ইবনে খালদুনের মুকাদ্দিমা কেন এখনো পাঠ্য
জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে তিনি রাজনৈতিক জীবন থেকে কিছুটা দূরে সরে আলজেরিয়ার নির্জন এলাকায় অবস্থান করেন এবং ‘কিতাবুল ইবার’ গ্রন্থের ভূমিকা হিসেবে ‘মুকাদ্দিমা’ রচনা করেন।
জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে তিনি রাজনৈতিক জীবন থেকে কিছুটা দূরে সরে আলজেরিয়ার নির্জন এলাকায় অবস্থান করেন এবং ‘কিতাবুল ইবার’ গ্রন্থের ভূমিকা হিসেবে ‘মুকাদ্দিমা’ রচনা করেন।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা।
লেবানন, মিসর ও পাকিস্তানের মোট চারটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এসেছে এবার। মেলায় মোট স্টল রয়েছে ১৭৯টি।
জীবনে হঠাৎ নেমে আসা অন্ধত্ব বা পক্ষাঘাতের মতো কঠিন পরিস্থিতিতে পরিবার ও ব্যক্তিকে মানসিক সাহস জোগাতে সমবেদনা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা গড়ে উঠেছিল তখন।
বইটিতে বয়স ধরে ধরে সাজানোর ব্যাপারটাও চমৎকার। পাঠক নিজের বর্তমান বয়সে দাঁড়িয়ে দেখতে পারেন, ঠিক এই বয়সে নবীজি কী ধরনের অবস্থার মুখোমুখি হয়েছিলেন।
ইসলামি দর্শনকে গ্রিক চিন্তার অনুবাদ হিসেবে দেখানোর প্রবণতার বিপরীতে ইসলামি ঐতিহ্যে স্বাধীন বুদ্ধিচর্চা ও যুক্তিভিত্তিক বিচারপ্রক্রিয়ার বিকাশের কথা তুলে ধরেছে প্রাসঙ্গিক আলোচনাগুলো।
মুসলিম ঐতিহাসিকেরা ইতিহাস লিখনপদ্ধতিতে দুটি প্রধান বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। ইতিহাসকে রূপকথা বা অতিরঞ্জন থেকে মুক্ত করে তথ্যভিত্তিক ও যৌক্তিক বিজ্ঞানে রূপান্তর করার কৃতিত্ব মুসলমানদের।
তারিখে বুখারার রচয়িতা আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল-বুখারি (৩৩৭-৪১২ হি./৯৪৮-১০২৮ খ্রি.) ‘গুনজার’ নামেই বেশি পরিচিত। মূল গ্রন্থটির প্রাচীন পাণ্ডুলিপি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি; তবে পরবর্তী আলেমদের উদ্ধৃতিতে বইটির গুরুত্ব ও বিন্যাসের নানা দিক ধরা পড়ে।
ইসলামের ইতিহাসের আলোচনাতেও রাশিয়ার ও সেখানকার মুসলমানদের প্রসঙ্গ সেভাবে স্থান পায় না। অথচ রুশ দেশ থেকে হজ সফরের কাহিনি কম চিত্তাকর্ষক নয়।
ইতিহাসের সাপেক্ষে পড়লে একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন ওঠে: মীর মশাররফ হোসেন কি ইতিহাস লিখেছিলেন, নাকি ইতিহাসের পটভূমিতে দাঁড়িয়ে একটি সাহিত্যিক কল্পনা গড়ে তুলেছিলেন?
আব্বাসীয় আমলে বাগদাদে কাগজ তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই প্রকাশনাশিল্প দ্রুত বিস্তার লাভ করে। আজকের প্রকাশকদের পূর্বসূরি ছিল এই ওয়াররাক সম্প্রদায়।
কর্দোবার অভিজাতদের অনুসরণে সাধারণ ধনাঢ্য নাগরিকদের মধ্যেও ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার রাখার রীতি একপ্রকার সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
বই পোড়ানোর অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী এবং ক্ষমতার রাজনীতির প্রত্যক্ষ মদদে। যেকোনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো মুক্তচিন্তাকে ভয় পাওয়া।
তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ অমর কীর্তি হলো ‘তাফসিরে ইবনে কাসির’। এর মূল শক্তি হলো—কোরআনের আয়াত দ্বারা কোরআনের ব্যাখ্যা এবং সহিহ হাদিসের যথাযথ প্রয়োগ।
শুধু মুখস্থের ওপর ভরসা করা হতো না। কোনো লেখা তখন পর্যন্ত গ্রহণ করতেন না, যতক্ষণ না এর পেছনে সাক্ষ্য থাকত যে এটি রাসুলের সামনে লিপিবদ্ধ করানো হয়েছে।
ওসমানিয়া শাসকরা মূলত সুলতান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। যদিও পরবর্তীকালে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানরা অনেকেই তাঁদেরকে খলিফা ও ওসমানিয়া সাম্রাজ্যকে ওসমানিয়া খিলাফত হিসেবে অভিহিত করেছেন।
জুওয়াইনি এমন এক রাজনৈতিক দর্শনের অবতারণা করলেন, যা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বিপর্যয় বা ‘রাষ্ট্রহীন অবস্থা’ কল্পনা করে তার আইনি কাঠামো তৈরি করে রাখে।
এখন সড়ক ও সমুদ্র পথের চেয়ে আকাশপথে অনেক বেশি হজযাত্রীর আগমন ঘটে। অথচ ১০০ বছর আগেও হজ সফরের জন্য সড়ক ও নৌপথের ওপরই নির্ভর করতে হতো।
কাতারের আওকাফ মন্ত্রণালয় থেকে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে, যা ইতোমধ্যে হয়ে উঠেছে সিরাত সাহিত্যের অনিবার্য পাঠ। বিশুদ্ধ বর্ণনার বাইরে এতে কিছুই স্থান দেওয়া হয় নি।
বইটি প্রকাশের পর থেকে ইংরেজিভাষী মুসলিম–মুসলিম পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। বইটি দেখলে জীবনীগ্রন্থ মনে হয় না, বরং যেন একটি সুপরিকল্পিত ‘স্টাডি গাইড’।
ইমাম ইবনে রজব তাঁর কিতাবটি শেষ করেছেন তওবার আলোচনার মাধ্যমে। তিনি একে অভিহিত করেছেন ‘জীবনের সব সময়ের আমল’ হিসেবে। মানুষ তওবার মাধ্যমে আমলনামা পরিচ্ছন্ন করে।
পারস্য সাহিত্যের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো নসিহতমূলক চরিত্র। ফারসি কাব্য ও গদ্যে নৈতিকতা, সামাজিক ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন সমাজে অত্যন্ত গভীর প্রভাব ফেলেছে।
ইউরোপীয় মানসে মুসলমানদের প্রায়ই ‘আগন্তুক’ বা ‘বহিরাগত’ হিসেবে দেখা হয়। সাংবাদিক ও ভ্রমণলেখক তারিক হুসাইনের নতুন বই এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছেন।