
জহির রায়হানের অগ্রন্থিত গল্প
হাতের চুড়িগুলো নিয়ে মৃদু নাড়াচাড়া করতে করতে নীলা বলল, ‘কোম্পানিতে আমরা যারা কাজ করি, তারা সবাই মিলে ইউনিয়ন করেছি কিনা। তার গঠনতন্ত্রটা ছাপাব।’

হাতের চুড়িগুলো নিয়ে মৃদু নাড়াচাড়া করতে করতে নীলা বলল, ‘কোম্পানিতে আমরা যারা কাজ করি, তারা সবাই মিলে ইউনিয়ন করেছি কিনা। তার গঠনতন্ত্রটা ছাপাব।’

সামনে যানজট যেন হামাগুড়ি দিয়ে এগোয়, লোকজন একে অপরকে গালাগালি করে আর গাড়ির হর্নের শব্দ আকাশ ফুঁড়ে এয়ার-রেইড সাইরেনের মতো বেজে ওঠে।

হাওরের দেশে ফরসা মানুষ বিরল। অবশ্য কালো কালো মানুষদের মধ্যে ভাগ্যবানরা অন্যের শ্রম চুরি করে অনেক বছরের তপস্যায় একটু-আধটু ফরসা হয়ে যাচ্ছে।

রনি হঠাৎ তেড়ে আসছে তোমাদের দিকে। রনি তোমাকে বলে, এক্ষুনি তোমার বন্ধু সুলেমানকে নিয়ে বের হয়ে যেতে।

আফজাল পশ্চিমে ঢলে পড়া সূর্যের প্রায় গ্রীষ্মের মতো উষ্ণ তেজ মাথা পেতে নিয়ে হুইলচেয়ার ঠেলে চলে যায় সরু প্রধান ফটকের কাছে।

আমি তখন এমন অবস্থায় ছিলাম যে ভাগ্য মেনে নেওয়া ছাড়া আর উপায় ছিল না। মাথা নিচু করলাম। তখনো বুঝতে পারিনি যে আমি এক ভয়ঙ্কর ফাঁদে পা দিয়েছি—

নিজেকে দেখে এত বড় ধাক্কা খেল খায়রুন, ঠিক আঠারো বছর আগের ধাক্কাটার মতো।

সে দেখতে পায় এই শাবককে ঘিরে তার অপার সম্ভাবনা, অজস্র ‘কনটেন্ট’। বেড়ালখানা তুলে নেয় দুই আঙুলের ডগা।

ইয়োশিয়া নিজেকে প্রশ্ন করে। আমি কি এমন কোনো বন্ধন নিশ্চিত করতে চাইছি, যা আমাকে এখন এখানে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে?

গোত্রপ্রধানের হুমকি ও পৈশাচিক হাসি তাদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ ও আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিল।

মনে পড়ছে দাঁড়াশ সাপের যুদ্ধনাচের দৃশ্য। মিয়াবাড়ির উঠানে বেদেরা দেখিয়েছিল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সাপের লড়াই।

তাওফিক ওই গ্রামে কত দিন ছিলেন তা মনে নেই। আর ওই ঘটনা কততম দিনে ঘটেছিল, তা–ও ঠিক বলতে পারবেন না। তবে বাঁশহাটিয়া অবস্থানের চতুর্থ বা পঞ্চম দিন হতে পারে।