নতুন গভর্নরের জোরালো স্বার্থের দ্বন্দ্ব রয়েছে, নিয়োগ বাতিল করতে হবে
বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন নিয়োগ পাওয়া গভর্নরের জোরালো স্বার্থের দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন নিয়োগ পাওয়া গভর্নরের জোরালো স্বার্থের দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
পদত্যাগের কারণ হিসবে মবের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহ। গতকাল বুধবার তিনি গভর্নরের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।
এ কে আজাদ বলেন, ১০ শতাংশ গ্যাস চোরাই লাইনে প্রভাবশালীরা নিচ্ছেন। তিতাসের লোক দিনের বেলায় অবৈধ সংযোগ কেটে আসেন, সন্ধ্যাবেলা আবার চালু হয়ে যায়।
আহসান এইচ মনসুরকে বিদায় করে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় হিসাববিদ ও পোশাক খাতের ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে। তিনি ছিলেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য।
একীভূত উদ্যোগে থাকা পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের নিয়ে সভায় আজ গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এ বার্তা দেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে যেভাবে অপসারণ করা হয়েছে, তা নিয়ে চরম সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের সংকট ও অনিশ্চয়তা কাটাতে তিনি কী করেছেন বা কী করেননি অর্থাৎ তাঁর সাফল্য ও ব্যর্থতার বিষয়টি নিয়েও পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছে। অর্থনীতিবিদদের কাছে তিনি প্রশংসনীয় হলেও ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকদের কাছে তিনি সমালোচিত। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাংকের গ্রাহকদের বড় অভিযোগ, তাঁর কারণে তাঁরা ব্যাংক থেকে তাঁদের আমানত তুলতে পারছিলেন না। আহসান এইচ মনসুরই তাঁদের টাকা আটকে দিয়েছেন। বিষয়টি কেমন? আসুন দেখা যাক।
নতুন গভর্নর বলেছেন, চলমান সংস্কারপ্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সরকারের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে সহযোগিতা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান ড. অ্যালান গ্রিনস্প্যানের বিদায়ী সংবর্ধনায় ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ রসিকতা করে বলেছিলেন যে গ্রিনস্প্যান নাকি একজন ‘রকস্টার’–এর সমতুল্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে একজন ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক কোয়ালিশন। আজ এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানানো হয়।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নতুন সরকার ও তার নেতৃস্থানীয় লোকজনের বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কথাবার্তা ও নীতিবাক্যে আশান্বিত হয়ে গত কিছুদিন আমাদের আর্থিক বাজার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা চিন্তা করছিলাম।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, নবনিযুক্ত গভর্নরের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। সরকার এ ধরনের সমালোচনাগুলো এড়িয়ে আরও ভালো নিয়োগ দিতে পারত।
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে আকস্মিক পরিবর্তন দেশের আর্থিক খাত নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নির্দেশে আহসান এইচ মনসুরের মেয়াদ বাতিল করা হয়। তিনিই নতুন গভর্নরের নাম দিয়ে নথি উপস্থাপনের নির্দেশনা দেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে।
সরকার আর্থিক খাতকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
একজন ঋণগ্রস্ত ব্যবসায়ী, পোশাকশিল্প ও রিহ্যাবের মতো খাতে নীতি দখলের সুবিধাভোগী, এমন একজনকে গভর্নর পদে নিয়োগের প্রভাব ব্যাংক খাতের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তা সরকারকে ভেবে দেখার অনুরোধ করেছে টিআইবি।
নতুন গভর্নরের প্রতি আস্থা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা। তাঁরা মনে করেন, ব্যাংকঋণের সুদহার কমানো, ব্যাংক খাতের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানোসহ আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
ব্যাংক খাতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করতে হয়, তাই অপেশাদার যেকোনো আচরণের খেসারত আমাদের দিতে হয়। আমরা আশা করব ব্যাংক ও আর্থিক খাতে পেশাদারি নিশ্চিত করতে নতুন গভর্নর ব্যবস্থা নেবেন।
ব্যবসায়ীর গভর্নর হওয়া যখন বিরল ঘটনা
নতুন সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদে অদল–বদল করবে, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু বিদায়ী গভর্নরের প্রস্থান যেভাবে হলো, তা ওনার প্রাপ্য ছিল না। তাঁর সম্মানজনক বিদায় হতে পারত।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুধু মুদ্রানীতি প্রণয়নকারী একটি সংস্থা নয়; এটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার প্রধান নিয়ন্ত্রক ও তদারকি কর্তৃপক্ষ, আর্থিক স্থিতিশীলতার শেষ ভরসা।
বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এসেছি; কাজ শুরু করি; তারপর কথা বলা যাবে।’
কী যোগ্যতা থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হওয়া যাবে, এ নিয়ে উন্নত দেশগুলোতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও বাংলাদেশে তা নেই।
ইংল্যান্ড বা কানাডা অত্যন্ত প্রভাবশালী দেশ। ফলে মার্ক কার্নির নিয়োগ নিয়ে সে সময় তুমুল আলোচনা হয়েছিল। বাংলাদেশ সে তুলনায় ছোট অর্থনীতির দেশ।