স্বৈরশাসনের দোষ সংবিধানের নয়, অপব্যবহারকারীদের: শাহদীন মালিক
সংবিধানবিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেছেন, ১৫ বছরের স্বৈরশাসন, জবাবদিহিহীনতা বা স্বেচ্ছাচারিতা—এটা সংবিধানের দোষ নয়। সংবিধানকে যারা বারবার অপব্যবহার করেছে, তাদের দোষ।’
সংবিধানবিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেছেন, ১৫ বছরের স্বৈরশাসন, জবাবদিহিহীনতা বা স্বেচ্ছাচারিতা—এটা সংবিধানের দোষ নয়। সংবিধানকে যারা বারবার অপব্যবহার করেছে, তাদের দোষ।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় জাহেদ উর রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের আরব বসন্ত-পরবর্তী পরিস্থিতির তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।
নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পেরিয়েছে। রাষ্ট্রীয় কাঠামো, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের প্রভাব ও রেশ এখনো রয়ে গেছে। ফলে একটি নবনির্বাচিত সরকারকে বিচার করার জন্য ছয় মাস নিঃসন্দেহে কম সময়। এই বাস্তবতা মেনে নিয়েও বলা যায়, এই অল্প সময়ে প্রণীত বিভিন্ন আইন ও আইনের খসড়া পর্যালোচনা করলে সরকারের মূল অভিমুখ বা দৃষ্টিভঙ্গি বেশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আধিপত্যবাদী স্বৈরশাসনের ভিত নাড়িয়ে দেওয়া জুলাই অভ্যুত্থানে গণমানুষের প্রত্যাশা উদ্ভাসিত হয়েছিল গ্রাফিতিগুলোতে।
গণ-অভ্যুত্থান ও দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসানের পর একটি নির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট ঘিরে জনপ্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি এবং দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়।
পার্লামেন্ট বা সংসদ একেক দেশে একেকভাবে কাজ করে। কোথাও তা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, কোথাও স্বৈরশাসনকে টিকিয়ে রাখে।
গণ-অভ্যুত্থানের আগে দেশ এক দীর্ঘ স্বৈরশাসনের মধ্য দিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের দুর্নীতি ও দুঃশাসন সব মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাজপথ গণতন্ত্রের প্রধান অস্ত্র ছিল। কিন্তু গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজপথ নিয়মিত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্র হতে পারে না।