
দেয়ালের ওপাশে
গত ছয় মাসে সে কোনো বন্ধুকে রেস্তোরাঁয় নিয়ে খাওয়ায়নি। কাউকে সিগারেট গিফট করেনি। মদ খাওয়ায়নি কাউকে। তাই বন্ধুদের কাছেও বুঝি সে আর আগের মতো প্রিয় নেই।

গত ছয় মাসে সে কোনো বন্ধুকে রেস্তোরাঁয় নিয়ে খাওয়ায়নি। কাউকে সিগারেট গিফট করেনি। মদ খাওয়ায়নি কাউকে। তাই বন্ধুদের কাছেও বুঝি সে আর আগের মতো প্রিয় নেই।

কাইয়ুম তাকাল! আবু মুসার মুণ্ডু কি ছাদ থেকে ঝুলছে? আবু মুসা ডাকছিল ‘নানা’? বাতেন মামার মুণ্ডু ছাদ থেকে ঝুলছে। বাতেন মামা বললেন, ‘শুভ জন্মদিন।’

ভোলাও তাই আর কোনো উচ্চবাচ্য করেনি। নিজের স্মৃতি ফিরে পেলেও তা জানায়নি। তবে শারীরিকভাবে সুস্থ হওয়ার পর কুলিগিরি শুরু করেছিল। কাল্লু সর্দার তাকে বুঝিয়ে দিয়েছে কুলির কাজ।

জুনকো কিছুক্ষণ ভেবে দেখে। কিন্তু বুঝতে পারে না মিয়াকি কী বোঝাতে চেয়েছে। তারপর জুনকো বলে, ‘কখনোই ভাবিনি আমি কীভাবে মরব। তা নিয়ে ভাবতেই পারি না। শুধু তা-ই নয়, আমি কীভাবে বাঁচব, সেটাই তো জানি না।’

‘আমি ইছামতী কলেজ থেকে বলছি। আপনাকে আমাদের এখানে এক্সটার্নাল পরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আপনি কি আসবেন?’

সবাই অনায়াসে নিজের জন্মতারিখ, মাস, বছর বলে যায়। হালিমা গভীর বিস্ময়ে সবাইকে দেখে। ওদের প্রত্যেকের একটা জন্মদিন আছে। শুধু ও জানে না ওর জন্ম কবে হয়েছিল!

পানি ভাঙা, ব্যথা ওঠা—ইত্যকার নানা কথা শুনেছে পরি। পেটের ভেতর ছোট মানুষটা একটু নড়ে উঠলেই তাই সে বলত, আরেকটু অপেক্ষা করো। পানি ভাঙুক।

আশ্চর্যজনকভাবে সাদিয়া ও জামিলের ছেঁড়া ছেঁড়া সম্পর্কটা মিনির অদৃশ্য মায়ায় আটকে যায়। সংসারের এটা–সেটা আলাপের মাঝে প্রায়টুকু মিনির প্রসঙ্গ জুড়ে থাকে।

সূর্যের আলো পড়ায় সে পাতা কী সুন্দর ঝিকমিক করছে। আমার কানে ভেসে আসছে নীরাপুর রিনিঝিনি হাসির শব্দ। বুকের ভেতরে ঠিক কে ঢুকে যাচ্ছে, বুঝতে পারছি না—নীরাপু? না–কি ছাতিম ফুলের সুবাস?