অনুসন্ধান ইঞ্জিন

সংবাদ অনুসন্ধান করুন

94 টি ফলাফল পাওয়া গেছে: "গল্প-অন্য আলো"

অতল

অতল

শ্যামল দাবি করে, মাঝে মাঝে কুয়ার ভেতর থেকে অস্পষ্ট কিছু আওয়াজ উঠে আসে। কোনো কোনো ঝিম-ধরানো দুপুরবেলা হয়তো সে বাড়ির ভেতরের দিকের বারান্দায় মাদুর পেতে শুয়েছে। তার ঘুম ভেঙেছে অচেনা কিছু শব্দ। অনুসন্ধান করে সে দেখেছে কুয়াতলা থেকে আসছে সেসব শব্দ। কিসের শব্দ? দুটো মানুষ যেন তর্ক করছে, বা কেউ কাউকে ডাকছে। অচেনা ভাষা। মাঝে মাঝে যান্ত্রিক শব্দও ভেসে আসে। যেন একটা ট্রেন যাচ্ছে কোথাও। কোনো কোনো অমাবস্যার রাতেও কুয়ার অতল থেকে শব্দ আসে। খুব মিহি। প্রায় শোনাই যায় না।

১০ জুলাই, ২০২৬ এ ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
নীল স্যুটকেস

নীল স্যুটকেস

হেনরি স্যুটকেসটার সঙ্গে মাথা ঘষছে। সিনথিয়া ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। দৃশ্যটা কোনো কারণে আমার খুব ভালো লাগছে। স্যুটকেসটা একটু ঘুরে গেছে। এখন ওর আধখোলা চেইন দেখা যাচ্ছে। ওখান থেকে লাল-সবুজ চেকের একটা কাপড় উঁকি দিচ্ছে । আর পাশে সাদা পশমি কিছু। অনেকটা শীতের রাতে ঘুমানোর আগে পরার মোজার মতো। হঠাৎ করেই আমার মনে হলো, স্যুটকেসটা বাড়ি ফেরার জন্য গোছানো হয়নি। বাইরে আবার তুষার নামতে শুরু করেছে। ধীরে। একেবারে শব্দহীন।

৯ জুলাই, ২০২৬ এ ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ
একটা পা পেলের আরেকটা ম্যারাডোনার

একটা পা পেলের আরেকটা ম্যারাডোনার

২৫ মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে উড়ে আসা একটি বলে ব্যাকভলি করল শৌনক। ও শটটা নিয়েই পড়ে গিয়েছিল। সারা মাঠে যেন বোমা ফাটল। গো-ল! এর ঠিক ১০ মিনিট পর নিজেদের হাফ থেকে একটা বল পেল শৌনক। সেই বল নিয়ে আচমকা দিল দৌড়। কেউ বুঝতেই পারেনি, এত দূর থেকে কাউকে পাস না দিয়ে ও চলে যাবে প্রতিপক্ষ দলের গোলপোস্টের কাছে। কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার! দেখা গেল কিছুক্ষণের মধ্যেই বিপক্ষ দলের পাঁচজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোলকিপারের কাছে এসে হাজির হয়েছে শৌনক। গোলকিপার বেরিয়ে এসেছিল পোস্ট থেকে। শৌনক আলতো করে বলটি ওর মাথার ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দিল জালে।

৮ জুলাই, ২০২৬ এ ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ
পানির অপর নাম জীবন

পানির অপর নাম জীবন

পুলিশের ব্যারিকেডের এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আশরাফুলের আঙুলগুলো কাঁপছে। তার ইউনিফর্মটা আজ বড়ো বেশি ভারী মনে হচ্ছে। লোহার খাঁচার ওই পাশে যারা আছে, তাদের মুখগুলো খুব চেনা মনে হচ্ছে, ওই মানুষের মধ্যে নিশ্চয় তূর্য মিশে গেছে, সকালে খুব তর্ক করেছে ছেলেটা, ওর সব বন্ধুরা মিছিলে চলে গেছে, সে-ই নাকি ঘরে বন্দী; আসলে ছেলেটা হয়েছে একদম ওর দাদার মতো, আশরাফুলের ঠিক উল্টো, সে তো ঠান্ডা মেজাজের ও শান্ত স্বভাবের লোক, এ জন্য তাকে হাফলেডিস বলে কেউ কেউ, সে অনেকবার শুনেছে, কিন্তু চামড়ার মুখ দিয়ে একটা কথা বেরিয়ে গেলে সে আর কী করতে পারে।

৭ জুলাই, ২০২৬ এ ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
সত্যযুগ

সত্যযুগ

‘রাখেন আপনার আনাজপাতি। আপনার বন্ধুর সাথে কথা বলেন।’ বে ফোন নিয়ে বলল, ‘হারামজাদা!’ পপাই দ্য সেইলরের মতো হাসলাম। আর কী করব? আমি অধিকাংশ সময় মিথ্যা কথা বলি। মোবাইল ফোনে নাইনটি নাইন পার্সেন্ট বলি। মোবাইল ফোন অফ করে দিলাম। এখন আমি আর অতনু কথা বলব। সারা রাত কথা বলব। দশ বছর আগে মরে গেছে অতনু, তার সঙ্গে মিথ্যা কথা বলা যায় না।

৪ জুলাই, ২০২৬ এ ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
ব্রাজিলের জার্সি

ব্রাজিলের জার্সি

পরদিন তিনি ওয়াহিদুল গনিকে সঙ্গে করে নড়াইল গেলেন। অনেক খুঁজে পেতে জাহান ভূ-চিত্রাবলী আর কত দেশ, কত দিগন্ত কিনলেন। ওয়াহিদুল গনি অকৃতদার, তদুপরি বিশ্বপর্যটক। শীতের মৌসুমে সাইকেল নিয়ে নড়াইল নয়তো দৌলতপুর চলে যান। যখন ফিরে আসেন, বাবলুর জন্য কত কী যে নিয়ে আসেন—পেন্সিল শার্পনার, স্ট্যাপলার, কলম। ছেলেটির আবার এসব জিনিসে দারুণ শখ। বাবলু—আবুল কালামের ছেলে—বাবাকে বলে, বাবা, তুমি যখন নড়াইল-টড়াইল যাও, গনি চাচার সঙ্গে যাবে, আর কারও সঙ্গে না। ব্যস। বুঝেছো?

৩ জুলাই, ২০২৬ এ ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ
সৈনিকের স্বপ্ন

সৈনিকের স্বপ্ন

কিন্তু একদিন, ঠিক দুপুর বারোটা তেইশ মিনিটে এক আশ্চর্য কাণ্ড ঘটল। আকাশটা হঠাৎ একদম নীল হয়ে গেল। কোনো মেঘ নেই, কোনো পাখির ডাক নেই। এক গভীর নিস্তব্ধতা। অয়নের মনে হলো, তার কানের ভেতর কেউ যেন খুব জোরে একটা ঘণ্টা বাজিয়ে দিল। ঠিক সেই মুহূর্তে সে ওপাশের দাউদের চোখের দিকে তাকাল। একটা প্রশ্ন তার মাথার ভেতরে পোকার মতো কামড়াতে শুরু করল—‘আমি কেন এখানে? ও কেন ওখানে? আমাদের মাঝখানে এই লোহার কাঁটাতার কেন? কাঁটাতারের ওপারের মানুষটি সত্যিই কি আমার শত্রু?’

১ জুলাই, ২০২৬ এ ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ
মাটন চপের ইতিহাস

মাটন চপের ইতিহাস

আমরা ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। ওকে চিনতে পারি না। কী করব বুঝতে পারি না। রাগে সে কাঁপছে। বুঝতে পারি, শুধু পোশাক-আশাকেই ওর পরিবর্তন হয়নি, মানুষটাই পাল্টে গেছে। নিজেকে এই সমাজের হাজার বছরের রীতি থেকে আলাদা করে ফেলেছে। বিপ্লব সাহস করে বলল, ‘ঠিক আছে, দোস্ত, তুমি তোমার মতো থাকো।’ শফিক বলল, ‘অবশ্যই।’ বলেই সে হাঁটা শুরু করল।

২৭ জুন, ২০২৬ এ ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
করবীর একদিন

করবীর একদিন

নিকষ কালো মেঘে ঢাকা আকাশ, সঙ্গে দুদ্দাড় বৃষ্টি। কার্নিশে চুপচুপে ভেজা বাদামি রঙের একটা চড়ুই ডানা ঝাপ্টাচ্ছে। শোভনের সঙ্গে প্রথম যেদিন আমার কথা হয়, কিছুটা সখ্য গড়ে ওঠে, সেদিনও ছিল আজকের মতো অবিশ্রান্ত বৃষ্টির দিন।

২৪ জুন, ২০২৬ এ ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
আমাদের লত্তাইজু

আমাদের লত্তাইজু

তো লত্তাইজু নামটা কিন্তু আমাদের গ্রাম কি আরও পাঁচ গ্রামে পাগলের সর্বনাম। সত্যি বলছি। একটা উদাহরণ দিই: চৈত্রে কি ভাদ্রে গরমের ঠেলায় কেউ অসময়ে পানিতে নেমে বসে থাকলে বলা হয় সে লত্তাইজু। অকারণে কেউ গাছে উঠে পা ঝুলিয়ে বসে থাকলে সে–ও লত্তাইজু। হাম হাম করে এক গামলা ভাত সাবাড় করছে কেউ, সে–ও লত্তাইজু।

১৯ জুন, ২০২৬ এ ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ