প্রথম আব্বাসীয় খলিফার বায়াত, মাকদিসির ইন্তেকাল
৩০ রমজান উমাইয়া খেলাফতের পতনের পর কুফায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম আব্বাসীয় খলিফা হিসেবে আবুল আব্বাস আস-সাফফাহর জন্য আনুগত্যের শপথ নেওয়া হয়।
৩০ রমজান উমাইয়া খেলাফতের পতনের পর কুফায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম আব্বাসীয় খলিফা হিসেবে আবুল আব্বাস আস-সাফফাহর জন্য আনুগত্যের শপথ নেওয়া হয়।
ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের আমলে ২৯ রমজানে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বার্ষিক হিসাব চূড়ান্ত করার রেওয়াজ ছিল। যাতে ঈদের আগেই দরিদ্রদের প্রাপ্য হক মিটিয়ে দেওয়া যায়।
একটি যুদ্ধের মাধ্যমেই স্পেনে আটশ বছরের মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়, যা ইউরোপকে অন্ধকার যুগ থেকে বের করে আধুনিক বিজ্ঞান ও দর্শনের আলো দেখায়।
২৪ হিজরিতে খলিফা ওসমান (রা.)-এর আমলে বছরে দুবার কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তনের রীতি শুরু হয়, যার একটি ছিল রমজানের ২৭ তারিখে।
এই দিনে নবীজির (সা.) নেতৃত্বে পরিচালিত দীর্ঘ ও কঠিনতম এক অভিযানের সফল সমাপ্তি ঘটে এবং মুসলিম বিশ্বের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু কায়রো থেকে ইস্তাম্বুলে স্থানান্তরিত হয়।
এই দিনে আরবের বুক থেকে মূর্তিপূজার চূড়ান্ত বিনাশ ঘটে। মঙ্গোল বাহিনীও পরাজিত হয় এই দিন, ফলে মানবসভ্যতা নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়।
এই দিনে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় লাইব্রেরির যাত্রা শুরু হয়, আবার আধুনিক ইতিহাসের মহান গবেষক ও সংস্কারকদের বিদায় জ্ঞানজগতকে শোকাতুর করেছে।
এই দিনে একদিকে যেমন আরবের বুক থেকে প্রাচীন মূর্তিপূজার প্রাতিষ্ঠানিক অবসান ঘটেছিল, তেমনি পতন ঘটেছিল প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম পরাক্রমশালী পারস্য সাম্রাজ্যের।
তাঁর ৫০ বছরের শাসনামলে কর্ডোভা হয়ে ওঠে বিশ্বের জ্ঞান ও কূটনীতির প্রাণকেন্দ্র। তাঁর নির্মিত ‘মদিনাতুজ জাহরা’ প্রাসাদটি তৎকালীন বিশ্বের বিস্ময় হিসেবে পরিচিত ছিল।
শেখ ইজ্জুদ্দিন আল–কাসসামের সহযোদ্ধা রমজানে রোজা রাখা অবস্থায় হাসিমুখে ফাঁসির দড়ি গলায় পরেন। তাঁর শাহাদত ফিলিস্তিনের মহান বিপ্লবের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছিল।
২০ রমজান আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে মক্কা বিজয় সংঘটিত হয়। একই দিনে ব্যাবিলন দুর্গ জয় হয়, সাইপ্রাস জয় হয়।
ইতিহাসের পাতায় ১৯ রমজান। একদিকে এই দিনে আন্দালুসের (স্পেন) বিজয়ের দ্বার উন্মোচিত হয়, তেমনি কয়েক শতাব্দী পর একই দিনে পতনের ঘণ্টা বাজে।
ইতিহাসের এই দিনে (১৮ রমজান) বিদায় নেন মুসলিম সেনাপতি খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.)। একই সময় মুসলিম বিশ্বের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ঘটেছিল বড় বড় পালাবদল।
১৭ রমজানকে বলা হয় ‘ইয়াওমুল ফুরকান’ বা সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী দিন। এই দিনে বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং ইসলামের প্রথম কৌশলগত বিজয় অর্জন হয়।
এই দিনে ইসলামের প্রথম বড় যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারিত হয় পানির কূপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে। এই দিনেই হজরত আয়েশা (রা.) দুনিয়া থেকে বিদায় নেন।
১৫ রমজান দিনটি ঘটনাবহুল। একদিকে যেমন এই দিনে মহানবী (সা.)–এর দৌহিত্রের আগমনে ঘটে, তেমনি এটি বিশ্বকে মঙ্গোলদের হাত থেকে রক্ষার ঐতিহাসিক সাক্ষী।
নেপোলিয়ন মোকাত্তাম পাহাড় থেকে আজহার মসজিদের ওপর কামানের গোলা বর্ষণ করেন এবং ফরাসি ঘোড়সওয়ার বাহিনী মসজিদের পবিত্র চত্বরে প্রবেশ করে।
হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ সাকাফি ইরাকের ওয়াসিত শহরে মারা যান। ত্যুর সময় তাঁর মুখে কেবল প্রখ্যাত তাবেয়ি সাইদ ইবনে জুবায়েরের নাম উচ্চারিত হচ্ছিল, যাঁকে তিনি হত্যা করেছিলেন।
ইবনে তুলুন চেয়েছিলেন আল্লাহর ঘর যেন জনসাধারণের করের টাকায় তৈরি না হয়। পরে তিনি একটি গুপ্তধন খুঁজে পান, যার পরিমাণ প্রায় ১২ লক্ষ দিনার।
৬৫৫ হিজরির ১১ রমজান (১২৫৭ খ্রিষ্টাব্দ) বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফা মুতাসিম বিল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের নির্দেশ পাঠিয়ে মঙ্গোল নেতা হালাকু খান এক চরমপত্র প্রদান করেন।
আবু তালিবের মৃত্যুর কিছুকাল পরে এই দিনে খাদিজা (রা.)-এর বিদায় নবীজির জীবনে বিশাল শূন্যতা তৈরি করে, যা ইতিহাসে শোকের বছর হিসেবে পরিচিত।
এই দিনে একদিকে সিসিলির উপকূলে মুসলিম নৌবাহিনীর নোঙর ফেলে, অন্যদিকে বৃহত্তম মুসলিম প্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়া অর্জন করেছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বাধীনতা।
এই দিনে মদিনা রাষ্ট্র রোমানদের হুমকির মুখে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছিল, অন্যদিকে সজাগ হয়েছে আন্দালুসের সীমান্ত এবং যাত্রা শুরু করেছে সেলজুক সাম্রাজ্য।
এই দিনে ফাতেমি সেনাপতি জওহর আল-সিকিল্লির তত্ত্বাবধানে নির্মিত আল-আজহার মসজিদে প্রথমবারের মতো জামাতে নামাজ এবং আজান অনুষ্ঠিত হয়।