‘বিচরণশীল পশু–পাখি তোমাদের মতোই একেকটি জাতি’
যখন মানুষ জানতে পারে যে এই তুচ্ছ প্রাণিটিরও তার মতো একটি নির্দিষ্ট সামাজিক বা প্রজাতিগত পরিচয় আছে, তখন তাদের প্রতি হৃদয়ে সহমর্মিতা জাগ্রত হয়।
যখন মানুষ জানতে পারে যে এই তুচ্ছ প্রাণিটিরও তার মতো একটি নির্দিষ্ট সামাজিক বা প্রজাতিগত পরিচয় আছে, তখন তাদের প্রতি হৃদয়ে সহমর্মিতা জাগ্রত হয়।
পৃথিবীতে মানুষের আগমনই ঘটে সফলতার সন্ধানে। কোরআনের দৃষ্টিতে এই সফলতা কেবল বৈষয়িক প্রাপ্তি নয়, বরং এটি একটি সুসংহত ও দ্বিমুখী প্রক্রিয়া।
পৃথিবীর সব সম্পর্কের মধ্যে সবচেয়ে পবিত্র হলো সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের ভালোবাসা। আল্লাহর ইবাদতের পরেই বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সদাচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইহকাল ও পরকালে চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করতে হলে মানুষকে অবশ্যই আদর্শ গুণাবলি অর্জন করতে হবে। কোরআনে ইমানদারদের এমন কিছু গুণের আলোচনা করা হয়েছে।
যেখানে ধর্মীয় জ্ঞানের অভাব, সেখানে অজ্ঞতা, কুসংস্কার এবং নানা ভ্রষ্টতা বাসা বাঁধে। ফলে মানুষ ইহকাল ও পরকাল—উভয় জগৎই চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কোরআনের কারুনের কাহিনী থেকে শিক্ষা নিয়ে আদর্শবাদী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ ফিতনা এবং পতন রোধের উপায় তুলে ধরা হয়েছে। কারুনের অহংকার, সম্পদের মোহ এবং দলের বিভাজনের ঘটনা বিস্তারিত বর্ণিত। ফেরাউন, হামান ও কারুনের চক্রের প্রতীকী অর্থও আলোচনা করা হয়েছে।
নবী ইউনুসের কথা ভাবুন। গভীর সমুদ্রের অন্ধকার, রাতের অন্ধকার, মাছের পেটে দমবন্ধ অবস্থা, তিন স্তরের ঘুটঘুটে অন্ধকার। এখান থেকে বের হওয়া মানবীয় দৃষ্টিতে অসম্ভব।
আল্লাহর অসংখ্য নামের মধ্যে কোন নামে তাঁকে ডাকবেন, কোন নামের তাৎপর্যই–বা কী। মনের ভেতরে অনেক কথা জমে আছে—বলতে চান,
আল্লাহ নুহ (আ.)-কে প্রেরণ করে এক আল্লাহর ইবাদতের দাওয়াত দেন; কিন্তু সম্প্রদায় তা প্রত্যাখ্যান করে মূর্তিপূজা ও কুসংস্কারে আঁকড়ে থাকায় অবশেষে মহাপ্লাবনের মাধ্যমে তাদের পরিণতি ঘটে।
পবিত্র কোরআনে ‘আখসারিনা আমালা’ বা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আমলকারীদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে। সারাজীবনের খাটুনি শেষ বিচারে পণ্ড যায় যদি ইখলাস ও সুন্নাহ না থাকে। ইমাম আল-মাওয়ার্দি ও তাবারির ব্যাখ্যায় এদের পাঁচটি গোষ্ঠী উল্লেখ করেছেন।
কোরআনের এই ব্যাকরণিক যোগসূত্র প্রমাণ করে যে, সুরা ফিলের ঘটনা না ঘটলে সুরা কোরাইশের ‘নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সুবিধা’ (ই–ইলাফ)-র কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তিই থাকে না।
মানুষ শুধু তথ্য গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ করে না; বরং তথ্যের অর্থ, মূল্য, দায় এবং পরিণতি সম্পর্কেও বিচার করতে সক্ষম। তার ভেতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিহিত।