পাহাড়ে বন্য হাতির পাল, আতঙ্কে আগাম ধান কাটছেন শেরপুর সীমান্তের কৃষক
শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় কয়েক শ কৃষক হাতির ফসল নষ্ট করার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় কয়েক শ কৃষক হাতির ফসল নষ্ট করার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
সুনামগঞ্জের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ব্যাপক বৃষ্টি হওয়ায় বাড়ছে নদ-নদীর পানি। এ পরিস্থিতিতে ২৬ এপ্রিল থেকে সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস।
সরকারি হিসাবে হাওরে ৬২ শতাংশ খেতের ধান কাটা হয়েছে। আর অতিবৃষ্টিতে নিমজ্জিত হয়েছে ১৩ হাজার ৪৬৬ হেক্টর জমির ধান।
এবার বৈশাখ শুরুর এক সপ্তাহ আগ থেকে ভৈরব মোকামে ধান আসা শুরু হয়। এখনো কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা ইটনা, অষ্টগ্রাম ও মিঠামইন থেকে ধান আসা শুরু হয়নি।
হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায় এবারের অতিবৃষ্টিতে হাজার হাজার কৃষকের বোরো ধান হাওরের পানিতে তলিয়ে গেছে, যা কোরবানির ঈদ উদ্যাপন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
ধানকাটা মৌসুমে সাঁথিয়া ও বেড়ার বিভিন্ন গ্রাম থেকে দল বেঁধে বিভিন্ন জেলায় যান ‘দাওয়াইল্যারা’। যারা কৃষিশ্রমিকের কাজ করে মজুরি হিসেবে পাওয়া ধান নিয়ে বাড়ি ফেরেন।
সুনামগঞ্জের হাওরে পানির তলায় আধপচা ধান কাটতে কৃষকদের প্রচণ্ড কষ্ট। টানা রোদে ধানপচা গন্ধ কমলেও দুঃখ রয়ে গেছে। আগামী সপ্তাহে ভারী বৃষ্টির আভাস, কলেজছাত্র জুনায়েদ আহমদ বলেন, ‘এই ধানই ত আমার সব। ঘরের খরচ, আমার লেখাপড়া—সবই ধান থাকি আয়। এর লাগি আমিও বাবার লগে হাওরে আছি।’
নেত্রকোনার হাওরে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা বোরো ধান। শ্রমিকসংকট ও অনিশ্চয়তায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল হারিয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বর্গা চাষিরা। তাঁরা জমির ধান গোলায়ও তুলতে পারেননি, আবার ধারদেনা শোধ করারও এখন আর কোনো উপায় নেই।
মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরপারে এখন সকাল থেকে সন্ধ্যারাত পর্যন্ত বোরো ধান গোলায় তুলতে ব্যস্ত সময় চলছে।
সরকারি হিসাবে অতিবৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে জুড়ী উপজেলার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ধান পানির নিচে চলে গেছে।
অতিবৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে কৃষকদের বিপুল ফসলহানি হয়েছে। ঋণের চাপে অনেকে খেত-বাড়ি বিক্রি করে দেনে ভাবছেন। জেলায় ১৩ হাজার ৪৭৯ হেক্টর ধান তলিয়ে গেছে, ক্ষতি ৩০০ কোটি টাকার।