ধ্বংসের মাঝেই পুনর্জাগরণের বার্তা ‘আলো’
পুড়ে যাওয়া কম্পিউটার, যন্ত্রাংশ, ভাঙা আসবাস ও বইপত্রের ধ্বংসাবশেষ দেখে অনেকেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়ছেন।
পুড়ে যাওয়া কম্পিউটার, যন্ত্রাংশ, ভাঙা আসবাস ও বইপত্রের ধ্বংসাবশেষ দেখে অনেকেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়ছেন।
জাতিসংঘ মিশনের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়ন্ত অধিকারী এসেছিলেন সস্ত্রীক। তিনি বললেন, ‘এই প্রদর্শনী হওয়া খুবই দরকার ছিল।
সাংবাদিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের সংবাদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক সংগঠন সুজন।
চার সাংবাদিককে বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
দর্শকেরা এই শিল্প-আয়োজনে দেখছেন পুড়ে যাওয়া কম্পিউটার, যন্ত্রাংশ, টেবিল, চেয়ার, বই, নথিপত্র ও সেখান থেকে জেগে ওঠার প্রাণশক্তি।
বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদকে সরাতে ‘মব’ সৃষ্টি এবং বেসরকারি চ্যানেল এখন টেলিভিশনের চার সাংবাদিককে শোকজ করার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে এনসিপি।
উগ্রবাদীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তকণ্ঠ ভবনে চলছে শিল্প-আয়োজন ‘আলো’।
নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, মুক্তকণ্ঠ ভবন যেভাবে পোড়ানো হয়েছে, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
উগ্রবাদীদের সুসংগঠিত হামলা ও আগুনে পুড়ে যাওয়া মুক্তকণ্ঠ ভবনে শিল্প প্রদর্শনীতে এসে বিদেশি কূটনীতিকেরা সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের প্রতি তাঁদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
মুক্তকণ্ঠ ভবনে গত ১৮ ডিসেম্বর একদল উগ্রবাদী হামলা করে লুটপাট চালায় ও অগ্নিসংযোগ করে। দগ্ধ ভবনটি নিয়ে ‘আলো’ নামে ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম করেছেন বিশিষ্ট শিল্পী মাহ্বুবুর রহমান।
সেই রাতে ফ্ল্যাশ দিয়ে ছবি তোলা ছিল ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ। আমি নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করি। কয়েকটি ছবি তোলার পর শাহবাগ থেকে আসা মিছিলটির জন্য অপেক্ষা করতে থাকি।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রতিহিংসায় উন্মত্ত একদল উগ্রবাদী এসে হামলা করে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দেশের প্রধান গণমাধ্যম প্রথম আলো ভবনে। তারা ভবনটির শাটার ও বড় বড় কাচের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। লুটপাট চালায়। আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা বাহিনীর অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ।
ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে সংঘর্ষের ঘটনায় কিছু গণমাধ্যমের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
নির্বাচনকালীন সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।
অন্তর্বর্তী সরকার হঠাৎ করে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের দুটি খসড়া প্রকাশ করা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে আর্টিকেল নাইনটিন।
ভবিষ্যৎ সরকারগুলো অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যমের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরিতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ১০ মাসেও কোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি।
সংলাপে আলোচনায় একাধিকবার মুক্তকণ্ঠ ও ডেইলি স্টার–এর কার্যালয়ে হামলা–অগ্নিসংযোগের প্রসঙ্গ আসে।
এ কে আজাদ বলেন, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে ঠিক না করতে পারলে, সমালোচনা করতে না পরলে ‘ইথিক্যাল জার্নালিজম’ করা সম্ভব নয়।
দঙ্গলবাজিকে উৎসাহিত করা হলে, পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে চিন্তার আর অবকাশ থাকবে না বলে সতর্ক করেছেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ।
ইউনেসকো জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সব সরকারের আমলেই পত্রিকাটি থাকে সরকারের অপছন্দের তালিকায়, মুক্তকণ্ঠ সরকারি বিজ্ঞাপন পায় না, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রবেশ বঞ্চিত থাকে। কারণ, মুক্তকণ্ঠ ক্ষমতাকে প্রশ্ন করে।
সাংবাদিকের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মাহফুজ আনাম বলেন, সাংবাদিক সমাজের ‘সামাজিক চিকিৎসক’।