১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি ৬৩ বিশিষ্টজনের
জুলাই আদেশ অনুযায়ী ১৫ মার্চের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার কথা থাকলেও তা হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে ১৮০ দিনের মধ্যে পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছেন ৬৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি।
জুলাই আদেশ অনুযায়ী ১৫ মার্চের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার কথা থাকলেও তা হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে ১৮০ দিনের মধ্যে পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছেন ৬৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি।
জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে জাতীয় সংসদে বিতর্ক হয়েছে।
বিএনপির নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। শপথ না নেওয়ার মাধ্যমে জটিলতা তৈরি হলো।
বিএনপি সরকারকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার দাবি জানিয়েছে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য।
আমরা, সংবিধান সংস্কার কমিশনের দুই সদস্য শরীফ ভূঁইয়া ও ফিরোজ আহমেদ, দুটি বিষয়ে কমিশন বরাবর দুটো লিখিত মতামত দিয়েছিলাম। প্রথমটি দেওয়া হয়েছিল ২৩ নভেম্বর ২০২৪। এটি ছিল রাষ্ট্রপতির পদকে শক্তিশালী করা প্রসঙ্গে। অন্যটি দেওয়া হয়েছিল ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪। এটি সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ ও রাষ্ট্রধর্ম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। এই দুটি লিখিত মতামতে আমরা আমাদের যৌথ ভাবনা প্রকাশ করেছিলাম, যা কমিশনের বাকি সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের মতামত থেকে ভিন্ন ছিল।
সংবিধান শুধু ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণের নথি নয়; এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধ ও অঙ্গীকারকে বহন করে।
সংবিধান সংস্কারের আলোচনা শুরু হয়েছিল অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর একটি ছিল অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশন।
চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম সংবিধানের নামে সংস্কার ব্যাহত করলে ইতিহাস রাজনীতিবিদদের ক্ষমা করবে না বলে সতর্ক করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সংস্কারের সুযোগ নষ্ট করার নিন্দা করে তিনি বিএনপির দ্বিচারিতার কথা তুলে ধরেছেন। গণভোটের ফলাফল মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে আমরা এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির (পিআর) ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠন এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের অনুমোদন বা ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা সংস্কার কমিশনের এই প্রস্তাবেতে বিএনপি শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে।
সংবিধান সংশোধনে সরকারের প্রস্তাবিত বিশেষ কমিটিতে নাম দেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি জামায়াতে ইসলামী।