যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বন্দ্বে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংকটে সৌদি আরব
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের মাঝে ড্রোন হামলা এবং তেল রপ্তানির পথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে সৌদি আরব।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের মাঝে ড্রোন হামলা এবং তেল রপ্তানির পথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে সৌদি আরব।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি সৌদি আরবের নিজস্ব যুদ্ধবিমানগুলো পূর্ব ইরাকে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।
ইরান যুদ্ধের মধ্যে লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের জ্বালানি পণ্য রপ্তানির জন্য মিসরের সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইন এত দিন নিরাপদ রুট হিসেবে ভরসা জুগিয়েছে।
গতকাল একটি ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার বন্ধ করে দিয়েছে।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গেও আলাপ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মাদারীপুরের প্রবাসীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। মিসাইল হামলা, কাজ বন্ধ ও অনিশ্চয়তায় পরিবারগুলো উদ্বিগ্ন।
৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহ; সৌদি আরবের দাম্মাম, কাতারের দোহা ও কুয়েতগামী ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
কয়েক বছর আগে অনেক আরব দেশ, বিশেষ করে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো হয়তো ইরানে হামলা চালিয়ে সেখানকার শাসন পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ইতিবাচকভাবে দেখত।
ইরানের অনুরোধে হুতিরা দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে লোহিত সাগর ও বাব আল–মানদেব প্রণালিতে মার্কিন রণতরির চলাচল ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বড় অভিযানকে মন্থর করাই তাদের লক্ষ্য। এছাড়া সৌদি পাইপলাইন নিয়ে নতুন সম্ভাবনাও উঠে এসেছে।
হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলায় সংঘাতের নতুন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবারের মধ্যে ইরানের প্রস্তাবের জবাব আশা করছে, যখন ইরান এখনো পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সৌদি ও কুয়েত যুক্তরাষ্ট্রের প্রজেক্ট ফ্রিডমে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে হুতিরা জড়িয়ে পড়ায় লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালি ঝুঁকিতে। এতে তেলের দাম, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও মূল্যস্ফীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর সৌদি তেল এই পথ দিয়ে পাঠাচ্ছে।