
ইউআইইউতে ‘ওয়াটার রাইটস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত
ইউআইইউতে ‘ওয়াটার রাইটস ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে এক সেমিনার গত শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) ইউআইইউ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়।

ইউআইইউতে ‘ওয়াটার রাইটস ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে এক সেমিনার গত শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) ইউআইইউ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়।

‘ঠা ঠা বরিন্দ’—রুক্ষ ও শুষ্ক বরেন্দ্র অঞ্চলের এই পরিচিতি সবচেয়ে বেশি মিলে যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার সঙ্গে।

হাওরের ডোবা থেকে জলভরা একটি কলসি কাঁখে আর হাতে আরেকটি জগ নিয়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে এভাবেই পানির কষ্টের কথা বলছিলেন রমিলা বেগম (৫১)।

বীরবালা ত্রিপুরা বলেন, প্রতিদিন তিন থেকে চারবার তাঁকে পানির জন্য যেতে হয়। পাহাড়ি পথ বেয়ে যাওয়া-আসা করতে করতে দিনের অনেকটা সময়ই চলে যায়।

বিলকিস জানান, কাপড় কাচা থেকে শুরু করে খাওয়ার পানির ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে প্রতিদিনই দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়। গরমের সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে।

গত শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা ১১টা। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের মিয়াজানপুর গ্রামের ফকিরবাড়ির একটি গভীর নলকূপ ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন গৃহবধূ।

শনিবার (১৪ মার্চ) ভোরের আলো ফুটতেই কলসি হাতে বাড়ি থেকে বের হন নয়ানী গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুয়ারা খাতুন। প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের এই পুকুরই তাঁর পরিবারের একমাত্র পানির উৎস।

ববিতা রানী জানান, বর্ষা মৌসুমে পানি যাওয়ার পথ না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে, বিশেষ করে মার্চ মাসের শেষ দিক থেকে পুকুরের পানিও থাকে না।

জরিনা জানান, প্রায় ২০ বছর আগে তাঁদের বাড়ির পাশে নলকূপ ছিল। পানির জন্য কোনো কষ্ট ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে এলাকার নলকূপগুলোতে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যায়।

রেণু বেগম জানান, টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিক। হাত–পায়ে ঘা হয়। তাই কাপড় কাচা ও গোসলের কাজে নদীর পানি ব্যবহার করেন তিনিসহ এলাকার অনেকেই।

‘ভোরবেলায় পানি একটু পাওয়া যায়। তা–ও বারবার চাপ দিয়ে এক বালতি তুলতে হয়। কোমরকানি লাগে, ব্যথা হয়।’

দেশে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) খাতে শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলের মধ্যে বরাদ্দ বৈষম্য কিছুটা কমলেও তা এখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়ে গেছে।