
সীমান্তে এখন মানবিক বিপর্যয়ের দৃশ্য
বিশ্বের প্রায় সর্বত্র উগ্র জাতীয়তাবাদের কদর এখন। এই মতাদর্শের বড় এক উপাদান ‘অপর’কে অশান্তিতে রাখা। এটাই অনেক অঞ্চলে তার জনপ্রিয়তার জাদু।

বিশ্বের প্রায় সর্বত্র উগ্র জাতীয়তাবাদের কদর এখন। এই মতাদর্শের বড় এক উপাদান ‘অপর’কে অশান্তিতে রাখা। এটাই অনেক অঞ্চলে তার জনপ্রিয়তার জাদু।

সংগত কারণেই এবারের সম্মেলনে ‘অবৈধ পুশ ইন’ বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাশাপাশি এখন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও সীমান্তবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন।

পুশ ইন নিয়ে সীমান্তে উত্তেজনা চলার মধ্যে একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, বিজিবির হাতে ধরা পড়েছেন ভারতীয় এক গুপ্তচর। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, এই ভিডিও সীমান্তেরও নয়, এখনকারও নয়।

পুশ ইন চেষ্টার শিকার নারী, শিশুসহ ১০ জনকে ৬৯ ঘণ্টা পর শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশি সন্দেহে বহু মানুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর)।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তে বিএসএফের ‘পুশ ইন’ চেষ্টার শিকার নারী-শিশুসহ ১০ জন ৫৯ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। প্রচণ্ড রোদ আর ভ্যাপসা গরমের মধ্যে শূন্যরেখার ফসলি জমির সরু আইলে তাঁদের কেউ বসে আছেন, কেউ দাঁড়িয়ে।

দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্ত দিয়ে পাঁচজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবির বাধার মুখে তাঁরা প্রবেশ করতে পারেননি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ২৮ জন সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। বিএসএফ তাঁদের ফেরত নেয়নি।

পতাকা বৈঠকে বিএসএফ তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর বিষয়টি সমাধান করবে বলে বিজিবিকে জানিয়েছে।

ভারতে অবৈধভাবে থাকা বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে ঢাকার সহযোগিতা চাইছে নয়াদিল্লি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জাতীয়তা যাচাইয়ের ২৮৬০-এর বেশি মামলা বকেয়া থাকায় এই অনুরোধ জানান। ভারতের নীতি অবৈধ বিদেশিদের প্রত্যাবাসনের।

‘কাঁটাতারের এপাড়ওপাড়: বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সহিংসতা, পুশ-ইন ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা’ শীর্ষক একটি খসড়া গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।