গ্যাসের অপেক্ষায় কেটে গেছে পুরো সকাল থেকে দুপুর
চট্টগ্রামে গ্যাসের চাপ কম থাকার সমস্যা নতুন নয়। তবে গত মঙ্গলবার মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
চট্টগ্রামে গ্যাসের চাপ কম থাকার সমস্যা নতুন নয়। তবে গত মঙ্গলবার মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় এলএনজি সরবরাহ কমেছে অর্ধেকের মতো। জ্বলছে না চুলা, গাড়ির লাইন দীর্ঘ। কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশে গ্যাস-সংকট তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং বিগত সরকারের ভুল নীতির কারণে জ্বালানি খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বুধবার (২২ জু
বঙ্গোপসাগরে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে ক্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দু্’তিনদিনের মধ্যে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়। বিস্তারিত আস
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ উভয়ই কমে গেছে।
হরমুজ প্রণালীতে চলমান অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর অচলাবস্থা সরাসরি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলছে। এর পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধ কৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন প্রযুক্তি এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্যের লড়াই। হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। ফলে এই সংকটের দ্রুত সমাধান এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর থাকায় হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম সীমিত রয়েছে। সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় তেল-গ্যাস ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে—বিশেষ করে এলএনজি ও অন্যান্য খাতে ভারসাম্য ফিরতে। বড় শক্তি এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সমন্বয় ছাড়া পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার বেড়েছে, ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেল প্রতি ৯৭ ডলারে পৌঁছেছে। গতকাল একদিনে অপরিশোধিত তেলের দাম ১৬% এবং এলএনজির দাম ১৮% কমলেও সরবরাহ বাড়ার আশা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে আটকে থাকা তেল-এলএনজি ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য আপাতত স্বস্তি এসেছে।
এসব জাহাজের মধ্যে চারটি এলএনজি, দুটি এলপিজি, বাকি চারটি ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পণ্য বহন করছে।
নতুন দুই কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সাশ্রয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে সমুদ্রপথের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হয়।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজিবাহী জাহাজ টার্মিনালে ভিড়তে না পারায় চট্টগ্রামে আবারও তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। বাসাবাড়ির পাশাপাশি সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে এবং চাহিদার প্রায় অর্ধেক গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।