়ে ফার্স্ট বেঞ্চিতে বসিয়ে দিয়ে গেছিলেন। তার পর থেকে সে আর কখনো ভুলেও ফার্স্ট বেঞ্চিতে বসেনি। বসবেই–বা কেন? পড়ালেখার প্রতি ন্যূনতম আগ্রহ তার কোনোকালে ছিল না; ক্লাসে স্যাররা যা বলেন, তা মনোযোগ দিয়ে শোনার কোনো কারণ সে খুঁজে পায়নি কখনো। পরীক্ষায় সে কোনোমতে টেনেটুনে পাস করে, কখনো কখনো দু–এক সাবজেক্টে ফেলও করে। পড়ালেখায় লাড্ডুমার্কা বলে এমন নয় যে তার মাথায় গোবর পোরা। সিলেবাসের বইগুলো বাদে সব ব্যাপারে তার বিপুল আগ্রহ।
শ্যামল দাবি করে, মাঝে মাঝে কুয়ার ভেতর থেকে অস্পষ্ট কিছু আওয়াজ উঠে আসে। কোনো কোনো ঝিম-ধরানো দুপুরবেলা হয়তো সে বাড়ির ভেতরের দিকের বারান্দায় মাদুর পেতে শুয়েছে। তার ঘুম ভেঙেছে অচেনা কিছু শব্দ। অনুসন্ধান করে সে দেখেছে কুয়াতলা থেকে আসছে সেসব শব্দ। কিসের শব্দ? দুটো মানুষ যেন তর্ক করছে, বা কেউ কাউকে ডাকছে। অচেনা ভাষা। মাঝে মাঝে যান্ত্রিক শব্দও ভেসে আসে। যেন একটা ট্রেন যাচ্ছে কোথাও। কোনো কোনো অমাবস্যার রাতেও কুয়ার অতল থেকে শব্দ আসে। খুব মিহি। প্রায় শোনাই যায় না।
হেনরি স্যুটকেসটার সঙ্গে মাথা ঘষছে। সিনথিয়া ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। দৃশ্যটা কোনো কারণে আমার খুব ভালো লাগছে। স্যুটকেসটা একটু ঘুরে গেছে। এখন ওর আধখোলা চেইন দেখা যাচ্ছে। ওখান থেকে লাল-সবুজ চেকের একটা কাপড় উঁকি দিচ্ছে । আর পাশে সাদা পশমি কিছু। অনেকটা শীতের রাতে ঘুমানোর আগে পরার মোজার মতো। হঠাৎ করেই আমার মনে হলো, স্যুটকেসটা বাড়ি ফেরার জন্য গোছানো হয়নি। বাইরে আবার তুষার নামতে শুরু করেছে। ধীরে। একেবারে শব্দহীন।
২৫ মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে উড়ে আসা একটি বলে ব্যাকভলি করল শৌনক। ও শটটা নিয়েই পড়ে গিয়েছিল। সারা মাঠে যেন বোমা ফাটল। গো-ল! এর ঠিক ১০ মিনিট পর নিজেদের হাফ থেকে একটা বল পেল শৌনক। সেই বল নিয়ে আচমকা দিল দৌড়। কেউ বুঝতেই পারেনি, এত দূর থেকে কাউকে পাস না দিয়ে ও চলে যাবে প্রতিপক্ষ দলের গোলপোস্টের কাছে। কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার! দেখা গেল কিছুক্ষণের মধ্যেই বিপক্ষ দলের পাঁচজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোলকিপারের কাছে এসে হাজির হয়েছে শৌনক। গোলকিপার বেরিয়ে এসেছিল পোস্ট থেকে। শৌনক আলতো করে বলটি ওর মাথার ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দিল জালে।