এলিয়েন গরু
মকবুল সাহেব হতভম্ব হয়ে গরুর ব্যাপারীর দিকে তাকিয়ে রইলেন। লোকটা রসিকতা করছে বলে মনে হলো না। এবং আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, লোকটা তাঁর সামনেই তাঁর মতো গরু কিনতে আসা আরও দুজনকে ওই একই পরামর্শ দিল।
মকবুল সাহেব হতভম্ব হয়ে গরুর ব্যাপারীর দিকে তাকিয়ে রইলেন। লোকটা রসিকতা করছে বলে মনে হলো না। এবং আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, লোকটা তাঁর সামনেই তাঁর মতো গরু কিনতে আসা আরও দুজনকে ওই একই পরামর্শ দিল।
‘কী যে ভীতুর ডিম না তুমি! তোমাকে নিয়ে চলাফেরা করাই মুশকিল।’ অভিমানে বলতে ইচ্ছা করে, তাহলে না চললেই পারো। কিন্তু নিজেকে সামলে নিই, আমি তার সঙ্গ হারাতে চাই না।
সে অনেক অনেক দিন আগের কথা। বলেই তিনি সামনে বহমান পদ্মার বিস্তৃত জলরাশির দিকে তাকালেন, নদীর ওপারের কালোগ্রামের ভেতরে ঢুকে যেন তিনি ছোটবেলার আম কুড়োনোর দিনের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়লেন। বলে উঠলেন—তখন ছোট ছোট গ্রাম আর কিছুটা দূরে দূরে বিস্তীর্ণ জঙ্গল, সেই জঙ্গলে নানা কিসিমের পশুপাখির বাস ছিল।
এখনো স্পষ্ট মনে আছে সেদিন মঙ্গলবার ছিল। কেন আমি বাসায় ছিলাম না তা–ও মনে আছে। কী করে যেন ওইবার পহেলা বৈশাখ মঙ্গলবারেই পড়েছিল।
তার পাতানো বাবা তাকে বলতেন, দামে আটকে যাওয়ার সময় যে মেয়েটিকে একদিন তিনি দেখেছিলেন, সেই মেয়েটির মাথাভরা কালো চুল।
বল মাঠে গড়াবে রাত দশটায়। অথচ এশার আজানের পর থেকে আনোয়ার চেয়ারম্যানের বাড়ির উঠোনে মানুষ গিজগিজ করছে। এই গাঁয়ে সন্ধ্যার আগেই মানুষের নাকের ডাক শোনা যায়। অথচ আজ রীতিমতো চোখে পানি দিয়ে ছেলে–বুড়োরা ঘুম তাড়িয়েছে। উঠোনজুড়ে খড়ের বিছানায় ঝাঁকে ঝাঁকে মশার শুঁড়ে বিদ্ধ হতে হতেও মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মতো চেয়ে আছে ১৪ ইঞ্চি টেলিভিশন সেটের দিকে।
অপু কেন যেন ভ্যা–ভ্যা করে কাঁদতে লাগল, সুলতান তাকে চেপে ধরে রাখল, পুরোনো সমস্ত ভুলের মতন গাঢ় করে জড়িয়ে ধরে রাখল বন্ধুকে।
সূর্যের আলো পড়ায় সে পাতা কী সুন্দর ঝিকমিক করছে। আমার কানে ভেসে আসছে নীরাপুর রিনিঝিনি হাসির শব্দ। বুকের ভেতরে ঠিক কে ঢুকে যাচ্ছে, বুঝতে পারছি না—নীরাপু? না–কি ছাতিম ফুলের সুবাস?
সক্রেটিস চোখ তুলে আকাশের দিকে তাকালেন, যেন অদৃশ্য কোনো ভোরের আলো দেখতে পাচ্ছেন, ‘তোমরা ভয় পেয়ো না।
নমনীয় মিহি গলার আওয়াজ। দরজা খুলে দিলাম। হকচকিয়ে গেছি। বিস্ময়ে আমার ভেতর অবশ ভাব চলে এসেছে। হতভম্ব চোখে দেখলাম সামনে হিম দাঁড়িয়ে আছে।
সাবরিনা বুঝতে পারে না নাদিয়ার এমন ইমম্যাচিউর কথাবার্তার কারণটা কী। দিন দিন ওর বুদ্ধিশুদ্ধি কমছে নাকি?
ধাতব না হলেও শক্ত কিছু একটা মাটির গর্ভে সমাহিত ভেবে, অথবা তার মনে গুপ্তধন না হলেও দামি কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশা নিয়ে সে খনন অব্যাহত রাখে।