রমজান শেষ, আমলও কি শেষ
পবিত্র রমজান মাস বিদায় নিয়েছে। অনেক মুসলমান এই এক মাস ইবাদত-বন্দেগিতে খুব মশগুল থাকেন, কিন্তু মাস শেষ হতেই আবার আগের গাফিলতিতে ফিরে যান।
পবিত্র রমজান মাস বিদায় নিয়েছে। অনেক মুসলমান এই এক মাস ইবাদত-বন্দেগিতে খুব মশগুল থাকেন, কিন্তু মাস শেষ হতেই আবার আগের গাফিলতিতে ফিরে যান।
আল্লাহর অনুগত হলে সব ধরনের মন্দ কাজ থেকে বাঁচা সহজ হয়। যেমন আল্লাহ-তাআলা ইউসুফ (আ.)-কে মিসরের আজিজের স্ত্রীর অনিষ্ট থেকে হেফাজত করেছিলেন।
‘নামাজ কায়েম’ বলতে কেবল দায়সারাভাবে পড়া নয়, বরং নামাজের নিয়ম-কানুন, সময় ও একাগ্রতা বজায় রেখে যথাযথভাবে আদায় করাকে বোঝানো হয়েছে।
এই আমলটির ভিত্তি বা সংশ্লিষ্ট হাদিসটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলেমদের মধ্যে কিছু বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে হাফেজ ইবনুদ দিহিয়া এই হাদিসটিকে দুর্বল প্রমাণের চেষ্টা করেছিলেন।
যখন একজন বান্দা পূর্ববর্তী নেক আমল করার পর পুনরায় নেক আমল করার তাওফিক পান, সেটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আমল কবুলের একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে।
যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় একটি ইবাদত করা যায় যা আমাদের অনেকেরই অজানা। আর তা হলো দোয়া করা।
দিনের বেলায় কিছুটা ঘুমিয়ে নিন। এতে রাত জেগে ইবাদত করার শক্তি পাবেন। মাগরিবের পর যেন পুরোপুরি ইবাদতে ব্যয় করতে পারেন, তাই প্রয়োজনীয় কাজগুলো সেরে রাখুন।
রমজানে কোরআনের ছোঁয়ায় মুমিনের অন্তর উদ্বেলিত হয়, হৃদয়ে নামে হেদায়েতের বসন্ত। আর সে বসন্ত পূর্ণতা পায় তারাবির নামাজে কোরআন পাঠের মাধ্যমে।
জীবনের নানা ব্যস্ততায় খতম সম্পন্ন করা হয়ে ওঠে না। এই নিবন্ধে ১০টি কার্যকর পদ্ধতি তুলে ধরা হলো, যা রমজানে কোরআন খতম করতে সহায়তা করবে।
ইতিকাফের একটি বড় ফায়দা হলো—ইতিকাফকারী অত্যন্ত পবিত্র ও গুনাহমুক্ত পরিবেশে থাকেন। শরিয়তের দৃষ্টিতে মসজিদে তাঁর অবস্থানটুকুই ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়।
রোজা মানুষকে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে শেখায়। কিন্তু দোয়া কবুলের শর্ত হলো—আল্লাহর নির্দেশ মান্য করা এবং তাঁর ডাকে সাড়া দেওয়া। নিছক মুখের কথা যথেষ্ট নয়।
লাইলাতুল কদর এমন একটি রাত, যার মর্যাদা হাজার মাসের চেয়েও বেশি। অর্থাৎ এক রাতের ইবাদত তিরাশি বছর চার মাসের বেশি সময়ের ইবাদতের সমান।
রোজা সেই প্রশিক্ষণের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর উদ্দেশ্য কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করা নয়; বরং তাকওয়া অর্জন, আত্মসংযম শেখা এবং আল্লাহকেন্দ্রিক জীবন গঠন করা।
নবীজি তাঁর উম্মতকে রমজানে চারটি আমল বেশি করতে বলেছেন। এর মধ্যে দুটি হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, আর দুটি আমল এমন, যা না করে বান্দার উপায় নেই।
‘রমজান’ শব্দটির আভিধানিক অর্থই হচ্ছে উত্তাপ, তাপের উচ্চমাত্রা বা পুড়িয়ে দেওয়া। রমজানকে তাই বলা যায়, গুনাহগার বান্দাদের গুনাহগুলো পুড়িয়ে নিজেদের শুদ্ধ করার মাস।
রমজানে কোরআন শিক্ষা করা, কোরআন শেখানোর উদ্দেশ্যে জমায়েত হওয়া এবং অধিকহারে কোরআন তেলাওয়াতে মগ্ন থাকা—এসব আমল বিশেষভাবে মুস্তাহাব ও ফজিলতপূর্ণ বিবেচিত হয়েছে।
রমজান এলে অনেক গর্ভবতী বোনের মনে প্রশ্ন জাগে—আমি কি রোজা রাখতে পারব? না রাখলে কি গুনাহ হবে? আমার ইবাদত কি কমে যাবে?
রমজানের দরজা সবার জন্যই খোলা—সুস্থ ও অসুস্থ, শক্ত ও দুর্বল, প্রস্তুত ও অপ্রস্তুত সবার জন্য। এই লেখা তাঁদের জন্য, যাঁরা চাইছেন কিন্তু পারছেন না, চেষ্টা করছেন কিন্তু পিছিয়ে পড়ছেন।
পুরো মাস রমজানের রোজা রেখে আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ তাঁর আরও প্রিয় হয়ে ওঠেন। বরকতের নদী উপচে পরে মহান বান্দার ওপর। তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ পুরস্কার।
রমজানের ইবাদতের আরও একটি গভীর ও নীরব দিক আছে। সেটি হলো— যা আমরা করি, তা দিয়ে নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যা আমরা ‘করি না’ বা বর্জন করি।
বলা হয়, “দুনিয়ার জন্য এমনভাবে কাজ করো যেন তুমি চিরকাল বাঁচবে, আর আখেরাতের জন্য এমনভাবে কাজ করো যেন তুমি আগামীকালই মারা যাবে।”
ইসলামের ‘ফিতরাত’ থেকে শুরু করে বৌদ্ধধর্মের ‘কার্মা’ পর্যন্ত—পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি ধর্ম ও দর্শন একবাক্যে স্বীকার করে যে, ‘দান’ বা ‘বদান্যতা’ হলো এই পৃথিবীর এক অলিখিত নিয়ম।
হতাশা শয়তানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। আর মুমিন যখন হতাশ হয়, তখনই সে শয়তানের সহজ শিকারে পরিণত হয়। সেই বিষণ্ণতাকে কাটিয়ে ওঠার পথ হলো জিকির।
খুশু কেবল নামাজের কোনো অঙ্গভঙ্গি নয়, বরং এটি হৃদয়ের এক বিশেষ অবস্থা—যা আল্লাহর ভয়ে বিনয়াবনত হওয়া এবং তাঁর মহানুভবতার সামনে নিজেকে সঁপে দেওয়ার নাম।