
ট্যানারিশিল্পের ঘুরে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই
বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও কোরবানির পশুর চামড়ার দাম পড়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ চামড়া ফেলে দেওয়া, মাটিতে পুঁতে ফেলার যে চিত্র দেখা গেল, সেটা হতাশাজনক।

বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও কোরবানির পশুর চামড়ার দাম পড়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ চামড়া ফেলে দেওয়া, মাটিতে পুঁতে ফেলার যে চিত্র দেখা গেল, সেটা হতাশাজনক।

ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম যে হারে বেড়েছে, তার প্রভাবে এপ্রিল মাসে ফেডারেল রিজার্ভের পছন্দের মূল্যসূচক (পিসিই) বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

ঈদের দিন বিকেল পর্যন্ত সবকিছু ঠিকই ছিল। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গরুর চামড়া সংগ্রহ করছিলেন। কেউ ভ্যানে। কেউ পিকআপে। কারও সামনে শত শত চামড়া। সবারই আশা ছিল, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম উঠবে। কিন্তু সেই আশা শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায়।

ঈদের দুপুর। চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ানহাট মোড়ে তখন ছোট ছোট দলে বসে মাংস বিক্রি করছেন অনেকে। কারও সামনে পলিথিনে রাখা গরুর মাংস। কোথাও হাড়, চর্বি আর মাংস একসঙ্গে রাখা। কেউ দাম হাঁকছেন। কেউ দরাদরি করছেন। পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতেই মানুষ থেমে দেখছেন। কেউ আধা কেজি, কেউ দুই-তিন কেজি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

পশুর দাম, জাত, কিংবা ওজনের বড়াই করে ভিউ বা ‘লাইক-শেয়ার’ পাওয়ার এই মানসিকতা আমাদের নিয়তকে কতটুকু কলুষিত করছে, তা ভাবার সময় এসেছে।

মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সরকার বলেছে, আমাদের যা দাম আছে সে টাকা দিয়া দিবে, নইলে কুরবানীর জন্য গরু দিয়া দিবে।’

চট্টগ্রামের অনেক মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীর মুখে এবার একই ধরনের হতাশা। গত ঈদে মৌসুমি বিক্রেতারা প্রত্যাশিত দাম পাননি। কেউ গরুর চামড়া কেনা দামের অর্ধেকেরও কমে বিক্রি করতে বাধ্য হন। আবার কেউ শেষ পর্যন্ত কোনো ক্রেতাই পাননি।

প্রায় এক হাজার কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির ষাঁড়টি এবারও বিক্রি হয়নি। গত পবিত্র ঈদুল আজহার আগে লালমনিরহাটের বাইরে থেকে কয়েকটি জেলার পাইকারেরা ষাঁড়টির দাম বললেও এবার এখন পর্যন্ত কেউ আগ্রহ দেখাননি বলে জানিয়েছেন খামারমালিক।

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পাবনার বেড়া ও সাঁথিয়ার পশুর হাটে জমে উঠেছে বেচাকেনা। গোখাদ্যের খরচ বাড়লেও এবার গরুর চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় কয়েক বছর পর ভালো লাভ পেয়েছেন খামারিরা।

চেয়ারেই বসে হিসাব কষছিলেন আবদুল আজিজ। কথা বলতে বলতেই জানালেন, এবার গরুর দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। কারণও ব্যাখ্যা করলেন তিনি।

ঘন ঘন লোডশেডিং, ডিজেলসংকট, বৃষ্টিসহ নানা কারণে চলতি মৌসুমে কক্সবাজার জেলায় লবণ উৎপাদন কমেছে। একই সংকটের কারণে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। চাষিদের দাবি, খরচের বাড়লেও লবণের দাম সেভাবে বাড়েনি। ফলে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, আজ ডলারের গড় দাম ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।