ইরানে আবারও মার্কিন হামলা, বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণ
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। ইরানের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের পূর্বাঞ্চলে তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। ইরানের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের পূর্বাঞ্চলে তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরানে যা হাতছাড়া হয়েছিল, এখন তা কিউবায় খুঁজছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান অনেকটাই কাছাকাছি এসেছে। তবে এর অর্থ এ নয় যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সমঝোতা হয়ে গেছে।
ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি সীমিত, মিত্রও কম। কিন্তু তাদের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে তারা অন্যদের ওপর খরচের বোঝা চাপিয়ে নিজে লাভ করতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ ইরানে সমন্বিত হামলা চালানোর জন্য উপসাগরীয় নেতাদের রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন, তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সৌদি আরব ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য আগ্রাসনবিরোধী চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে, যা ১৯৭৫-এর হেলসিংকি অ্যাকর্ডসের আদলে তৈরি। ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থন পেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান অস্পষ্ট। উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভক্ততা ও স্থবির শান্তি আলোচনার মধ্যে এই উদ্যোগ এসেছে।
সৌদি আরব ইরানের পাল্টা হামলার জবাবে গোপনে একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। পশ্চিমা ও ইরানি কর্মকর্তারা রয়টার্সকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে রয়টার্সের বিশেষ প্রতিবেদন বের হয়েছে।
ইরানে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি লাগামহীন হয়েছে, খাদ্যপণ্যের দাম তিন গুণের বেশি বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জনগণের ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। ইন্টারনেট বিধিনিষেধ ও মুদ্রা দরপতন সংকটকে আরও গভীর করছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড ইরানি ট্যাঙ্কারে হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণের হুমকি দিয়েছে। ট্রাম্প ওয়াশিংটনের শান্তি প্রস্তাবে ইরানের দ্রুত জবাব আশা করছেন। লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা চলছে, খারগ দ্বীপে তেল ছড়িয়ে পড়েছে।
চীন ইরানি তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। এটি কেবল প্রতিবাদ নয়, বরং সরাসরি আইন করে আমেরিকার চাপ ভাঙার প্রয়াস। এতে দুই মহাশক্তির লড়াই নতুন মাত্রা লাভ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অস্ত্র তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে চীন, হংকংসহ ১০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অবৈধ ইরানি বাণিজ্যে সাহায্যকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতা ও হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রেক্ষাপটও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের পাল্টা হামলার মুখে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েক দেশের ঘাঁটি থেকে সেনাদের সরিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।