গুনাহ পুড়িয়ে ফেলার মাস রমজান
‘রমজান’ শব্দটির আভিধানিক অর্থই হচ্ছে উত্তাপ, তাপের উচ্চমাত্রা বা পুড়িয়ে দেওয়া। রমজানকে তাই বলা যায়, গুনাহগার বান্দাদের গুনাহগুলো পুড়িয়ে নিজেদের শুদ্ধ করার মাস।
‘রমজান’ শব্দটির আভিধানিক অর্থই হচ্ছে উত্তাপ, তাপের উচ্চমাত্রা বা পুড়িয়ে দেওয়া। রমজানকে তাই বলা যায়, গুনাহগার বান্দাদের গুনাহগুলো পুড়িয়ে নিজেদের শুদ্ধ করার মাস।
‘ইস্তিগফার’ মানে ক্ষমাপ্রার্থনা করা আর ‘তওবা’ অর্থ ফিরে আসা। ‘নাস’ মানে মানব। মানবমাত্রেই ভুল। ‘ইনসান’ মানেও মানব তথা মানুষ, যে কিনা ভুলে যায়।
মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া কোনো কথা, অন্যায় দৃষ্টি, কিংবা মনে মনে চর্চা করা সামান্য গিবত। মনে হয়, এসব তো কবিরা গুনাহ নয়, তাহলে ক্ষতি কী?
পাপ বান্দা ও তার প্রতিপালকের মধ্যকার সম্পর্ক দুর্বল করে আখেরাতের সফলতাকে বিপন্ন করে তোলে। তাই পাপের কারণগুলো জানা এবং সেগুলো থেকে বেঁচে থাকা অপরিহার্য।
মানুষের ভুলের পথ যতই দীর্ঘ হোক না কেন, তার জন্য ফিরে আসার দরজা সব সময় খোলা। আর সেই ফিরে আসার নামই তওবা।
গুনাহের পর অনেকেই ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ে, মনে করে তার জন্য আর ফিরে আসার সুযোগ নেই। অথচ আল্লাহর রহমত অসীম; তিনি সবসময় তওবার দরজা খোলা রাখেন।
রোজাদার ব্যক্তির কাজ হলো, কেবল বড় গুনাহ নয়, নিজেকে সব ধরনের গুনাহ থেকে দূরে রাখবেন। তাহলে তিনি আল্লাহর রহমত, করুণা ও ক্ষমা লাভ করবেন।
অনেকেই মনে করেন, মুত্তাকি মানেই এমন ব্যক্তি যার কখনো কোনো গুনাহ হয় না; অথচ কোরআনের শিক্ষা হলো, মুত্তাকি মানেই নিষ্পাপ মানুষ নয়।
‘সালাতুত তাসবিহ’ এক ফজিলতপূর্ণ নফল নামাজ যা গুনাহ ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির জন্য বিখ্যাত। বিভিন্ন হাদিসে এর গুণ বর্ণিত হয়েছে। জীবনে অন্তত একবার এই নামাজ আদায়ের নির্দেশ রয়েছে।
রমজান এলে অনেক গর্ভবতী বোনের মনে প্রশ্ন জাগে—আমি কি রোজা রাখতে পারব? না রাখলে কি গুনাহ হবে? আমার ইবাদত কি কমে যাবে?
যেসব নফল জামাতে পড়া যাবে, তাতে জামাতের সওয়াব পাওয়ার আশা করা যায়। যেসব নফল জামাতে বৈধ নয়, তাতে সওয়াবের পরিবর্তে গুনাহ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
হজের পর যদি একজন মানুষের অন্তরে তাকওয়া বৃদ্ধি পায়, ইবাদতে মনোযোগ বাড়ে, গুনাহের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হয় এবং মানবিকতা বিকশিত হয়—তবেই তার হজ সফল।