রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোট ইস্যুতে এত বিতর্ক কেন
সব পক্ষকেই সতর্ক থাকতে হবে যে রাষ্ট্র সংস্কার যেন কোনো বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য না হয়।
সব পক্ষকেই সতর্ক থাকতে হবে যে রাষ্ট্র সংস্কার যেন কোনো বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য না হয়।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ অধিবেশন নিয়ে সংসদে মুলতবি প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। গণভোটে ৭০ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়লেও পরিষদের অধিবেশন আহ্বান হয়নি বলে তারা দাবি করেছেন। স্পিকার নোটিশ পরে দেখবেন বলেছেন।
জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ‘গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম’ রবিবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে মানববন্ধন করে। সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন বলেন, জুলাই হয়েছিল যাতে বাংলাদেশ আর কোনো দিন কোনো স্বৈরাচারের মুখে না পড়ে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি সংবিধানের নাম করে গণভোটের রায় অস্বীকার করছে এবং এতে রাজনৈতিক আস্থার সংকট দেখা দেবে। তিনি দ্রুত গণরায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের সভায় তিনি বিএনপির দ্বিচারিতা এবং অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিএনপির উপর ‘অতিসাংবিধানিকতা’র অভিযোগ তুলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। দলের মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ সংবিধানের প্রতি অতিভক্তি বন্ধ করে গণরায় মেনে চলার আহ্বান জানান। তারা গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে সরকারের দ্বিমুখী অবস্থানকেও সমালোচনা করেছে।
একনায়কতান্ত্রিক ও কঠোর নিয়ন্ত্রণবাদী চরিত্রের কারণে এবং নিজের জনগণকে গণহারে হত্যার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সরকার সাংবিধানিক অধিকার ও বৈধতা হারিয়ে ফেলেছিল।
জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনি গোশত মানেন, কিন্তু ঝোল খাইতে রাজি না। একই তরকারি, একই বাসনে পাকানো হয়েছে। গোশতটা খেয়ে নিলেন, বলতেছেন ঝোলটা হারাম।’
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ২০টির বিষয়ে এখনো একমত হতে পারেনি জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করে কার লাভ হচ্ছে, সেই প্রশ্ন রাখেন সুজন সম্পাদক।
বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করে গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করবে, আশা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তরুণ প্রজন্ম সজাগ রয়েছে; জুলাই বিনষ্টের চক্রান্ত সফল হতে দেওয়া হবে না। নির্বাচনে ফলাফল কারচুপির রহস্য ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে।
জামায়াত বলেছে, পরিকল্পিতভাবে জুলাই সনদ নিয়ে রিট পিটিশন দায়ের করিয়ে পর্দার আড়াল থেকে ইন্ধন দেওয়া হলে তা হবে দ্বিচারিতা ও আত্মঘাতী পদক্ষেপ।
পৃথক দুটি রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ রুল দেন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের বিষয়ে আদালতের রায় দেখেই রাজনৈতিক কর্মসূচির বিষয়ে চিন্তাভাবনা করবে জামায়াতে ইসলামী।
পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন সংসদীয় আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’–এর চেয়ে ‘না’ ভোট বেশি পড়েছে। তিন আসনে ‘না’ ভোট দিয়েছেন ৪ লাখ ২৫ হাজার ৯০৩ জন। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৯১ জন। অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’–এর চেয়ে ‘না’ ভোট বেশি পড়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪১২টি।
ফলাফল প্রকাশের ১৩ দিন পর গণভোটের ফলাফল সংশোধন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, গণভোটে যেটা পাস হয়েছে, তা সংবিধানে যা আছে তার থেকে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
জুলাই সনদের কিছু বিষয়ে বিএনপির ভিন্ন অবস্থান বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আছে। এ অবস্থান নিয়েই বিএনপি জনগণের সামনে হাজির হয়েছিল এবং জনগণ তাদেরকে বিপুলভাবে এবং দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যৌক্তিক প্রশ্নটি হচ্ছে, জুলাই সনদ তাহলে কীভাবে বাস্তবায়িত হবে?
বিএনপি সরকার গণভোটের পক্ষে জনরায়ের পর মানুষের প্রত্যাশা রক্ষা করবে, এমন আশার কথা জানিয়েছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপির প্রতিনিধিদের শপথ না নেওয়ার ফলে দলটির ও দেশের জন্য নতুন সূচনা যথার্থ হলো না।
রাষ্ট্রপতির কোনো আদেশ যদি তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত শপথের বাইরে নতুন কোনো শপথ গ্রহণে বাধ্য করার চেষ্টা করে, তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়াবে।
বাংলাদেশের রাজনীতির এই পর্যায়ে এসে আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে আমাদের সংকটের কেন্দ্রবিন্দু সংবিধান। গণ-অভ্যুত্থানের পর যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছিল, সেটাকে কীভাবে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে স্থিতিশীল ও টেকসই রূপ দেওয়া যায়, সেই প্রশ্নটাই এখন প্রধান বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
গণভোটের ফলাফল স্থগিত চেয়ে রিট
সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী আবেদনকারী হয়ে আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন।