ঋণখেলাপিরা রাজনৈতিক ব্যবস্থার অংশ হয়ে গেছে: রেহমান সোবহান
রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের সময় বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও তাদের ভেতরে সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য প্রকৃত নেতৃত্ব বা অঙ্গীকার কতটা আছে, তা স্পষ্ট নয় বলে মনে করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান।
রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের সময় বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও তাদের ভেতরে সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য প্রকৃত নেতৃত্ব বা অঙ্গীকার কতটা আছে, তা স্পষ্ট নয় বলে মনে করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান।
বিএনপি সরকার একীভূত পাঁচ ব্যাংকের মালিকানা আবার পুরোনো মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ রেখে আইন তৈরি করেছে।
ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ক্ষুন্ন করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন তুলে ধরেছে এর প্রভাব এবং নিয়ন্ত্রণের উপায়। বিগত সরকারের আমলে লুটপাট এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত।
অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে ১১টি এস আলম গ্রুপের, সালমান এফ রহমানসহ সাবেক এমপি-উপদেষ্টাদের কোম্পানি রয়েছে। মোট খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার কোটি ছাড়িয়েছে।
জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যাংকিং খাতের মোট খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা জানিয়েছেন। এমপি-দের খেলাপি ঋণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। শীর্ষ ২০ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন।
অর্থমন্ত্রী সংসদে জানান, ২০২৫ সালের শেষে খেলাপি ঋণ প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে। সংসদ সদস্যদের খেলাপি ঋণ ১১ হাজার কোটির বেশি। শীর্ষ ২০ খেলাপির তালিকায় এস আলম গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের শীর্ষ ১২০ খেলাপির কাছে ৯২ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা পাওনা, ২০২৫ সালে আদায় মাত্র ৪৬৯ কোটি। বিপুল খেলাপি ও মূলধন ঘাটতির কারণে ব্যাংকগুলোর অবস্থা চিন্তাজনক। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ খেলাপি আদায়ের কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে।
কিছু টাকা শোধ ও আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন ৯ জন। আরও ২ জন অপেক্ষায়।
পরিচালন মুনাফা থেকে নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে। নতুন এই ব্যবস্থা ২০২৮ সাল থেকে কার্যকর হবে।
এ কে আজাদ বলেন, ১০ শতাংশ গ্যাস চোরাই লাইনে প্রভাবশালীরা নিচ্ছেন। তিতাসের লোক দিনের বেলায় অবৈধ সংযোগ কেটে আসেন, সন্ধ্যাবেলা আবার চালু হয়ে যায়।
খেলাপি ঋণ আদায়ে বিকল্প পদক্ষেপের পরামর্শ গভর্নরের
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে যেভাবে অপসারণ করা হয়েছে, তা নিয়ে চরম সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের সংকট ও অনিশ্চয়তা কাটাতে তিনি কী করেছেন বা কী করেননি অর্থাৎ তাঁর সাফল্য ও ব্যর্থতার বিষয়টি নিয়েও পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছে। অর্থনীতিবিদদের কাছে তিনি প্রশংসনীয় হলেও ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকদের কাছে তিনি সমালোচিত। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাংকের গ্রাহকদের বড় অভিযোগ, তাঁর কারণে তাঁরা ব্যাংক থেকে তাঁদের আমানত তুলতে পারছিলেন না। আহসান এইচ মনসুরই তাঁদের টাকা আটকে দিয়েছেন। বিষয়টি কেমন? আসুন দেখা যাক।
আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, জালিয়াতি, প্রতারণা ও দুর্নীতির উচ্চমাত্রার প্রভাব পড়ে খেলাপি ঋণে।
সদ্য বিদায়ী গভর্নর কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়ে রিজার্ভ ও ডলার–সংকটসহ তখনকার সংকটগুলো সামাল দিয়েছেন। এখন নতুন গভর্নরকে চলমান সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করে ব্যাংক খাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
গত বছরের মাঝামাঝিতে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ১৯ শতাংশে উন্নীত হয়। নানা উদ্যোগের ফলে বছর শেষে তা ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
এখন থেকে এককালীন ১ শতাংশ টাকা জমা দিয়েই ঋণ পুনঃ তফসিলকরণের সুবিধা নেওয়া যাবে।
১০ কোটি টাকার কম ঋণে গড় খেলাপির হার সাড়ে ২১ শতাংশ। আর ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণে খেলাপির হার ৫১ শতাংশ। অর্থাৎ বড় ঋণের অর্ধেকের বেশি খেলাপি।
ভয়ংকর উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ, বারবার ঘটে যাওয়া ঋণ জালিয়াতির সব ঘটনা, স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ দেওয়ার প্রবণতার কারণে ব্যাংকিং খাতের ওপর মানুষের আস্থা তলানিতে।
পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ব্যাংকগুলোর ঋণের ৩৬ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের।
গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
খেলাপি ঋণের ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংককে দিয়েছে ব্যাংকগুলোর নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)।
নির্বাচিত হলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে—বিএনপির এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সুশাসনের ব্যর্থতা। সরকার ও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পরিবারের নির্দেশে ঋণ দেওয়া হয়েছে।
রপ্তানিমুখী ও স্থানীয় জাহাজনির্মাণ শিল্পের ঋণ পুনঃ তফসিল ও পুনর্গঠনে বিশেষ নীতিমালা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে মাত্র দেড় শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে ঋণ নবায়ন করতে পারবেন এ খাতের উদ্যোক্তারা।