খেমার রুজের ক্ষত মুছে সম্প্রীতির ইফতার
এ–বছর কম্বোডিয়া সরকার ‘কম্বোডিয়া রমজান বাজার'-কে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরেছে। মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার মতো এখানেও এখন বিশাল ইফতার বাজার বসে।
এ–বছর কম্বোডিয়া সরকার ‘কম্বোডিয়া রমজান বাজার'-কে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরেছে। মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার মতো এখানেও এখন বিশাল ইফতার বাজার বসে।
যেখানে বছরের বেশিরভাগ সময় সূর্য লুকোচুরি খেলে এবং তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নিচে থাকে, সেখানে রমজান পালন করা যেন এক রোমাঞ্চকর আধ্যাত্মিক যুদ্ধ।
ইথিওপিয়ার রমজান কেবল মুসলিমদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। রাজধানী আদ্দিস আবাবায় দেখা যায় যেখানে খ্রিষ্টান প্রতিবেশীরা তাদের মুসলিম সহকর্মীদের জন্য ইফতারের খাবার তৈরি করে আনছেন।
নীল নদ আর পিরামিডের দেশ মিসর। মিসরিদের কাছে রমজান মানে ‘ফানুস’, ‘মাদফা’ (ইফতারের কামান) আর পাড়া-পড়শির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া এক দীর্ঘ দস্তরখানের গল্প।
তাদের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস, পবিত্র রমজান মাসে মাথায় যে নতুন চুল গজাবে, তা সারা বছরের জন্য বিশেষ বরকত বা কল্যাণ বয়ে আনবে।
ইরানি সাহিত্যে রোজাকে তুলনা করা হয়েছে এমন এক প্রদীপের সঙ্গে, যা নফসের অন্ধকার দূর করে এবং এমন এক নদীর সঙ্গে, যা আত্মার সব কলুষতা ধুয়ে দেয়।
সৌদি আরবে ইফতার শুরু হয় সাদামাটাভাবে, যাকে স্থানীয়রা বলেন ‘ফকুক আল-রিক’ বা রোজা ভাঙার মুহূর্ত। এক গ্লাস পানি, মদিনার আজওয়া খেজুর আর এক কাপ ‘গাহওয়া’।
ভারতের কোনো কোনো অঞ্চলের প্রাচীন রীতি—লবণ দিয়ে ইফতার করা। তারা বিশ্বাস করেন, দীর্ঘ উপবাসের পর লবণ মুখে দিয়ে রোজা ভাঙা শরীরের জন্য উপকারী।
কামানের গোলা ছোঁড়ার পর যখন শহরের শত শত মসজিদের মিনারে সাদা বাতি জ্বলে ওঠে, তখন সারায়েভোকে মনে হয় পাহাড়ের কোলে জমানো একরাশ জোনাকি।
ইফতারে তারা পরিবারের সদস্য সংখ্যার চেয়ে অন্তত একটি প্লেট বেশি সাজিয়ে রাখে, যদি ইফতারের মুহূর্তে কোনো মুসাফির বা মেহমান দরজায় কড়া নাড়েন!
১৭৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের তিনটি প্রাচীন মাটির ফলক স্ক্রিপ্টকে বলা হয় বিশ্বের প্রথম রান্নার বই। সেই প্রাচীন ‘খুবজ আল-আরুক’ আজও ইরাকি ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ফিলিস্তিনের ইফতার টেবিলের মধ্যমণি হলো ‘মাকলুবা’। মাংস, ভাত আর ভাজা সবজি দিয়ে রান্না করা খাবারটি পরিবেশনের সময় পাত্রটি উল্টে দেওয়া হয়। ‘মাকলুবা’ মানে উল্টানো।