বিএনপির বড় বিজয় ও গণতান্ত্রিক পথচলার পরীক্ষা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্পষ্ট ও নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) আন্তরিক অভিনন্দন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্পষ্ট ও নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) আন্তরিক অভিনন্দন।
জাতীয় যুবনীতি ২০০৭ অনুসারে, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের ‘যুব’ হিসেবে গণ্য করা হয়। সে হিসেবে এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটারের ৪২ শতাংশের বেশি ছিল তরুণ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি।
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। যারা এর আগের কোনো জাতীয় নির্বাচনে ১৭টির বেশি আসন পায়নি, তারা এবার জোট বেঁধে ৭৭টি আসন দখল করেছে।
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট যে বড় সাফল্য দেখিয়েছে, তা অস্বীকার করা যায় না।
বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হলো। বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতা আর কয়েকটি দুঃখজনক মৃত্যুর ঘটনাকে বাদ দিলে সামগ্রিক চিত্র তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ।
বহুপ্রতীক্ষার ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হলো। স্বাধীনতার আগে এ অঞ্চলে পাঁচটি বড় নির্বাচন হয়। স্বাধীনতার পর হলো ১৩টি। এই ১৮টি নির্বাচনের মধ্যে সেরা ও কম বিতর্কিত ছিল ১৯৭০-এর নির্বাচন। সেটি ছিল নতুন সংবিধান প্রণয়নের নির্বাচন। এবারের নির্বাচনের শেষে যে সংসদ গঠিত হবে, তারও আরেক নাম সংবিধান সংস্কার পরিষদ। এই দুই নির্বাচনের মিলের দিক এটি। অন্য একটি মিলের দিক—উভয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণ পর্যন্ত রক্তাক্ত সহিংসতা বেশ কম। ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক অনিয়মের কোনো উপস্থিতি ছিল বলে দেখা যায়নি।
ভোট তাই আর কেবল রাজনৈতিক পরিভাষা নয়—এটি নাগরিক আত্মসম্মানের ভাষা। মানুষ এবার উপলব্ধি করেছে, ভোট দেওয়া মানে কেবল প্রতিনিধি নির্বাচন নয়; এটি নিজের অস্তিত্ব, মত ও ভবিষ্যতের ওপর নিজের স্বাক্ষর রাখা। এবারের নির্বাচন তাই মানুষকে শুধু ভোটার বানায়নি; তাদের আরও সচেতন, আত্মমর্যাদাবান ও সক্রিয় নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম জানান, এই ভাসান পানির আন্দোলনই তাঁকে শিখিয়েছে, লাঠির জোরে কিছুদিন অধিকার আদায় করা গেলেও স্থায়ী করতে গেলে আইন বদলাতে হয়।
নারীকে নানাভাবে আরও অধস্তনতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, সেখানে এমন একটি উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়নকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
এখন প্রশ্ন হলো, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ‘আইনের শাসন’ কি এই রাঘববোয়ালদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে? নাকি দল পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে লুটেরারাও ভোল পাল্টে নতুন সরকারের ‘আশ্রয়’ নেবে?
দৈনিক মুক্তকণ্ঠের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজার ১৫৪ জন পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে একটি নামমাত্র সংস্থাই ১০ হাজার পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছিল, যা পরে স্থগিত করা হয়। এ ঘটনা ব্যতিক্রম নয়, বরং পুরো নির্বাচন পর্যবেক্ষণব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে।